প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতা ও ক্ষমতায়ন

জুলফিয়া ইসলাম : নিজের জীবন নিজে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে সেটা ব্যক্তির নিজের আয়ত্তে থাকাকে ক্ষমতায়ন বলে। ব্যক্তির ক্ষমতায়ন সমাজে মানবতার উন্নয়ন ঘটায়। এজন্য প্রথমে প্রয়োজন পেশাগত জীবনের দক্ষতা অর্জনে নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলা। একজন ব্যক্তির আত্মবিশ্বাস দৃঢ় করার জন্য যা প্রয়োজন তা হচ্ছে পেশাগত যোগ্যতা। পেশার দক্ষতা সমস্যার সমাধান করতে সহজ করে দেয়। ক্ষমতায়ন আর ক্ষমতা এক অর্থ বহন করে না। ক্ষমতা না থাকলে ক্ষমতায়ন কখনো গড়ে ওঠে না। একজন নারী বা পুরুষ উভয় ক্ষেত্রে ক্ষমতার অধিকারী তখনই হতে পারে যখন তার ক্ষমতায়ন হয়ে থাকে। এ সঙ্গে বেঁচে থাকার অন্যান্য ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে চলে আসে। এ পর্যায়ে প্রথমে আমরা যা বিবেচনা করি তা হলো সামর্থ্য ও আত্মবিশ্বাস। দ্বিতীয় পর্যায়ে আসে সম্পর্ক। সু-সম্পর্ক গড়ার সামর্থ্য তার আছে কি না, ব্যক্তিটি মধ্যস্থকারী কিংবা অন্যের উপর কতটুকু প্রভাব খাটাতে পারে। তৃতীয় ক্ষেত্রে যা ভাবা হয় সেটা হলো সামষ্ট্যিক। সামষ্ট্যিক বিষয়টা হলো কতটুকু দক্ষতা নিয়ে কাজ করতে পারে সে। সক্রিয় থাকার সামর্থ্য ও ফল লাভ করা। এসব বিষয় একজন পুরুষের থেকে নারীকে আরও বেশি মাত্রায় কষ্ট ভোগ করতে হয়। এসব ক্ষেত্রে প্রথমে যে বিষয়টি সামনে এসে দাঁড়ায় তা হলো নারীর আর্থিক সচ্ছলতা, এরপর আসে সম্পদ নিয়ন্ত্রণে নারীর নিজস্ব অধিকার।

এসবে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ওতপ্রোতভাবে জড়িত ক্ষমতায়নের তিনটি ভাগ রয়েছে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক। অর্থনৈতিক ক্ষমতা হলো সে সরাসরি কোনো অথনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত কি না। নারীর কোনো সামাজিক পরিচিতি আছে কি না। সমাজে নারীর ভূমিকা কতটুকু বা এরকম ভূমিকা পালনে সে কতটুকু গুরুত্ব রাখে। এরপর আসে রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন। অর্থাৎ নির্বাচনে অংশ নেয়া, ভোট দেয়া বা রাজনৈতিক অঙ্গনের পরিসরের পরিধি পরিমাপ কতটুকু।

এরকম তিনটি ক্ষেত্রে নারী বৈষম্যের শিকার হয় সাধারণত। পুরুষের ক্ষেত্রে এক নারীর ক্ষেত্রে ভিন্ন। নারীর প্রতি মানবিক দর্শন আর ক্ষমতায়ন দুটো পুরোই ভিন্ন। শুভ চেতনা যার ভেতরে নেই; সে নারী বা পুরুষই যেই হোন; তারা শুধু অশুভ চর্চাই করবেন। এটা নিশ্চিত করে বলা যেতে পারে।

শুভ বুদ্ধির উদয় হলেই একজন ব্যক্তি বুঝতে পারেন তিনি তার পূর্ণাঙ্গ জীবনমান কত উন্নত করছেন। তার অর্জিত যোগ্যতা ও দক্ষতা কতটুকু? তিনি অন্যের কাঁধে ভর না করে সক্ষম থাকছেন কি? কিংবা নিজ ব্যক্তি জীবন কী নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন? তার আত্মবিশ্বাস কতটুকু? তিনি নিজ সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম কি না? এভাবে নারী কিংবা পুরুষ যখন জীবন জিজ্ঞাসার সঠিক মতামত গ্রহণে ক্ষমতার অধিকারী হবেন তখন বুঝতে হবে যে, তার এখন ক্ষমতায়ন হয়েছে।

লেখক : কথাসাহিত্যিক