প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘পিরিতি কাঁঠালের আঠা লাগলে পরে ছাড়ে না!’

অসীম সাহা : ড. কামাল হোসেন এ বয়সেও প্রেমে পড়েছেন! সে-এমন প্রেম, যার আঠা লাগলে পরে কিছুতেই ছাড়ে না! কী এমন প্রেম, যার আঠা ড. কামাল হোসেনের মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানুষও ছাড়াতে পারছেন না? তিনি বয়সী সহযাত্রী প্রেমিক বদরুদ্দোজাকে ছেড়েছেন, সঙ্গ নিয়েছেন অপেক্ষাকৃত কমবয়সী প্রেমিকদের। বুড়ো বদরুদ্দোজ্জার চেয়ে খালেদা জিয়ার মাইক্রোফোন মির্জা ফখরুল, স্বাধীনতার পতাকা-উত্তোলনকারী রথের চাকা-ওল্টানো আ স ম আবদুর রব আর বহুরূপী মাহমুদুর রহমান মান্না বদরুদ্দোজার চেয়ে অনেক উপযোগী নয়? তাই কিছুদিন আগেই সংবাদ সম্মেলনে সকলে মিলে হাত উত্তোলিত করে যখন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে নামানোর প্রতিজ্ঞা সফল করে ফেলেছেন বলে মনে করছেন, ঠিক তখনই বিনামেঘে বজ্রপাতের মতো বদরুদ্দোজা চৌধুরীর তালাকনামা পৌঁছে গেলো কামাল হোসেনের কাছে!

মধুচন্দ্রিমা যাপন করার আগেই ঘরভাঙার আকস্মিকতায় কিছুটা হতবিহ্বল হলেও দমে যাবার পাত্র নন ড. কামাল। কিন্তু এখন বিএনপির নানা কিসিমের নেতা-পাতি নেতারা সমস্বরে কোলাহল করে বলছেন, বিকল্পধারার বদরুদ্দোজা না থাকাতে ভালোই হয়েছে। অন্যদিকে মহাসচিব বলছেন, “বদরুদ্দোজার জন্য ঐক্যফ্রন্টের দরজা খোলাই আছে।” লে হালুয়া! অভিমান করেছেন বলে দলের কেউ কেউ তাঁকে তালাক দিচ্ছেন; অন্যদিকে মির্জা ফখরুল ‘মোতা বিয়ে’ বা ‘হিল্লে বিয়ে’র কথা বলছেন। তা হলে কি মির্জা সাহেবও কামাল হোসেনের মতো পিরিতের আঠায় আটকে গেছেন?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদারীপুরের এক জনসভায় বলেছেন, “কামাল গং খুনি ও দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে ঐক্য করেছেন!” কথাটা কি একেবারে মিথ্যে? জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কৃপাধন্য ড. কামাল কী করে যারা শেখ হাসিনাকে ২১ বার হামলা চালিয়ে হত্যা করবার চেষ্টা করেছিলো এবং শেষবার ২১ আগস্ট গুলিস্তানে গ্রেনেড-হামলা করে মেরে ফেলতে চেয়েছিলো, যে দলের ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টার মাইন্ড বলে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আসামি, যাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা ১৫ আগস্ট হত্যাকান্ডের পরবর্তী সময়ে ক্ষমতা জবরদখলকারী স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান, সেই দলের সঙ্গে হাত তুলে ঐক্যের ঘোষণা দিয়ে প্রকৃতপক্ষে তিনি যে বঙ্গবন্ধুর শত্রুদের সঙ্গেই হাত মিলিয়েছেন, একথা কি বলার অপেক্ষা রাখে? দুঃখ হয়, ২ মার্চ ১৯৭১-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনকারীও তাদের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছেন।

তিনি পচেছিলেন আগেই। কিন্তু এই পচন যে তার মাথাতে গিয়েও জায়গা করে নিয়েছে, সেটা এবার আরো মোক্ষমরূপে প্রমাণিত হলো। আর ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন? গণতন্ত্রের ঘন প্রবক্তা, যিনি ‘গাছেরটা খেতে এবং তলারটাও কুড়োতে’ পছন্দ করেন, তিনিও হাসোজ্জ্বল মুখে হাতের চেয়েও লম্বা করে ঊর্ধ্বমুখে হাত তুলে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে একাত্ম হয়েছেন। কতোটা প্রেম থাকলে এমন করে হাত তোলা যায়, সেটা দেশের জনগণ ভালো করেই জানে। আর সুলতান মুহম্মদ মনসুর? যাকে শেখ হাসিনা রাস্তা থেকে তুলে এনে ডাকসুর সভাপতি বানিয়েছিলেন, তিনি এখন পায়ের নিচে মাটি না পেয়ে শূন্যের ওপর দিয়ে হাঁটছেন। কিন্তু আমি ভাবি, বিএনপির দেউলিয়াত্বের কথা। ব্যারিস্টার মওদুদের মতো মৌসুমী পাখিকে তাদের দলে ফিরিয়ে নিতে হলো কেন? বিএনপি চেয়ারপারসনের বিপদের সময় যাকে ফেলে তিনি স্বৈরাচারী এরশাদের পদতলে আজানুলম্বিত হয়ে ধূলি গ্রহণ করে পতনের আগে উপ-রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত হয়েছিলেন, তাকে ঘরে ফিরিয়ে নেয়ার সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের কথা কি দলের বড় বড় নেতা ভাবেননি? ভাবেননি খালেদা জিয়াও? মওদুদের সঙ্গে এতো পিরিত কেন? তবে কি একথাটাই সত্য ‘প্রেম জানে না রসিক কালাচান?’ ব্যারিস্টার মওদুদ।

যিনি বঙ্গবন্ধুর প্রেস সেক্রেটারি ছিলেন, পরে হালুয়া খেতে বিএনপিতে, সুযোগ বুঝে জাতীয় পার্টিতে, জাতীয় পার্টির পতন ঘটার পর ফের বিএনপিতে। তিনি হুমকি দিচ্ছেন শেখ হাসিনাকে? এরচেয়ে বড় কৌতুক আর কী হতে পারে? মওদুদ আরবি শব্দ। আমি তার অর্থ জানি না; কিন্তু আমি যদি শব্দটাকে বাংলা সন্ধিতে রূপান্তরিত করি, তা হলে এমন দাঁড়ায়, মও (মৌ)+দুদ (দুধ)=মধু ও দুধ। তা হলে তার সম্পর্কে যথাযথ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। তিনি সবসময় মধু ও দুধের পেছনে ছোটেন। এমন একজন ডিগবাজি নেতার কণ্ঠে যখন গণতন্ত্রের কথা শুনি, একজন চিহ্নিত পতিতার কণ্ঠে সতীত্বের কথা মনে পড়ে! তো, এই জগাখিচুড়ি মার্কা নেতাদের ঐক্যের অস্তাচলের সূর্য ড. কামাল হোসেনকে দেখে আমার বেশ কষ্টই হচ্ছে! পিরিতি যখন করলেনই, তখন বয়স থাকতে কেন নয়? অসময়ে কি আঠা ছাড়াতে পারবেন? আর বিএনপিকে নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট? যদি খালেদা জিয়া ছাড়া পান, তখন আপনার নেতৃত্ব কি বিএনপি মানবে? নাকি একটু ত্যাড়াব্যাঁকা হলে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর মতো আপনাকেও দৌড়-প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে বাধ্য করবে? ব্যাপারটা কি ভেবে দেখেছেন ড. কামাল? অতএব, যে আঠায় আপনি জড়িয়েছেন, সেই পিরিতির আঠা লাগলে পরেও ছাড়ে না জেনেও আপনি শুধু শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য এমন ঐক্যের ভাণ্ডারী সাজলেন? আপনি বলেছেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করে ছাড়বেনই। ভালো কথা।

কিন্তু কাদের নিয়ে করবেন? গণতন্ত্রহত্যাকারীদের নিয়ে, পরকীয়ায় মত্তদের নিয়ে? চেষ্টা করো দেখুন। আপনার সঙ্গে জনগণ আছে? বিএনপি এবং সঙ্গের সাথি জামায়াত ছাড়া ‘ভবনদী’ পার হওয়ার সাধ্য আপনার কখনো ছিলো না আছে? শেষ বয়সে শুধু ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার কারণে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার বাসনায় আপনার এই অধঃপতন ইতিহাসের পাতায় আপনাকে যে খলনায়ক হিসেবেই চিহ্নিত করে রাখবে, এব্যাপারে আপনি নিশ্চিত থাকুন। এরপরও যদি আপনার আঠা না ছোটে, সেটা আগামী নির্বাচনে আপনাকে এবং আপনার ঐক্যফ্রন্টকে জনগণ ভোটের মাধ্যমেই দেখিয়ে দেবে। তার জন্য আর কিছুদিন না হয় অপেক্ষাই করুন!

লেখক : কবি ও সংযুক্ত সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ