প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে আমলের প্রভাব

গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির : ‘তোমরা ভাল কাজের আদেশ কর, মন্দ কাজের নিষেধ কর’ এই হচ্ছে কোরআনে পাকের একটি সর্বজন পরিচিত আয়াতাংশ। এই আয়াতাংশের নিহিত দু’টি কথাই হলো সুখী সমাজ গঠনের মূল প্রাণশক্তি। উপরোক্ত আয়াতে কারিমায় দু’টি অংশ রয়েছে, ভাল কাজের আদেশ এবং মন্দ কাজের নিষেধ। কেউ যদি কাউকে ভাল কাজের আদেশ নয় অন্তত পরামর্শ দিতেও হয় তবে তাকে আগে ভাল কাজ করতে হয়। নচেৎ তার পরামর্শ কার্যকর বা ফলপ্রসূ হয় না। মানুষ তা গ্রহণ করতে আগ্রহী হয় না। কিন্তু যখন কেউ আরেক জনকে ভাল কাজের আদেশ করবে তখন সে নিখুঁতভাবে ভাল হতে হবে বা ভাল কাজ করতে হবে তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই। আর তার নিজের ভাল কাজের মধ্যে যদি সামান্যতম ঘাটতি থাকে তবে তার ভাল কাজের বুলি উপেক্ষিত হতে বাধ্য।

আর এদের সকলকেই বোধ হয় কোরআনে বলা, ‘তোমরা নিজেরা যা কর না তা অন্যদের করতে বল কেন? আয়াতাংশের দ্বিতীয়াংশ হলো ‘মন্দ কাজে নিষেধ’ করা, যেহেতু ব্যাপারটা নেতিবাচক তাই এটা প্রথমটার চাইতে অনেক কঠিন। কেননা, একজন লোককে ভাল কাজের আদেশ করা যত সহজ, মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা তত সহজ নয়। এটা করতে গেলে যত সব সমস্যা দেখা দেয়। তাই এই ক্ষেত্রে সার্বজনীন গ্রহণযোগ্য মাপকাঠিই এই সমস্যার সমাধান করতে পারে আর সেই চিরন্তন বা এবং সার্বজনীন মাপকাঠি পাওয়া যেতে পারে ধর্মীয় বিধি-বিধানে যা স্রষ্টার নিকট হতে প্রাপ্ত। এই ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ বলতে কেবল আল-কোরআনই ধর্তব্য। কেননা এটা প্রামাণ্যের মর্যাদায় সমাসীন। অন্যান্য যতসব গ্রন্থ রয়েছে তাতে রুপকথার নানা গল্প থাকলেও তা সন্দেহের উর্ধ্বে স্থান পায়নি শুধু তাই নয়, দিন দিন সন্দেহ বাড়তেই থাকছে। তাই প্রামাণ্য ঐশী গ্রন্থ হিসেবে ‘আল কোরআনই’ ভাল মন্দ নির্ণয়ের নিখুঁতের মাপকাঠি।

একজন মুমিনের ঈমানের পর অত্যাবশ্যক কর্মটি হলো নামাজ যা নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করব। হাদিস শরীফে বলা হয়েছে, মুমিন ও কাফির এর মধ্যকার পার্থক্য হচ্ছে নামাজ ছেড়ে দেওয়া। মানে নামাজ তরককারীর প্রতি রয়েছে কঠোর হুঁশিয়ারী যা অন্য কোন ব্যাপারে বলা হয়েছে কিনা সন্দেহ। নামাজ সংক্রান্ত ব্যাপারে এত বেশি কঠোরতা প্রদর্শন করার কারণ হলো যে, এটাই ঈমানের পরিচায়ক। কেননা কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আমি জ¦ীন এবং ইনসানকে কেবলই আমার এবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি আর এবাদতের সর্বোত্তম প্রকাশ হচ্ছে নামাজ।’

নামাজের নগদ ফলাফল নিয়েই বলি। নিশ্চয়ই নামাজ মানুষকে অশ্লীল ও খারাপ কর্ম হতে বিরত রাখে। এটাই হচ্ছে নামাজের ফল একজন মানুষ যখন নিয়মিত নামাজ আদায় করবে তখন তার পক্ষে সম্ভব নয় সুদ,ঘুষ খাওয়া ঠিক একই ভাবে দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া, তেমনি তার পক্ষে সম্ভব নয় কোন বেগানা নারীর প্রতি লোলুপ দৃষ্টি নিক্ষেপ করা। আর নারী ঘটিত যাবতীয় কেলেংকারীর মূলই হলো প্রাথমিক দৃষ্টি নিক্ষেপ। নামাজের কারণে যেহেতু প্রাথমিক দৃষ্টিই নিক্ষিপ্ত হতে পারলো না তাহলে কেলেংকারীর প্রশ্নই আসছে না। নারীঘটিত ব্যাপারটি যখন চুকে যাবে তখন সমস্যার অধের্কেই মিটে যাবে। আর বাকী অধের্কের ব্যাপারে আসুন জেনে নেই।

সুদ ঘুষ এক কথায় দুর্নীতি হচ্ছে বর্তমান সমাজের মূল সমস্যা আর এ সমস্যা যদি চুকে যায় তা হলে বাকী অর্ধেক সমস্যার ও সমাধান হয়ে যাবে, তখন সমাজ শান্তির আকরে পরিণত হওয়ার কথা। এবার আসুন মিথ্যা প্রসঙ্গে, যাবতীয় দুর্নীতির মূলেই হলো মিথ্যা বা (কূটকৌশল) যা একজন নামাজি করতে পারে না। কেননা একজন নামাজি ভালভাবে জানে যে ‘‘মিথ্যাই পাপের মূল’’। যতদিন পর্যন্ত মিথ্যা ছাড়া যাবে না ততদিন নামাজ ফলবাহী হবে না। একটা ক্ষুধার্ত নেকড়ে বাঘ একটা চালক বিহীন মেষ পালকের জন্য যতবেশী ক্ষতিকর নয় একজন মিথ্যাবাদী মানুষ একটা মনুষ্য সমাজের জন্য এর চেয়ে শত সহস্র গুণ বেশি ভয়ানক। কেননা মিথ্যাবাদীদের জন্য সবই সহজ ও সম্ভব।

ইসলামের সর্বশেষ স্তম্ভ হচ্ছে যাকাত। এটা এত গুরুত্বপূর্ণ যে, ইসলামের প্রথম খরিফা হজরত আবু বকর (রা:) ঘোষণা করেন, ‘খোদার কসম! যারা রাসুল (সা:) এর সময় যাকাত প্রদান করতো তারা যদি আজ উটের একটি রশি দিতে ও অস্বীকার করে তাহলে আমি তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করব। অথ্যৎ যাকাতের প্রতি যেন সামান্যতমও অবহেলা করা না হয়। যদি আমরা যথাযথ হিসেবে যাকাত প্রদান করতাম তাহলে দরিদ্রতা থাকত না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত