প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বর্ধিত মজুরির দায়িত্ব নিতে হবে ক্রেতাদেরও

সমকাল : বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাকের ধারাবাহিক দরপতন এবং দেশে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন মালিকপক্ষের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিজিএমইএ। বর্ধিত ব্যয় সমন্বয়ের জন্য ক্রেতাদেরও সমহারে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। দর বাড়াতে ক্রেতাদের প্রতি আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠনগুলোও আহ্বান জানিয়ে আসছে।

গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিজিএমইএ সভাপতি। পোশাক শিল্পের নূ্যনতম মজুরি ও বর্তমান পরিস্থিতি এবং মজুরি নিয়ে কয়েকটি শ্রমিক সংগঠনের অপপ্রচারে উদ্বেগ থেকে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে বিজিএমইএ কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান, সহ-সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবুসহ সংগঠনের ঊর্ধ্বতনরা উপস্থিত ছিলেন। বর্ধিত মজুরি ব্যয় সমন্বয়ে ক্রেতাদের দায়িত্ব প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি আরও বলেন, এবারের মজুরি বোর্ডের প্রথম সভার পরপরই ৩টি আন্তর্জাতিক শ্রম অধিকার সংস্থা ক্লিন ক্লথ ক্যাম্পেইন, ইন্টারন্যাশনাল লেবার রাইটস ফোরাম ও ম্যাকুইলা সলিডারিটি নেটওয়ার্ক যৌথভাবে বাংলাদেশের ২৫টি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে ন্যায্য হারে পোশাকের দরবৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে। গত ৩ এপ্রিল ওই আহ্বানের পর গত ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকান অ্যাপারেল অ্যান্ড ফুটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে পোশাক শিল্পের সংশ্নিষ্ট সব পক্ষের অংশগ্রহণে প্রতি বছর নিম্নতম মজুরি পর্যালোচনার অনুরোধ করেন। শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি হয়েছে, এখন ক্রেতারাও ন্যায্যমূল্যের বিষয়ে দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিশ্ববাজারে পোশাকের দর এবং উৎপাদন ব্যয়ের তথ্য দিয়ে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ২০১৪ পর থেকে পোশাকের চাহিদা ও দর কমে এসেছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ২০১৪ সালে বিশ্ববাজারে পোশাক রফতানির পরিমাণ ছিল ৪৮৩ বিলিয়ন ডলার, ২০১৭ সালে কমে দাঁড়ায় ৪৫৪ বিলিয়ন ডলার। চাহিদা কমে আসায় উৎপাদনকারী দেশের মধ্যে বাজার প্রতিযোগিতা আরও বেড়েছে। ২০১৪-২০১৮ সময়ে প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাকের দর কমেছে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ। এ সময় পোশাকের গড় উৎপাদন খরচ বেড়েছে ২৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ। রানা প্লাজা ধস-পরবর্তী সময়ে সংস্কার ব্যয় হয়েছে কারখানা প্রতি ৫ থেকে ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত। ব্যয়ের অন্য খাতের মধ্যে ২০১৩ সাল থেকে প্রতি বছর মজুরিতে ইনক্রিমেন্ট বাড়ছে ৫ শতাংশ হারে। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে কেন্দ্রীয় তহবিল কার্যকর করা হয়েছে। রফতানিতে শূন্য দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ হারে অর্থ কেটে রাখা হচ্ছে এ তহবিলের জন্য। এ রকম নানামুখী ব্যয়ের কারণে টিকতে না পেরে এক হাজার ২০০ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আগামীতে আরও অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে গভীর সমুদ্র বন্দর না থাকা, ক্রেতার হাতে পণ্য পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগা (লিড টাইম) ও শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা কম হওয়ার কারণে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে দেশ।

নতুন মজুরি কাঠামো সম্পর্কে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে নিম্নতম মজুরি আট হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনেক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নতুন মজুরি কাঠামো মেনে নিয়েছেন তারা। কিন্তু কিছু শ্রমিক নেতা ও এনজিও এ বিষয়ে অপপ্রচার ছড়িয়ে এবং নিরীহ শ্রমিকদের উস্কানি দিয়ে পোশাক খাতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। ‘জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন’ এর নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সংগঠনটি আংশিক সত্য, বিকৃত ও ভুল তথ্য সংবলিত একটি প্রচারপত্র বিলি করেছে। তারা বলছে, নতুন মজুরি কাঠামোতে মূল মজুরি নাকি বৃদ্ধি পায়নি। বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, শ্রমনিবিড় শিল্প খাতকে নিয়ে এমন কোনো উস্কানিমূলক তথ্য পরিবেশন ঠিক হবে না, যাতে শিল্প অশান্ত হয়, দেশে-বিদেশে ভুল বার্তা যায়। অপপ্রচারে কান না দিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সংস্কার অগ্রগতিতে ব্যর্থ কারখানার সেবা বন্ধ করে দিতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) চিঠি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, রাতারাতি কোনো কারখানার সেবা বন্ধ করবেন না তারা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত