প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইভিএম: ভারতে ২১ হাজার টাকা, বাংলাদেশে ২ লাখ ৩৪ হাজার

প্রিয়.কম : ভারতের নির্বাচন কমিশন নতুন মডেলের ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) দাম বাংলাদেশের নতুন কিনতে যাওয়া ইভিএমের তুলনায় ১১ গুণ কম। এর ফলে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন (ইসি) নতুন মডেলের ইভিএম নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠল।

১৫ অক্টোবর, ‍সোমবার প্রথম আলো এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভারতের নির্বাচন কমিশন ইভিএমের দাম নির্ধারণ করেছে ১৭ হাজার রুপি, বাংলাদেশি টাকায় যার দাম হয় ২১ হাজার ২৫০ টাকা। আর বাংলাদেশের নতুন মডেলের ইভিএমের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় দুই লাখ ৩৪ হাজার ৩৭৩ টাকা, যা ভারতের চেয়ে ১১ গুণ বেশি। আর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ইসির জন্য যে ইভিএম তৈরি করেছিল, তার প্রতিটির দাম পড়েছিল ২০-২২ হাজার টাকা।

১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ‘কোথাও নেই’ ইভিএমে বাড়তি ব্যয় ২৮২০ কোটি শীর্ষক এক প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের নতুন এই ইভিএম সম্পর্কে বলা হয়, কেবল দুটি নতুন ফিচার যোগ করা হয়েছে নতুন মডেলের ইভিএমে। আর এই দুটি ফিচার যোগ করেই প্রতিটি ইভিএমের দাম আগের ইভিএম ক্রয়-ব্যয়ের তুলনায় বাড়ছে পৌনে দুই লাখ টাকার বেশি। এ নিয়ে কমিশনের বৈঠকে আপত্তি করেছেন একজন নির্বাচন কমিশনার। বিশ্লেষকরা বলছেন, এত টাকা দিয়ে ইভিএম কেনার পেছনে অন্য লক্ষ্য রয়েছে। আর সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, নতুন এই ইভিএম অত্যাধুনিক, যা পৃথিবীর আর কোথাও নেই। এ কারণেই ব্যয় বেড়েছে। এতে যুক্ত হয়েছে নতুন দুটি ফিচার। ফলে নতুন মেশিন ভোটারকে চিহ্নিত করতে পারবে এবং নিজে থেকেই নির্দেশনা দেবে কী করতে হবে আর কী করতে হবে না।

২৯ সেপ্টেম্বর আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন হাজার ৮২৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকার ইভিএম কেনার প্রকল্প তড়িঘড়ি করে পাস হলেও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এর ব্যবহার হবে ‘খু-উ-ব অল্প’ পরিসরে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ইভিএম প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। যার প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮২৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, যার পুরোটাই সরকারি অর্থায়নে ব্যয় হবে।

এদিকে গত ৫ অক্টোবর সিলেটে আয়োজিত উন্নয়ন মেলায় নির্বাচন কমিশনের স্টল পরিদর্শনকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা জানিয়েছেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন হলে আগামী নির্বাচনে সীমিত আকারে ইভিএম ব্যবহার করা হবে।

ইতোমধ্যে ইভিএমে ভোট গ্রহণ ও ফল ঘোষণার কাজে মোবাইল রেডিও কমিউনিকেশন সিস্টেম (ওয়াকিটকি) ব্যবহার করতে অতিরিক্ত দুই হাজার ৫২ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে ইসি। চিঠিতে সীমিতসংখ্যক আসনে ইভিএম ব্যবহার করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ