প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সভা বর্জনের কারণ 'বাকস্বাধীনতা হরণ'
সিইসির দিকে আবার অভিযোগের তীর

সমকাল: কমিশন সভায় প্রস্তাব উত্থাপনের সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগে আবারও সভা বর্জন করলেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। সভা ত্যাগের আগে ‘নোট অব ডিসেন্টে’ (লিখিত আপত্তি) সহকর্মীদের বিরুদ্ধে তার বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ারও অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এমনকি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে. এম. নুরুল হুদার বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগও আনেন।

কমিশন সভা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এ কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১১টার কিছু পরে শুরু হওয়া সিইসির সভাপতিত্বে এ বৈঠকে আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। এতে অন্য তিন কমিশনার রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, ইসি কার্যালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ ও অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শুরুর ১০ মিনিটের মধ্যেই কমিশনার মাহবুব সভা বর্জন করলেও মধ্যাহ্ন বিরতি দিয়ে কমিশন সভা চলে বিকেল পর্যন্ত।

এর আগে গত ৩০ আগস্ট অনুষ্ঠিত কমিশন সভাও বর্জন করেছিলেন মাহবুব তালুকদার। ওই সভায় সংসদের ভোটে ইভিএম ব্যবহারের সুযোগ রেখে আরপিও সংশোধনের প্রস্তাব গৃহীত হয়, যাতে ভিন্নমত পোষণ করেছিলেন তিনি। এর পর আর কোনো কমিশন সভা হয়নি। সভা বর্জনের পর মাহবুব তালুকদার নিজ কক্ষে যান। কাউকে সাক্ষাৎ দেননি তিনি। বিকেলে কমিশন সভা শেষ হওয়ার পর তার কক্ষে সাংবাদিকদের প্রবেশের সুযোগ দেন। তবে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি। শুধু সভা বর্জনের ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নিজে থেকেই অপমানিত বোধ করায় সভা বর্জন করেছেন। বিষয়টি তিনি কমিশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চেয়েছিলেন জানিয়ে মাহবুব তালুকদার বলেন, তার প্রস্তাব কমিশন সভায় উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। যদিও ইসি সচিবালয় থেকে লিখিতভাবে সিইসির বরাত দিয়ে তার প্রস্তাবগুলো কমিশন সভায় উপস্থাপনের অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

এদিকে, সিইসিসহ চার কমিশনারের বিরুদ্ধে বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ তুললেও নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বিষয়টি সিইসির দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন। গত রাতে সঙ্গে আলাপকালে কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তিনি তার মত প্রকাশ করতে চেয়েছেন। আমিও সিইসিকে ইউওনোটে আমার পাল্টা মত ব্যক্ত করেছি। সিইসি তার প্রস্তাব কার্যতালিকাভুক্ত করেননি। সেখানে মাহবুব তালুকদারের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার প্রশ্ন উঠলে আমার বাকস্বাধীনতার কী হবে? এ বিষয়ে সিইসি ভালো বলতে পারবেন।’ তবে বৈঠক শেষে ইসি সচিব প্রেস ব্রিফিং করলেও তাতে এসব অভিযোগের কোনো জবাব দেননি। সাংবাদিকদের অনুরোধ সত্ত্বেও সিইসি প্রেস ব্রিফিংয়ে আসেননি।

তবে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ড. এম সাখাওয়াত হোসেন মনে করেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে কমিশনের অনেক সিদ্ধান্ত দ্রুত ও তাৎক্ষণিক নিতে হয়। সব বিষয়ে পনেরো দিনের নোটিশ দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশন সভায় কার্যতালিকাভুক্ত করে আলোচনা করতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। নির্বাচন-সংশ্নিষ্ট যে কোনো ইস্যু কমিশন সভায় আলোচনা হতে পারে। সিইসির সঙ্গে বসে কমিশন সদস্যরা অনানুষ্ঠানিকভাবেও আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কারণ, এটা সাংবিধানিক পদ। তিনি বলেন, কোনো সিদ্ধান্ত যদি কমিশনের এখতিয়ারবহির্ভূত হয়, তাহলে সংশ্নিষ্টদের বা সরকারকে জানানো যেতে পারে। সংবিধান-সংশ্নিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যাবে না- এমন মনোভাব ঠিক নয়।

কমিশন সূত্র জানায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর সিইসি বরাবর এক ইউওনোটে কমিশনার মাহবুব তালুকদার একাদশ সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে বেশ কিছু প্রস্তাব কমিশন সভায় আলোচনার জন্য কার্যতালিকাভুক্তির দাবি করেন। যাতে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সংসদ ভেঙে দিতে সরকারকে পরামর্শ দেওয়া, নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা বাড়ানো ও সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরিধি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব করা হয়েছিল। পরে সিইসির পরামর্শে তিনি ওই প্রস্তাব কিছুটা সংশোধন করেন; যাতে সংসদ ভেঙে দেওয়ার প্রস্তাব বাদ দিয়ে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে ভোটের মাঠে এমপিদের ক্ষমতা কমানোর প্রস্তাব করা হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে ৮ অক্টোবর ইসি সচিবালয় থেকে তাকে আরেকটি ইউওনোটের মাধ্যমে জানানো হয়, সিইসি তাকে প্রস্তাবগুলো কমিশন সভায় উত্থাপনের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

অন্যদিকে পাঁচ সদস্যের কমিশনের অন্য তিন সদস্য রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী পাল্টা ইউওনোটে এ বিষয়ে আলোচনায় তাদের আপত্তির কথা জানান সিইসিকে। সভা বর্জনকারী মাহবুব তালুকদার তার নোট অব ডিসেন্টে এসব বিষয় উল্লেখ করে বলেন, গত বছরের ৩১ জুলাই থেকে তিন মাসব্যাপী নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সংলাপের আয়োজন করে। এতে অন্যান্যের পাশাপাশি ৪০টি রাজনৈতিক দলও অংশ নেয়। ইসির পক্ষ থেকে এগুলো বই আকারে প্রকাশও করা হয়। কিন্তু তা নিয়ে আজ পর্যন্ত কমিশন সভায় কোনো আলাপ-আলোচনা হয়নি। তাই তিনি নিজেই অংশীজনের সঙ্গে সংলাপের আলোকে কিছু প্রস্তাব কমিশনের কার্যতালিকাভুক্তির অনুরোধ জানান।

নোট অব ডিসেন্টে মাহবুব তালুকদার আরও বলেন, তার প্রস্তাবগুলো যাতে কমিশন সভায় উত্থাপিত না হয়, এ জন্য অন্য তিন কমিশনার এক ও অভিন্ন চিঠি লিখে পৃথক ইউওনোটের মাধ্যমে সিইসিকে অনুরোধ জানিয়েছেন। তাদের সঙ্গে সিইসি একমত হওয়ায় তার প্রস্তাবগুলো উত্থাপন করতে দেওয়া হয়নি। সহকর্মীদের এই অভিন্ন অবস্থান তাকে বিস্মিত ও মর্মাহত করেছে। বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা তার সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইসি কোনোভাবেই তার এই অধিকার খর্ব করতে পারে না। এমন পরিস্থিতিতে তিনি কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নোট অব ডিসেন্ট ও প্রতিবাদে সভা বর্জন করেছেন।

বৈঠক থেকে সাড়ে ১১টার দিকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকরা তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। সভা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন কি-না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’। কোনো বিষয়ে কোনো নোট অব ডিসেন্ট বা আপত্তি দিয়েছেন কি-না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’। কী বিষয়ে আপত্তি দিয়েছেন- জানতে চাইলে মাহবুব তালুকদার কোনো উত্তর দেননি।

এদিকে সংলাপে আলোচিত বিষয়গুলো কমিশন সভায় পর্যালোচনা না হওয়ার যে অভিযোগ মাহবুব তালুকদার করেছেন তার বিরোধিতা করে কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, কমিশনের দুটি সভায় সংলাপের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সংলাপে ইসি ছয়টি বিষয়ে মতামত আহ্বান করলেও রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে অসংখ্য বিষয় উত্থাপন করা হয়েছে। এগুলো আমলে নেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা কমিশনের নেই।

রফিকুল ইসলাম মনে করেন, মাহবুব তালুকদারের এসব বক্তব্য ব্যক্তিগত মতামত। কারও ব্যক্তিগত মতামত কমিশনের কার্যতালিকাভুক্ত করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, সিইসির কাছে তারা তিন কমিশনার একই ধরনের নোট দিয়েছেন, সেটা কারও বিরুদ্ধে নয়। কমিশনার মাহবুব তালুকদারের নোটেই লেখা রয়েছে- এটা তার ব্যক্তিগত মতামত।

সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে কমিশন সভায় যে কোনো বিষয় আলোচনা হতে পারে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তিনি কার্যতালিকাভুক্ত করতে চেয়েছেন। আমরা মনে করি কারও ব্যক্তিগত মতের বিষয়ে কমিশন সভায় কার্যতালিকাভুক্ত করা উচিত নয়। আমাদের বক্তব্য আমরা উপস্থাপন করেছি- এতে যদি কেউ বিস্মিত বা মর্মাহত হন তাহলে আমার কিছু করার নেই।’

সিইসির কাছে তাদের তিন কমিশনারের দেওয়া ইউওনোটে কী রয়েছে তা উল্লেখ করে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বলেছি, এ ধরনের প্রস্তাবনা কমিশন সভায় আলোচনায় এজেন্ডাভুক্ত করা যথাযথ হবে না। এই বক্তব্যে তিনি বিস্মিত হলে আমার বক্তব্য প্রকাশ করা থেকে বঞ্চিত করার অধিকার তারও নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘অফিসিয়ালি আমার কাছে তার যে ইউওনোট এসেছিল, সেখানে এক ধরনের বক্তব্য ছিল। আর এখন প্রকাশিত তার সংশোধিত প্রস্তাব অন্য রকম।’

তফসিলের পর সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত- ইসি সচিব :সভা শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ইসি কার্যালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, ভোটের মাঠে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত তফসিল ঘোষণার পর নেওয়া হবে। সেনা মোতায়েনের সময় এখনও শেষ হয়ে যায়নি। সভায় কমিশন অবহিত করেছে, তফসিল ঘোষণার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

এ ছাড়া ভোটার তালিকায় কোনো ধরনের ভুলভ্রান্তি থাকলে তা ৩০ অক্টোবরের মধ্যে কমিশনকে অবহিত করতে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাতে তফসিল ঘোষণার আগে এগুলো সংশোধন করে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা যায়।

তিনি বলেন, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের গেজেট হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ১০টির বিষয়ে হাইকোর্টে মামলা হয়েছে। মামলার গতিপ্রকৃতি জানানোর জন্য আইন শাখাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভোটকেন্দ্র বিষয়ে তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচনে প্রাথমিক পর্যায়ে ৪০ হাজার ১৯৯টি ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করা হয়েছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনের ২৫ দিন আগে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। কমিশন সভায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, বর্তমানে যে ভোটকেন্দ্র আছে তার অতিরিক্ত ৫ শতাংশ কেন্দ্র চিহ্নিত করে রাখা। যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনোক্রমে কেন্দ্র ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সেসব কেন্দ্র ব্যবহার করার সুযোগ থাকে।

হেলালুদ্দীন আহমেদ জানান, নির্বাচনে তারা দেশি ও বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আমন্ত্রণ জানাবেন। সার্কভুক্ত নির্বাচন কমিশনদের সংগঠন ফেমবোসা কর্মকর্তাদের বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হবে। এ-সংক্রান্ত একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। কমিশন আগামী সপ্তাহে বৈঠক করে অনুমোদন দেবেন।

নির্বাচন উপলক্ষে শূন্যপদে পদায়ন দেওয়ার কথা জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, নির্বাচনের সময় প্রতিটি উপজেলায় নির্বাহী অফিসার পদায়নে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের পদ যাতে খালি না থাকে তার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন কারণে মাঠ প্রশাসনে বিশেষ করে উপজেলায় নির্বাচনী কর্মকর্তার পদ কিছু খালি থাকবে- সেসব ক্ষেত্রে অন্যান্য দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তাকে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে।

তিনি জানান, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরির জন্য নির্বাচন কমিশন এরই মধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন। কমিশন অতিরিক্ত ১০ শতাংশ রেখে এই প্যানেল তৈরি করার জন্য বলেছেন। আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি, আট বিভাগে আটটি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য রাঙামাটিতে বিশেষ একটি সভা হবে বলেও তিনি জানান।

এদিকে একাদশ সংসদ নির্বাচনের খরচ বাবদ ৭০০ কোটি টাকা বাজেট অনুমোদন করেছে ইসি। সভায় আসন্ন সংসদ নির্বাচনের খরচের প্রসঙ্গ উঠলে আলোচনা শেষে কমিশন এতে অনুমোদন দেয়।

ইসি সচিব জানান, নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি ইসির কাছে তুলে ধরা হয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু নির্বাচনী সামগ্রী সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি জানান, নির্বাচনের ব্যালট বাক্স ও ব্যালট পেপারের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি ইসির রয়েছে। নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য আরপিও সংশোধন করে তা সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। সরকার অনুমোদন দিলে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়টিও কমিশন ভেবে দেখবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ