প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হেফাজতে বিভক্তি আসন্ন!

পরিবর্তন: জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর থেকে দেশের রাজনীতিতে নতুন চাঞ্চল্য শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এটি একটি নতুন মেরুকরণ, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে যার প্রভাব অবশ্যম্ভাবী। হয়তো সেটা বিবেচনা করেই আড়ালে-আবডালে অনেকেই এই জোটে আসার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করছেন বলে দাবি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টও চাইছে আরও দল অন্তর্ভুক্ত হোক এই মঞ্চের সঙ্গে। সরকারের বাইরের সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলকে আনতে চেষ্টা চালানো হবে বলে জোট নেতারা জানিয়েছেন।

এমনকি তারা এও বলছেন, আমাদের দাবিগুলোর সঙ্গে একমত হলে ক্ষমতাসীন ১৪ দলেরও কেউ কেউ যোগ দিতে পারেন।

প্রশ্ন উঠেছে, হেফাজত ইসলামকে নিয়েও। তারা কিংবা তাদের একটি অংশ কি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিতে যাচ্ছে? এমন প্রশ্নে দলের নেতৃস্থানীয়রা সরাসরি না বললেও কিছু সংগত কারণে এ প্রশ্নটি সামনে এসেছে। তাছাড়া এমন গুঞ্জনও ভেসে বেড়াচ্ছে রাজনীতির বাতাসে। কে না জানে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই।

সংগত কারণেই ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরের ঘটনার পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে হেফাজতের সম্পর্ক ছিল সাপে-নেউলে। কিন্তু আশ্চর্য হলেও সত্য, হেফাজতের আমীর আল্লামা শাহ আহমেদ শফী এখন আওয়ামী লীগের মিত্র। দিন কয়েক আগে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়াবিষয়ক আল্লামা শফীর এক মন্তব্যে সরগরম ছিল রাজনীতি। কিন্তু দলটির বিপুলসংখ্যক সমর্থক এখনো ঘোরতর আওয়ামীবিদ্বেষী। প্রশ্নটা উঠেছে, এখান থেকেই- তাহলে কি আল্লামী শফীর নেতৃত্ব অস্বীকার করে একটি দল বেরিয়ে আসবে হেফাজত থেকে? এই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে যখন দেখা গেল হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগরীর দায়িত্বে থাকা মাওলানা নূর হোসাইন কাশেমী গত ৩০ সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

ওদিকে আল্লামা শফীর সঙ্গে দ্বন্দ্বের জের ধরে দল থেকে বেরিয়ে এসেছেন হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। পদত্যাগের পর যে বিবৃতি তিনি দিয়েছেন তাতে লিখেছেন, আমার পিতা আল্লামা হারুন বাবুনগরী চিরকাল আওয়ামী ধর্মবিদ্বেষীদের বিপক্ষে কাজ করে গেছেন। আমিও আওয়ামী লীগের কোনো এজেন্টের সঙ্গে থাকতে চাই না।

তাহলে আপনি কি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিতে যাচ্ছেন? এমন প্রশ্নে মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, ‘না, তা নয়। আমার বয়স এখন ৮৫ বছর। সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি আর কোনো রাজনৈতিক দলও করব না, এবং কোনো দলের সঙ্গেও থাকব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে শফী সাহেব যে ১৩ দফা ঘোষণা করেছিলেন, তার একটার সঙ্গেও তিনি এখন নেই। উনি ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলেছেন। আমি এটা মানতে পারছি না।’ তার মতে, দলের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীও হেফাজতের বর্তমান অবস্থান নিয়ে অসন্তুষ্ট। কিন্তু আল্লামা শফীর মাদ্রাসায় চাকরি করেন বলে তিনি পদত্যাগ করতে পারছেন না।

ধারণা করা হচ্ছে, হেফাজতে ইসলামের অভ্যন্তরীণ এই টানাপড়েন শেষ পর্যন্ত দলে ভাঙনের সৃষ্টি করবে। দলের সিনিয়র নায়েবে আমিরের পদত্যাগে সেটাই সুস্পষ্ট হচ্ছে। সেরকম কিছু হলে দল ভারী হবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের, বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ