প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মহাসপ্তমী আজ

মানবজমিন : শুরু হলো শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। গতকাল ষষ্ঠী তিথিতে সায়ংকালে অর্থাৎ সন্ধ্যায় দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল থেকেই পূজামণ্ডপগুলো ঢাকের বোল, মন্ত্র ও চণ্ডীপাঠ, কাঁসর ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে কেঁপে উঠেছে। বিশুদ্ধ পঞ্জিকামতে আজ ২৯শে আশ্বিন (১৬ই অক্টোবর) মঙ্গলবার মহাসপ্তমী, ৩০শে আশ্বিন (১৭ই অক্টোবর) মহাষ্টমী, ৩১শে আশ্বিন (১৮ই অক্টোবর) মহানবমী, ১লা কার্তিক (১৯শে অক্টোবর) বিজয়া দশমী অনুষ্ঠিত হবে। আজ মহাসপ্তমীর প্রভাতে নবপত্রিকা প্রবেশ ও ঢাক-ঢোলক-কাঁসর বাজিয়ে কলাবউ স্নান ও আদরিণী উমার সপরিবারে তিথিবিহীত পূজা শেষে সপ্তমীবিহীত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। শাস্ত্রমতে মহাসপ্তমীতে ষোড়শ উপাচারে (ষোল উপাদানে) দুর্গা দেবীর পূজা হবে। সকালে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদান করা হবে। একই সঙ্গে দেবীকে আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, স্নানীয়, পুষ্পমাল্য ও চন্দন দিয়ে পূজা করা হবে।

পূজা শেষে দেবী দুর্গার চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেবেন তার ভক্তরা। পুরোহিত ও পূজারীর কণ্ঠে উচ্চারিত হবে সেই মধুর মন্ত্রপাঠ- ‘যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরুপেণ সংস্থিতা, নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নম’। আগামীকাল হবে মহাষ্টমী। মহাষ্টমীর দিন সকালে দুর্গোৎসবের অন্যতম আকর্ষণ কুমারী পূজা ও রাতে সন্ধি পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বৃহস্পতিবারে মহানবমী ও শুক্রবারে বিজয়া দশমী শেষে ‘উমা’ দেবী কৈলাশে ফিরবেন। দুর্গোৎসব উপলক্ষে ইতিমধ্যে রাজধানীসহ সারা দেশের পূজামণ্ডপগুলোকে সাজানো হয়েছে রঙিন সাজে। এই ক’দিন পূজামণ্ডপগুলোতে চলবে পূজার্চ্চনা, পুষ্পাঞ্জলী, আরতি, মহাপ্রসাদ বিতরণ, ভক্তিমূলক গানসহ নানা বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠানমালা।
এদিকে শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে গতকাল থেকে রাজধানীসহ সারা দেশের পূজামণ্ডপগুলোতে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ভিড় করছেন। আজ থেকে ভিড় আরো বাড়বে বলে জানান আয়োজকরা। এই ক’দিন উৎসব-আনন্দে মেতে উঠবে শিশু-কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সী মানুষ। বাহারি পোশাক আর অঙ্গসজ্জায় নিজেদের সাজিয়ে রাঙিয়ে তারা মন্দিরে মণ্ডপে ভিড় করবে। বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের দেয়া তথ্যমতে এবার সারা দেশে ৩১ হাজার ২৭২টি স্থায়ী-অস্থায়ী মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাজধানীতে পূজা হচ্ছে ২৩৪টি পূজামণ্ডপে। দুর্গাপূজাকে ঘিরে সারা দেশের পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দুর্গোৎসবে নিরাপত্তায় পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার সদস্য ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের পাশাপাশি পূজা আয়োজকদের স্বেচ্ছাসেবকরাও দায়িত্ব পালন করবেন। রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে পূজা উপলক্ষে নানা বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকায় রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ পূজামণ্ডপ, গুলশান বনানী সার্বজনীন পূজা পরিষদ মণ্ডপ, রমনা কালীমন্দির ও আনন্দময়ী আশ্রম, শাঁখারীবাজার ও তাঁতীবাজার, ফার্মগেট খামারবাড়ি সনাতন সমাজ কল্যাণ সংঘ, ডেমরার দেইল্যা পূর্বপাড়া পূজামণ্ডপ সহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপে মহাসমারোহে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ