প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মুক্তি পাচ্ছেন খালেদা!!

ডেস্ক রিপোর্ট  : কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন তাঁর অন্যতম কৌসুলি এ. জেড. মোহাম্মদ আলী। আজ সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যান সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল। এ সময় তাঁর সঙ্গে চিকিৎসকরাও ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বেগম জিয়ার পরিবার এখন চাইছে তাঁর উন্নততর চিকিৎসার জন্য তাঁকে প্যারোলে বিদেশে নিয়ে যেতে। কিন্তু এ ব্যাপারে বেগম জিয়ার অনীহা ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কিছু আইনগত বিষয় বিবেচনায় তাঁর বিদেশ যাত্রাই মঙ্গলজনক বলে মনে করছেন বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং আইনজীবীরা। এই বক্তব্যটি বলার জন্যই অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী আজ বিএসএমএমইউ এর ৬১২ নম্বর কেবিনে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, বেগম জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের আগে আইনজীবীরা নিজেরা বৈঠক করেন। তাঁরা বেগম জিয়াকে আইনগত ৪ টি দিক বিদেশ যাওয়ার জন্য বিবেচনায় নিয়েছেন। সেগুলো হলো:

১. জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় আপিলের ব্যাপারে সর্বোচ্চ আদালতের অবস্থান সুস্পষ্ট। নির্বাচনের আগেই হাইকোর্টে এই মামলার আপিল শুনানি হবে। আপিলে হাইকোর্ট দণ্ড বহাল রাখলে, বেগম জিয়ার নির্বাচনে অংশগ্রহণের আর কোনো সম্ভাবনাই থাকবে না। প্যারোলে গেলে এই মামলার শুনানি বিলম্বিত হবে।

২. হাইকোর্ট বেগম জিয়ার অনুপস্থিতেই জিয়া চ্যারিটেবল দুর্নীতি মামলার শুনানির নির্দেশ দিয়েছে। এই মামলায় দণ্ডিত হলে তাঁর মুক্তির আর কোনো সম্ভাবনাই থাকবে না। প্যারোলে গেলে এই মামলার শুনানিও স্থগিত হতে পারে।

৩. আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে বেগম জিয়ার জামিনের কোনো সম্ভাবনা নেই।

৪. বেগম জিয়া ভালোই অসুস্থ। তাঁর বিদেশে সুচিকিৎসা প্রয়োজন।

এই চার বিবেচনা নিয়ে বেগম জিয়ার আইনজীবীরা প্রথমে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি আইনজীবীদের মতে সঙ্গে সহমত পোষণ করেন। এরপর আইনজীবীদের প্রতিনিধি হিসেবে অ্যাডভোকেট আলী বেগম জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। অ্যাডভোকেট আলী বেগম জিয়ার মামলা এবং এর সম্ভাব্য পরিণতির বিষয়গুলো খালেদাকে বোঝান। তবে, খালেদার আইনজীবী সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁর চিকিৎসার বিষয়টি। অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী তাঁর চিকিৎসকদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেন বলে জানা গেছে। যদিও চিকিৎসকরা বলেছেন, তাঁর সুচিকিৎসা বিএসএমএমইউতেই সম্ভব, তবুও তারা মনে করেন এ ধরনের চিকিৎসা সব সময়ই বিদেশে ভালো। বিএনপি নেতারাও মনে করছেন, যেহেতু জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছে, তাই বেগম জিয়া এখন বিদেশ যাওয়াই সুবিধাজনক। অবশ্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলীকে বেগম জিয়া কোনো সম্মতি জানাননি। আজকালের মধ্যেই তাঁর আত্মীয় স্বজনরা তাঁকে দেখতে যাবেন। তখনই তিনি এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন। বাংলা ইনসাইডার

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ