প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাড়ছে তথ্য বিভ্রাট

মিঠুন মিয়া : তথ্য নাগরিকের অন্যতম মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। মানবাধিকারও বটে। তথ্যের গুরুত্ব ব্যাপক। যোগাযোগের অন্যতম প্রধান উপকরণ তথ্য ছাড়া এক মুহূর্ত জীবন যাপন করা সম্ভব নয়। তথ্য মানুষের নিত্য সঙ্গি। তথ্যের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হচ্ছে কে ধনী আর কে দরিদ্র? অর্থাৎ তথ্য এখন ধনী দারিদ্রের নির্ধারক। যে জাতির যত বেশি তথ্য আছে, সে জাতি তত বেশি ধনী। যে জাতির তথ্য নেই সে জাতি গরিব। বর্তমানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সুবাদে তথ্যের অবাধ প্রবাহ মানুষের জানার ক্ষুধা নিবারণ করছে। ইন্টারনেটের এই যুগে তথ্য মিলছে খুব সহজেই। হাত বাড়ালেই তথ্য। মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে স্পর্শ করলেই ভেসে উঠে অবাধ তথ্য ভা-ার। তথ্যের এক মহাসাগরে বাস করছি আমরা। দিন দিন এই তথ্য ভা-ার আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে। তবে তথ্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের সঠিকতা ও সত্যতা। অবাধ তথ্য প্রবাহের এ যুগে নানা তথ্যের ভিড়ে প্রশ্ন উঠছে তথ্যের সঠিকতা এবং সত্যতা নিয়ে। সঠিক তথ্য জাতিকে যেমন সঠিক পথ দেখায়, তেমনি একটি মিথ্যা, অসম্পূর্ণ, বিকৃত খ-িত তথ্য জাতিকে বিপথে পরিচালিত করে।

জ্ঞানের জগতকে সংকীর্ণ করে আত্মবিশ্বাস বিনষ্ট করে। সেই সাথে সমাজে ঘটে নানা বিশৃঙ্খলা। ইন্টারনেট, গণমাধ্যম, বই, স্যোসাল মিডিয়াই মূলত তথ্যের বড় উৎস। স্যোসাল মিডিয়ার যুগে এতো তথ্যে জটে সঠিক তথ্য পাওয়াটাও যেন চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। কেননা স্যোসাল মিডিয়ায় ব্যক্তি তার ইচ্ছা মতো তথ্য পরিবেশন করছে। সেখানে অতি সহজে নানা মহল মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, অসম্পূর্ণ তথ্য বিভিন্ন স্বার্থে হাসিলের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। সম্প্রতি নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, কোটা আন্দোলনে তথ্য বিভ্রাটের ভয়াবহতা লক্ষণীয়। তথ্য বিকৃত করে, প্রকৃত তথ্যের আড়ালে মিথ্যা, অসম্পূর্ণ তথ্য প্রচার করে মানুষের মাঝে গুজব সৃষ্টি করা হচ্ছে। যার মাধ্যমে অতি সহজে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করা হচ্ছে। এতে সামজিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে। চাঞ্চল্যকর অসত্য মিথ্যা তথ্য প্রচার করে মানুুষের আবেগ বিবেক নিয়ে খেলা করা হচ্ছে। মানুষকে নীতি বর্হিভূত কাজে উজ্জীবিত করতে ইন্দন দেয়া হচ্ছে। আবার দেখা যাচ্ছে তথ্যের গড়মিল। একটি বিষয়ে একই রকম তথ্য মিলছে না। বিভিন্ন উৎসে মিলছে বিভিন্ন তথ্য। ফলে সঠিক তথ্য চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনটি সঠিক উৎস নির্ধারণ করা মুশকিল।

সঠিক তথ্যের শেষ আশ্রয়স্থল গণমাধ্যম। কিন্তু বিষয়টি আরও দুঃখজনক যখন দায়িত্বশীল গণমাধ্যমও তথ্য বিভ্রাট সৃষ্টি করে। তথ্য বিভ্রান্তি থেকে মুক্তির উপায় কী? তথ্য বিভ্রাট কি রোধ করা সম্ভব? তথ্য বিভ্রান্তি রোধে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে গণমাধ্যম। কাজেই গণমাধ্যমকে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে। সাংবাদিকদের উচিত তথ্যের উৎস এবং সঠিকতা যাচাই করে তথ্য প্রচার করা। সবার আগে প্রচার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে, মিথ্যা প্রচার না করে বরং সময় নিয়ে সঠিক তথ্য প্রচার করাই শ্রেয়। একইভাবে স্যোসাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের উচিত অতি দ্রুত কোন তথ্যকে সঠিক মনে না করা। অর্থাৎ বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্যের সঠিকতা সত্যতা নির্ণয় করতে হবে। যারা তথ্য বিকৃত করছে, তথ্য বিভ্রাট ঘটাচ্ছে, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদেরকে শনাক্ত করে শাস্তি প্রদান করতে হবে। ইন্টারনেটে অসত্য, মিথ্যা বিকৃত তথ্য ঠেকানোর জন্য নতুন নতুন উপায় বের করে সেগুলোকে কাজে লাগাতে হবে। কেননা সুস্থ, সুন্দর ও উন্নত সমাজ গঠনে সঠিক তথ্যের বিকল্প নেই।

লেখক : শিক্ষক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত