প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সংসদ নির্বাচনে ৭শ কোটি টাকার বাজেট
প্রথমবারের মতো অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের ব্যবস্থা

সাইদ রিপন: নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭শ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে খাতভিত্তিক ব্যয়ের জন্য নির্বাচন কমিশন অনুমোদন দিয়েছে। অনেক নির্বাচন সামগ্রী ক্রয় করে গুদামজাত করা হয়েছে। অবশিষ্টগুলো ৩০ অক্টোবরের মধ্যেই কেনা হবে। গতকাল বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসির ৩৬তম সভা শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।

সংসদ ভোটের তফসিলের বিষয়ে তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। আমরা সবিকছু চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছি। ভোটার তালিকার সিডি (কমপ্যাক্ট ডিস্ক) প্রস্তুত করে আঞ্চলিক কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। কোনো ভুলত্রুটি থাকলে আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে তাদের অবহিত করতে বলা হয়েছে। তিনশ আসনের সীমানা নির্ধারণের কাজও শেষ করেছি। ৪০ হাজার ১৯৯ টি ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে ৫ শতাংশ অতিরিক্ত রাখা হয়েছে যদি দুর্বিপাকের কারণে অন্যত্র সরাতে হয়। তফসিল ঘোষণার পর পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

সচিব বলেন, এবারই প্রথমবারের মতো অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মনোনয়নপত্রে হিজড়াদের জন্য আলাদা কোনো কলাম থাকবে না। এক্ষেত্রে তাদের জন্য আগের নিয়মই বহাল থাকছে। নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং (ইভিএম) মেশিন ব্যবহারের প্রস্তুতিও থাকবে। এক্ষেত্রে সরকারেরর কাছে আইন সংশোধনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আইন সংশোধন হলে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। ইভিএমকে জনপ্রিয় করার জন্য আগামী ২৭ অক্টোবর দেশের নয়টি স্থানে এবং নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে দুইদিনব্যাপি ইভিএম মেলার আয়োজন করা হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচনে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। ফেমবোসা অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর কর্মকর্তাদের আমরা বিশেষ আমন্ত্রণ জানাবো। নির্বাচনে ফলাফল প্রকাশে প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে অনলাইন এবং নিজস্ব সিস্টেমের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনে আমাদের প্রচুর লোকবলের প্রয়োজন হয়। এজন্য বিভিন্ন সংস্থা থেকে লোকবল সংগ্রহ করা হবে। ইতোমধ্যে সরকারের কাছে মাঠ পর্যায়ে পদ ফাঁকা না রাখতে ইসির নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। সংলাপে উঠে আসা বিষয়গুলোর মধ্যে সীমানা নির্ধারণ, ভোটার তালিকা প্রণয়নসহ যেসকল বিষয় আমাদের এখতিয়ারভুক্ত সে সকল বিষয় নিয়ে আমরা কাজ করেছি বলে জানান তিনি।

এসময় নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের সভা বর্জন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার সভা বর্জন করলে তাতে কোনো বিঘœ ঘটেনি। আমরা সারাদিন সভা করেছি। মাননীয় নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বৈঠকের এজেন্ডায় কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বলেছিলেন। সেগুলো অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় প্রথমে তিনি বৈঠকে যোগ দিলেও পরে বর্জন করেন। আশাকরি আগামী বৈঠকগুলোতে সব কমিশনারই উপিস্থত থাকবেন।