প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শাশ্বত জামান
টিপের পাতা

গল্প কথন :

একপাতা টিপ কিনতে ইচ্ছে হলো; লাল! বৌ হিসেবে যে নারীটি আছে ঘরে, তার প্রতি যত্ন নেওয়ার সময় হয় না সবসময়। আটপৌরে জীবনে বৌকে ভালোবাসা, আদর-স্নেহ করা একটা বাড়াবাড়ি! বাচ্চা-কাচ্চা হয়েছে, তাদের মুখে দুটো ভাত তুলে নিজেদের পেটে দানা দান করতে গেলে বৌকে আদর করার সময় কোথায়? রাতে ঐ যা একটু …! এটাও করতে হয় বলে করা। মন টানে না কিন্তু বেয়াড়া শরীর তেঁতে ওঠে। তখনি যা দলন পেষণ করা হয়। এটাকে কি আদর বলে? এই আদরের কোনো শিল্প নেই। স্বাভাবিকভাবেই তা দুটো টিনের কলসির মধ্যে ঠোকাঠুকি, যেখানে বৌটি নির্জীব জড় পদার্থের মতো; শুধু নিয়ম পালন করে যায়। পতি সঙ্গ দান। ফলাফল– বাচ্চা। নাট-বোল্টদের সংখ্যা বছরে বছরে বাড়ছে।

বিয়ে হয়েছে সাত বছর হবে। এই সাত বছরে বৌকে নিয়ে তেমন কোথাও ঘোরা হয়নি। যাওয়ার মধ্যে বৌ যায় তার বাপের বাড়ি। কোথায়ই বা যাবে এছাড়া; টাকা কোথায়? তাছাড়া দু’একটা আত্মীয়-স্বজন ব্যতীত অন্য কোথাও ঘুরতে যাওয়া বিলাসিতা। তেমন কিছু কিনেও দেওয়া হয়নি। কেনা বলতে মাসে মাসে এক বোতল নারকেল তেল। তাছাড়া বছরে দুটো পরার কাপড়, সায়া-ব্লাউজ, স্যান্ডেল। ঈদ বা অনুষ্ঠানে পরে যাওয়ার মতো শাড়ি ওই বিয়ের সময়ে দেওয়া শাড়িটাই। আলতা-স্নো-পাউডার, ওসব দিতে ইচ্ছে হতো একসময়। যদিও মায়ের ভয়ে ঠিক দেওয়ার সাহসটা ছিল না। আর এখন তো পুরনো বৌ। তাই ওসব অপ্রয়োজনীয়!

কোনোদিন বৌকে নিয়ে সিনেমায় যাওয়া হয়নি। ভালো কোনো হোটেলে খাওয়া হয়নি। শখ-আহ্লাদের এসব জিনিসগুলো বাহুল্য। কী করতে থাকে বৌটি বছরের পর বছর, কীসের আশায়? দুবেলা দুমুঠো ভাত আর বছরে দুটো মোটা কাপড়ের জন্যে?
বাস্তব বড় নির্মম! দিনের পর দিন সুখহীন, একঘেয়ে জীবনযাপন করতে তার বাধে না। এছাড়া আর গতি কী? পুথিগত বিদ্যাও নেই একদম। তাই সংসারের ঘানি টানতে টানতেই সময় বয়ে যায়। তার হয়তো নিজেকে নিজের বলতেও বাধে।

টিপের পাতার দাম মাত্র পাঁচ টাকা। বিড়ি খেতেও রোজ এর চেয়ে বেশি টাকা খরচ হয়। আচ্ছা, বৌ এই টিপ পরবে তো? রান্নাঘরের তেল-কালি লাগা আটপৌরে কাপড়টা পরে টিপ পরলে কি মানাবে? এমন করে তাকে বিয়ের পরে খুব একটা দেখা হয়নি। তবে কি বিয়ের সেই শাড়িটা পরতে বলবে? ওটা মনে হয় সে পরবে না। বড় মেয়েটার বয়স পাঁচ বছর হতে চলল। তার এখন সাজুগুজু করার সময়। এমনিতেই তার অনেক বায়না থাকে। বাড়ি গিয়ে টিপের পাতাটি তার হাতেই দেবে। অন্যথা বৌ বলবে, এতদিন পরে ভীমরতি হয়েছে।

যে মানুষটা গত সাত বছর ধরে বাচ্চা-কাচ্চা ছাড়া আর তেমন কিছুই উপহার পায়নি, সে হয়তো সামান্য একপাতা টিপও সহজভাবে নেবে না। তার না পাওয়াই স্বাভাবিক বিষয় হয়ে গিয়েছে। এটাই জীবন। জীবন যেখানে কালক্ষেপণ করে শুধু জীবন জন্ম দেওয়ার জন্যে। আর যা কিছু আছে তা যেন অপ্রত্যাশিত।
০৩-০৬-২০১৩

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত