প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাহবুব তালুকদারের `নোট অব ডিসেন্টে’ যা ছিলো

সাইদ রিপন : নির্বাচন কমিশনের ৩৬তম প্রস্তুতি সভায় নিজের বক্তব্য রাখতে না দেয়ার কারণেই ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে সভা বর্জন করেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।

সোমবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার(সিইসি) কে এম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে কমিশন সভা শুরু হয়। সভা শুরুর ৭ মিনিট পর ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রদান করে বের হয়ে আসেন মাহবুব তালুকদার।

মাহবুব তালুকদারের দেয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’ এ তিনি সভা বর্জনের চারটি কারণ উল্লেখ করেছেন। বিষয় হিসেবে লেখা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন সভায় বক্তব্য রাখতে না দেয়ায় ‌‌‌’‌নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে সভা বর্জন করেছেন।

প্রথম অংশে তিনি লিখেছেন, ‘বিগত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে আমি ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অংশীদারমূলক ও গ্রহণযোগ্যকরার লক্ষ্যে কতিপয় প্রস্তাবনা ‘শিরোনামে আমার বক্তব্য অদ্যকার নির্বাচন কমিশন সভায় উপস্থাপনকরার জন্য সিইসি বরাবরে একটি ইউও নোট পাঠাই। পরবর্তীতে এর একটি সংশোধনীও প্রেরণ করা হয়।গত ৮ অক্টোবর কমিশন সচিবালয় থেকে ইউও নোটের মাধ্যমে আমাকে জানানো হয়, আমার প্রস্তাবনাগুলি ১৫ অক্টোবর ৩৬তম কমিশন সভায় উত্থাপন করার জন্য সিইসি আমাকে অনুরোধ জানিয়েছেন।

দ্বিতীয় অংশে তিনি লিখেন, উল্লেখ্য যে, গত ৩১ জুলাই ২০১৭ থেকে ২৪অক্টোবর ২০১৭ পর্যন্ত প্রায় ৩মাসব্যাপী নির্বাচন কমিশন বিভিন্নঅংশিজনের সঙ্গে সংলাপের আয়োজন করে। এতে নির্বাচনসংশ্লিষ্ট অংশিজন ছাড়াও ৪০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে। সবার সংলাপ একত্রিত করে তা গ্রন্থাকারে প্রকাশ করা হয়।

তবে উক্ত সংলাপের বিষয়ে আজ পর্যন্ত কমিশন সভায় কোনো আলোচনা না হওয়ায় এবং সংলাপের কোনো কার্যকারিতা পরিলক্ষিত না হওয়ায় ব্যক্তিগতভাবে আমি এটির পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি এবং অংশিজনের সংলাপের আলোকে উপরোক্ত শিরোনামে প্রস্তাবনাসমূহ লিপিবদ্ধ করে কমিশন সভায় পেশ করার নিমিত্তে কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানাই।

তৃতীয় অংশে তিনি লিখেছেন,আমার প্রস্তাবনাসমুহ জাতে কমিশন সভায় উপস্থাপনা করতে না দেয়া হয়, এজন্য তিন জন মাননীয় নির্বাচন কমিশনার এক এবং অভিন্ন চিঠি লিখে পৃথক পৃথক ইউও নোটের মাধ্যমে মাননীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাদের সঙ্গে একমত হওয়ায় আমাকে প্রস্তাবনাসমূহ করতে দেয়া হয়নি। নির্বাচন কমিশন সভায় আমার বক্তব্য উপস্থাপন করতে না দেয়ায় তাদের অভিন্ন অবস্থান আমাকে বিস্মিত ও মর্মাহত করেছে।

চতুর্থ অংশে তিনি লিখেছেনে, বাকপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা সংবিধান প্রদত্ত আমার মৌলিক অধিকার। নির্বাচন কমিশন কেনোভাবেই আমার এই অধিকারখর্ব করতে পারে না। এমতাবস্থায় অনুন্যাপায় হয়ে আমি নির্বাচন কমিশনের এরূপ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে‌ নোট অব ডিসেন্ট প্রদান করছি এবং প্রতিবাদস্বরূপ নির্বাচন কমিশন সভা বর্জন করছি।

এর আগে গত ৩০ আগস্ট জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের বিপক্ষে মত দিয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) সংশোধন নিয়ে কমিশন সভা চলাকালে বৈঠকবর্জন করেছিলেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেছিলেন, “আমি মনে করি, একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা ঠিক হবে না। কারণ, অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ইভিএম চায় না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ