প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চলচ্চিত্রে শাবনূরের রজতজয়ন্তী

বিনোদন প্রতিবেদক: ঢালিউডের ইতিহাস সৃষ্টিকারী নায়িকা শাবনূর। নব্বই দশকে ঢাকাই সিনেমায় তার অভিষেক। নায়ক নির্ভর ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি দাপটের সাথে অভিনয় করে গেছেন। অকাল প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহের সাথে জুটি বেঁধে ১৪টির মতো ছবি উপহার দিয়েছেন তিনি। সালমান পরবর্তী সময় জুটি বেঁধেছেন অনেক নায়কের সাথে। তাদের সাথে অভিনয় করে সমান জনপ্রিয়তা পেয়েছেন এই নায়িকা।
চলচ্চিত্রে আজ শাবনূরের রজতজয়ন্তী। এরই মধ্যে চলচ্চিত্রে ২৫ বছর পার করে দিয়েছেন এই নায়িকা। বাংলাদেশের বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা এহতেশামের হাত ধরে ১৯৯৩ সালের ১৫ অক্টোবর অর্থাৎ আজকের এই দিনে বড় পর্দায় আবির্ভাব ঘটে শাবনূরের।

‘চাঁদনী রাতে’ ছবির মাধ্যমে ঢাকাই সিনেমায় অভিষেক হয় তার। ছবিটিতে তার সহশিল্পী হিসেবে ছিলেন সাব্বির। ছবিটি ব্যবসায়িকভাবে সফলতা না পেলেও হাল ছাড়েননি নায়িকা। এরপর শাবনূর নায়ক হিসেবে পান সালমান শাহকে। এই জুটি তাদের বদলে দেয় সিনেমার ক্যারিয়ার। রাতারাতি দুজনে বনে যান বাংলা চলচ্চিত্রের নির্ভরযোগ্য জুটিতে। সালমান-শাবনূর জুটির প্রথম ছবি ‘তুমি আমার’ এটি মুক্তি পায় ১৯৯৪ সালে। ছবিটি ব্যবসায়িকভাবে সাফল্য অর্জন করেন। এরপর সালমান শাবনূরের যতগুলো সিনেমা মুক্তি পেয়েছে সবগুলো ব্যবসাসফল হয়েছে।

সালমানের পর নায়ক রিয়াজের সঙ্গে জুটি বেঁধেও অসংখ্য ছবি উপহার দেন শাবনূর। এই নায়কের বিপরীতে ১৯৯৭ সালে ‘মন মানে না’ ও ‘তুমি শুধু তুমি’ মুক্তি পায়। এরপর ১৯৯৯ সালে রিয়াজ-শাবনূর জুটির ‘ভালোবাসি তোমাকে’ ও ‘বিয়ের ফুল’ ব্যাপক ব্যবসা সফল হয়। সালমান শাহের পর রিয়াজ-শাবনূর জুটি দর্শকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলে। ২০০৩ সাল থেকে এই জুটির চাহিদা তুঙ্গে ছিল।

শাবনূর ২০০৩ সালে অভিনয় করেন মতিন রহমান পরিচালিত ‘মাটির ফুল’, এফ আই মানিকের ‘দুই বধূ এক স্বামী’, আমজাদ হোসেনের ‘প্রাণের মানুষ’, আজাদী হাসনাত ফিরোজের ‘বউ শাশুড়ীর যুদ্ধ’, জিল্লুর রহমানের ‘স্বপ্নের ভালোবাসা’, মহম্মদ হান্নানের ‘নয়ন ভরা জল’ ছবিতে। ২০০৪ সালে এই নায়িকা কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘অন্য মানুষ’, আজাদী হাসনাত ফিরোজের ‘ফুলের মতো বউ’, মিজানুর রহমান খান দীপুর ‘যত প্রেম তত জ্বালা’, শিল্পী চক্রবর্তীর ‘তোমার জন্য পাগল’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ২০০৫ সালে শাবনূর অভিনীত সিনেমার মধ্যে আমজাদ হোসেনের ‘কাল সকালে’, সালাউদ্দিন লাভলুর ‘মোল্লা বাড়ীর বউ’, মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের ‘দুই নয়নের আলো’ এবং ‘আমার স্বপ্ন তুমি’।

‘দুই নয়নের আলো’ ছবিতে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে ক্যারিয়ারের প্রথম ও একমাত্র জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান শাবনূর।

২০০৬ সালে শাবনূর কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস ‘জনম জনম’ অবলম্বনে নির্মিত ‘নিরন্তর’ ছবিতে অভিনয় করেন। পরিচালনা করেন আবু সাইয়ীদ। ২০০৭ সালে মুক্তি পায় মালেক বিশ্বাস পরিচালিত ‘মেয়ে সাক্ষী’, মহম্মদ হান্নান পরিচালিত ‘ভালোবাসা ভালোবাসা’ এবং পি এ কাজল পরিচালিত ‘আমার প্রাণের স্বামী’।

এরপর ২০০৮ সালে পি এ কাজলের ‘১ টাকার বউ’ ছবিতে শাকিব খানের সঙ্গে জুটিবদ্ধ হন শাবনূর। এই ছবিটিও ব্যবসা সফল হয়েছিল। ২০০৯ সালে রিয়াজের বিপরীতে মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘তুমি আমার স্বামী’, এটিএম শামসুজ্জামান পরিচালিত ‘এবাদত’ ও আব্দুল মান্নান পরিচালিত ‘মন বসে না পড়ার টেবিলে’ এবং শাকিব খানের বিপরীতে পি এ কাজল পরিচালিত ‘স্বামী স্ত্রীর ওয়াদা’ ও শাহ মোঃ সংগ্রাম পরিচালিত ‘বলবো কথা বাসর ঘরে’ ছবিতে অভিনয় করেন এই নায়িকা।

২০১০ সালে শাবনূর অভিনয় করেন মনতাজুর রহমান আকবরের ‘এভাবেই ভালোবাসা হয়’, মোহাম্মদ হোসেনের ‘চাঁদের মত বউ’, মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের ‘মন ছুঁয়েছে মন’, চন্দন চৌধুরীর ‘ভালোবেসে বউ আনব’ এবং বি আর চৌধুরীর ‘বধূ তুমি কার’ ছবিতে।

জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকাবস্থায় ২০১১ সালের ৬ ডিসেম্বর ব্যবসায়ী অনিক মাহমুদের সঙ্গে আংটি বদল হয় শাবনূরের। ২০১২ সালের ২৮ ডিসেম্বর বিয়ে করেন তারা। এরপর মিডিয়াকে আড়াল করে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস শুরু করেন শাবনূর। ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর ছেলে সন্তানের মা হন তিনি। তার ছেলের নাম আইজান নিহান।

২০১৩ সালে শাবনূর অভিনীত ‘কিছু আশা কিছু ভালোবাসা’ ছবিটি মুক্তি পায়। ওই ছবিতে তার সহশিল্পী ছিলেন ফেরদৌস ও মৌসুমী। পরিচালনা করেন মোস্তাফিজুর রহমান মানিক।

শাবনূরের পারিবারিক নাম কাজী শারমিন নাহিদ নুপুর। গুণী চলচ্চিত্র নির্মাতা এহতেশাম তার নাম বদলে রাখেন শাবনূর।

দীর্ঘদিন ধরে নতুন কোনও সিনেমায় কাজ না করলেও শাবনূরের জনপ্রিয়তার কোনও ভাটা পড়েনি। এখনো নির্মাতারা শাবনূরকে নায়িকা হিসেবে দেখতে চান। যতদিন দেশীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থাকবে, বেঁচে থাকবেন শাবনূর তার কর্মের গুণে। কারণ চলচ্চিত্র ইতিহাসে শাবনূর এক ইতিহাসের নাম।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ