প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জাতীয় দল নিয়েই কখনও ভাবিনি, ডাক পাওয়া তো দূরের কথা: ফজলে রাব্বি

আবু সুফিয়ান শুভ: ফজলে মাহমুদ রাব্বি। বয়স ৩০ হলেও, বোঝার জো নেই। সদা হাস্যোজ্জ্বল আর মারকুটে ব্যাটিং তাকে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়ে গেছে অন্য উচ্চতায়। সেই উচ্চতা বলতে এমন নয় যে, তার নামের পাশে হাজার হাজার রান। তবে রাব্বি পরিচিত তার ব্যাটিং স্টাইলের জন্য। সোজা ব্যাটের ছক্কায় তার লোভের কথা সকলেরই জানা। প্রায় ১৫ বছর ধরে ক্রিকেট খেলছেন, সেই ২০০৪ সালে ‘এ’ দলে অভিষিক্ত হয়েছেন। এরপর কখনো ঘরোয়া লিগ, কখনো ‘এ’ দল, কখনো বা হালের হাই পারফরম্যান্স ইউনিট (এইচপি)। কিন্তু মূল যে জায়গা, সেই জাতীয় দলে ডাক পাওয়াটা হচ্ছিলো না। সেই ‘কাঙ্খিত’ ডাক এবার পেলেন রাব্বি। বাংলাদেশে যেখানে ৩০ বছর বয়সে ক্যারিয়ার গুটিয়ে যায়, রাব্বির শুরুটা হচ্ছে ঠিক সেখান থেকেই। যেন দেশের ক্রিকেটে বয়সের এই ‘ট্যাবু’ ভাঙতে আসছেন।

আসন্ন জিম্বাবুয়ে সিরিজে বাংলাদেশের ওয়ানডে স্কোয়াডে একমাত্র নতুন মুখ রাব্বি। তার ডাক পাওয়াটা একরকম ‘অপ্রত্যাশিত’ই বলা যায়, অন্তত তিনি নিজে সেটাই স্বীকার করছেন। তবে নির্বাচকদের মতে, রাব্বিকে তারা ‘চোখে চোখে’ রেখেছিলেন আরও আগে থেকেই। নির্বাচক কমিটি সদস্য হাবিবুল বাশার সুমনের চোখে রাব্বি ‘পারফেক্ট প্যাকেজ’। তামিম ইকবাল-সাকিব আল হাসানের ইনজুরির পর দলের এমন দুর্দিনে রাব্বির মতো এমন একটা প্যাকেজের খোঁজেই ছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। সে কারণেই খুলনায় জাতীয় লিগের খেলা শেষে বরিশালের এই ছেলে বাড়ি যাওয়ার পথে শুনলেন সুখবর, পরদিনই ছুটলেন ঢাকার পথে।
হাবিবুল বাশার সুমনের চোখে রাব্বি ‘পারফেক্ট প্যাকেজ। ১৫ বছরে রাব্বির ক্রিকেট ক্যারিয়ারে মাঠের বাইরেও ঘটেছে অনেক কিছু। কখনও এই ক্রিকেটে তাল হারিয়ে জায়গা খুঁজেছেন অন্য চাকরিতে, কখনও বা ক্রিকেটই ছেড়ে দিতে চেয়েছেন। তবে পড়াশোনাটা ঠিক চালিয়ে গেছেন, এসব চড়াই উৎরাইয়ের মধ্যেই পার করেছেন অনার্স ও মাস্টার্স।
কেমন ছিল ফজলে রাব্বির ঘরোয়া ক্রিকেট ক্যারিয়ার? সত্যি বলতে, পরিসংখ্যান দিয়ে বন্ধুর সেই সফরের বিন্দুবিসর্গ টের পাওয়ানো সম্ভব নয়। সর্বশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে চতুর্থ সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক ছিলেন। সেবার প্রাইম দোলেশ্বরের হয়ে ৪৭.২০ গড়ে তুলেছিলেন মোট ৭০৮ রান। সেবারই ‘এ’ দলে ফিরলেন। শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছিলেন, ৬৩ বলে খেলেছিলেন ৫৯ রানের ইনিংস। আয়ারল্যান্ড সফরেও ছিলেন মুমিনুল হক-সৌম্য সরকারদের সাথে, সেখানে দুই ম্যাচে যথাক্রমে ৫৩ ও ৭৪ রানের দারুণ দুটি ইনিংস খেলেন। চলতি জাতীয় লিগের প্রথম রাউন্ডে বরিশালের হয়ে তাক লাগিয়েছেন, রংপুরের বিপক্ষে ১৯৫ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলেন তিনি। প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি থেকে পাঁচ রান দূরে থাকার আক্ষেপ ছিল বটে, সেটা উড়িয়ে দিল জাতীয় দলের ডাক।
সংগ্রাম, পরিশ্রমসহ আরো যত কিছুই থাকুক, ফজলে রাব্বি নিজেকে জিতিয়েছেন। অবশেষে জাতীয় দলের খাতায় নিজের নাম লেখালেন। সবকিছু ঠিক থাকলে, চলতি অক্টোবরে জিম্বাবুয়ে সিরিজেই মিলবে তার স্বপ্নপূরণের দৃশ্য। তবে রাব্বি জানালেন, জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার কথা তো দূরে থাক, সে কথা ভাবতেই পারেননি তিনি। আর সেটা ভাবেননি বলেই হয়তো পারফরম্যান্স করেছেন, ডাকও পাচ্ছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ