প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

১২ মাসে ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি লোকসান বিপিসির

কান্তা আইচ রায় : গত ১২ মাসে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন-বিপিসি বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রির কারণে লোকসান করেছে ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। আর এই ক্ষতি পোষাতে সংস্থাটি ৮ হাজার কোটি টাকার সরকারি ভর্তুকি চেয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ববাজারের সাথে মিল রেখে দ্রুত দাম সমন্বয়ের পদ্ধতি চালু করলে বিপিসির লোকসান হবার কথা নয় এবং দরকার হবে না ভর্তুকিরও।

বিশ্ববাজারে দুই বছরের বেশি সময় ধরে অল্প অল্প করে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। একই সঙ্গে দেশে বেড়েছে এর আমদানি আর ব্যবহার।

আমদানিমূল্যের তুলনায় বিক্রয়মূল্য কম বলে প্রতি লিটার ডিজেলে বিপিসির লোকসান এখন প্রায় সাড়ে ১১ টাকা টাকা। সাড়ে ১৬ টাকারও বেশি লোকসান হয় ফার্নেস অয়েলের লিটারে। আর কেরোসিনে লোকসান হয় লিটারে ১০টাকা।

গত বছরের নভেম্বর থেকেই টানা লোকসান গুনছে বিপিসি। শুরুতে প্রতিদিন গড়ে ১০ কোটি টাকা লোকসান হলেও গত মাসে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৬ কোটিতে। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরে জ্বালানি তেল আমদানি ও বিক্রিতে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কা বিপিসির।

বিপিসির কর্মকর্তারা বলছেন, লোকসান বাড়লেও, নির্বাচনকে সামনে রেখে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঝুঁকি নিতে রাজি নয় সরকার। তবে লোকসান কমাতে বিশ্ববাজারের সাথে দাম সমন্বয়ের তাগিদ বিশ্লেষকদের।

এদিকে ক্ষতি পোষাতে গত জুলাইয়ে ৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি আবেদনের চিঠি সরকারের কাছে পাঠিয়েছে বিপিসি। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভর্তুকি না দিয়ে বিপিসির লাভ-ক্ষতির নিরীক্ষা আর সরকারি শুল্ক সমন্বয় জরুরি।

২০১৪ থেকে টানা ৪ বছর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কম থাকলেও বিপিসি দেশের বাজারে জ্বালানির দাম কমায়নি। এতে সরকারি সংস্থাটির লাভ হয় প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। দেশে বছরে প্রায় ৭৫ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল প্রয়োজন হয়, যার ৮০ শতাংশই আমদানি করতে হয়। সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ