প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রধান নির্বাচন কমিশনার শোনেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের কথা : রিজভী

শিহাবুল ইসলাম: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কারো কথাই শোনেন না, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে যা বলা হয়, যে বার্তা আসে সেটাই তিনি শোনেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইভিএম চান বলেই প্রধান নির্বাচন কমিশনারও চান।

সোমবার সকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচন কমিশনার মাহাবুব হোসেন তালুকদার ইভিএম এর বিরোধীতা করার বিষয়টি সম্পর্কে দৃষ্টিআকর্ষণ করলে রিজভী বলেন, আমি মনে করি উনি যথার্থই করেছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের যে আচরণ, উনি কারো কথাই শোনেন না। প্রধান প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে যা বলা হয়, যে বার্তা আসে সেটাই তিনি শোনেন। আজকে এতগুলো রাজনৈতিক দল, এমনকি সরকারের অঙ্গীভূত মহাজোটেরও কিছু দল ইভিএম এর বিরোধিতা করেছে। অধিকাংশ রাজনৈতিক দল বিরোধিতা করেছে, নাগরিক সমাজ বিরোধিতা করেছে, সাংবাদিকদের যে প্রতিনিধি দল গেছে, তারাও বিরোধিতা করেছে, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চান বলেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার চান (ইভিএম)। যাদের বিবেক আছে, যাদের কমন সেন্স অনেক স্ট্রং তারা তো এর বিরোধিতা করবেই। কারণ নির্বাচন কমিশনের সংবিধান স্বীকৃত কিছু স্বাধীনতা রয়েছে। সে স্বাধীনতা অনুযায়ী তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু যখন দেখা যায় নির্বাচন কমিশনের কিছু কিছু কর্মকর্তা সেই স্বাধীনতাকে ভোগ না করে নিজেদের আত্মাকে সরকারের কাছে বিক্রি করে দেন, সেখানে কিছু কিছু লোক তো বিরোধিতা করবেই। সে জন্য আমরা প্রতিবাদ করা দেখেছি। কারণ, একতরফা নির্বাচনের জন্য যদি কোন কোন কর্মকর্তা উৎসাহী হয়ে থাকেন এবং সেখানে কোন কর্মকর্তা যদি নোট অব ডিসেন্ট দেন তাহলে সব মানুষেরই এতে সমর্থন থাকবে। প্রত্যেকটি মানুষ, জনগণ চায় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন। শুধু অবাধ অংশগ্রহণমূলক হলেই হবে না সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে হবে। সব দল অংশগ্রহণ করলো কিন্তু ভোটাররা ভোট দিতে পারল না এটা অবাধ সুষ্ঠু হতে পারে না।

মাওয়া ও শিবচরের জনসভায় গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করেন বিএনপির এই মুখ্য পাত্র। তিনি বলেন, অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী আজগুবি, উদ্ভট, স্ববিরোধী নানা কথা বলেছেন। যা জাতিকে হতবাকই করেনি, মানুষ মুচকি হেসেছেও। আসলে তিনি তাঁর বক্তব্যে নিজ দলের অনাচারগুলো অন্যের ওপর দায় চাপিয়ে বক্তব্য রেখেছেন। আমি প্রধানমন্ত্রীকে কয়েকটি প্রশ্ন করতে চাই, ২০০৬ সালের অক্টেবরে আপনি যখন লগি বৈঠা নিয়ে আপনার কর্মীদের ঢাকায় আসতে বলার নির্দেশ দিয়ে দলীয় লোকদেরকে দিয়ে ২৮ অক্টোবরে লাশের ওপর নৃত্য করালেন, তারপরেও কী আপনাকে শান্তির দূত বলতে হবে? দেশের সাধারণ মানুষের মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে আপনি নিজেকে একক ভাষ্যকারে পরিণত করে বক্তৃতায় অন্যকে খুনী, দুর্নীতিবাজ বলছেন-অথচ খুন, জখম যে আওয়ামী শাসনের ঐতিহ্য তা কিন্তু মানুষ ভুলে যায়নি। মানুষ ভুলে যায়নি ‘৭২ থেকে ‘৭৫ এ হাজার হাজার প্রগতিশীল নেতাকর্মীর হত্যার কথা, ভুলে যায়নি প্রথম বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ শিকদারের হত্যাকাণ্ড ও এই হত্যাকাণ্ডের পর আস্ফালন-এরপরেও কী

ছাত্রদলের সাবেক এই নেতা বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দী করে এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় একের পর এক সাজা দিয়ে আপনার ক্রোধাগ্নী নিবার্পণ করতে পারেননি, এর উপর মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে পাথর চাপা দিয়ে সারাজাতির দম বন্ধ করতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ নানা কালাকানুন করে-আপনারা গণতন্ত্রকেই লকআপ করেছেন। এখন মানুষ মন খুলে কথা বলতে এবং হাসতেও ভয় পায়। মানুষ এখন ডিজিটাল আতংকে ভুগছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ