প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সন্দেশ

ইকবাল আনোয়ার

কল্যাণী মাসিমা ছিলেন, লম্বা আর বাঁকানো আঙ্গুল,

ফরিদা বিদ্যায়তনে তখন কো এডুকেশন,

পাতলা নাক, লম্বা ভিষণ ফরসা মুখ।

ক্লাসে এসে সে আঙ্গুল মুখে মাঝখানে

একদম লম্বা করে রেখে, বুঝাতেন একেবারে চুউপ!

কি ভিষণ ভয়ের মুরতি তিনি, ছিপছিপে দেহে

ছিপও রাখেন হাতে, আমি একটু বেশি

আশকারা পাই, ভালো ছাত্র ভেবেছিলেন আমাকে।

 

ভেবেছিলেন আমি বৃত্তি পেয়ে

করবো উজ্জ্বল স্কুলের মুখ।

তাই বৃত্তির সিট ঈশ্বর পাঠশালায় পড়লে,

বাইরে দাঁড়িয়ে থাকেন, ডাব আর সন্দেশ হাতে,

অভয় দেয়ার ফাঁকে ফাঁকে বলেন, কি আসতে পারে।

 

আমার তখন, ডবল টেনশন, কি করে রাখি তার মান!

যা ছিলো মনে, তাও আসে না স্মরণে।

এদিকে আবার বন্ধু ভিষণÑবাকিরুল, আমারই সামনে সিট,

বললো একটা অংক দেখাতে তাকে, দেখাতে গিয়ে সময় যে হলো পার।

এতে একটা অংক আর করা হলো না আমার!

 

বৃত্তি পেলাম না, তাই, মন খারাপের কথা কি বলি,

যেনো আমি মিশে যেতে যদি পারতাম কোন মতে!

 

কল্যাণী মাসীমা আমায় তখন সান্তনা দেন, জড়িয়ে বুকে,

সন্দেশ দিয়ে হাতে, তার দেহে মাতৃদুগ্ধের ঘ্রাণ পাই আমি।

সে দিনের সন্দেশটার স্বাদ-বিস্বাদ আজো টের পাই,

যেন মেঘে ঢাকা আকাশে রোদের রোদন জগৎময়!

 

(এ লেখা আমার কল্যাণী মাসিমাকে উৎসর্গ করা,

তিনি তখনকার দিনে ছবিতেও অভিনয় করেছিলেন)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত