প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সন্তানের নৈতিক অবক্ষয় রোধে করণীয়

আহমদ আবদুল্লাহ: ইসলাম হলো স্বভাবজাত ধর্ম। যা স্বভাব-প্রকৃতির বিরুদ্ধ, ইসলাম তা সমর্থন করে না। তাই ইসলাম মানেই পূর্ণাঙ্গ শান্তি। সমাজে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা করাই ইসলাম তথা কোরআন হাদিসের লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্যে আমাদের জীবন ও সম্পত্তি, ঈমান, আখলাক, ইজ্জত আব্রু, বিশুদ্ধ ও সুস্থ চিন্তা বা বুদ্ধিবৃত্তি ও ভবিষ্যৎ বংশধরদের নিরাপত্তা বিধান রাষ্ট্র, সমাজ ও মুসলিম মিল¬াতের নৈতিক দায়িত্ব। এই দায়িত্ব কি আমরা যথাযথ পালন করছি?

আমাদের ছেলে-মেয়েরা বিভ্রান্ত হচ্ছে ধীরে ধীরে। বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকে তারা দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। অথচ আমরা তাদের সামনে কার্যকর কোনো আদর্শ তুলে ধরতে পারছি না। প্রতিদিন কোমলমতি ছেলে মেয়েরা টেলিভিশন, মুভি, ভিডিও, ইন্টারনেট, পত্রপত্রিকা, ম্যাগাজিন, বই-পুস্তক ও বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনায় যৌনতার মুখোমুখি হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী লাম্পট্যের স্বাধীনতা, উলঙ্গবাদী আন্দোলন, সমকামী বিয়ে, যৌনকর্মীদের পেশার স্বীকৃতির জন্য মিছিল মিটিং, দেশের সমুদ্র সৈকতে পর্যটক মার্কেটগুলোতে ইয়াবার রমরমা ব্যবসা। এসব কিসের আলামত দেখা যাচ্ছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইয়াবা টেবলেট সৈন্যরা খেতো শক্তি বৃদ্ধির জন্য। কিন্তু এখন এর সঙ্গে এমন কতগুলো উপাদান যুক্ত হয়েছে, যার ফলে মানুষের জীবন নাশ হচ্ছে। চরিত্র ধ্বংসের এই সয়লাব আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে? সুতরাং মুসলিম জাতি হিসেবে এই সয়লাব রোধ করা আমাদের ঈমানী দায়িত্ব।

এ ব্যাপারে ইসলামের দাবি হচ্ছে: ছেলেমেয়েরা যাতে বিয়ে বহির্ভূত মেলামেশায় জড়িয়ে পড়তে না পারে, এরূপ পরিবেশ তৈরি করা। শারীরিক মেলামেশা শুধু বিবাহিত দম্পতির গোপন অধিকার, এর অর্থ হচ্ছে স্বামী-স্ত্রীর শয়ন কক্ষের গোপনীয়তা যেনো বাইরের কারও কানে বা দৃষ্টিতে না পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। বিবাহিত দম্পতির কেউই অন্য কোনো পুরুষ বা স্ত্রীলোকের সঙ্গে ব্যভিচার সহায়ক অন্যকোনো অন্তরঙ্গ সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবে না।

পর-স্ত্রী, পর-নারী বা পর-পুরুষের সঙ্গে কণ্ঠলগ্ন হয়ে নাচানাচি বা পবিত্রতার খেলাফ অন্যকোনো কাজকর্মে অংশগ্রহণ করা যাবে না। অবস্থাভেদে একজন পুরুষ চারজন পর্যন্ত স্ত্রী রাখতে পারবে। তবে চারজনের সঙ্গে সমান আচরণ করতে হবে। এর বিকল্প হিসেবে অসংখ্য নারীর সঙ্গে সংশ্রব রাখা যাবে না। মুসলিম পরিবারের বিয়ে অবশ্যই সহজ করতে হবে। যৌতুক ইসলামে পরিপন্থী। এর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে বিয়ে যখন টাকা পয়সার মাধ্যমে হয়, তখন এটি বিয়ে হয় না। এটা বলা যায় এক ধরনের পতিতাবৃত্তি। নারী ও পুরুষের মাধ্যে যখনই কোনো সন্দেহের সৃষ্টি হয়, তখনই কোরআন ও সুন্নাহর শরীয়াহ মতে এর সমাধান করতে হবে।

সন্তানের বৈষয়িক শিক্ষার ব্যবস্থা করা পিতামাতার দায়িত্ব। সঙ্গে সঙ্গে চরিত্র গঠনে পিতামাতাকে কুশলী ভূমিকা পালন করতে হবে। এর জন্যে অল্পবয়স থেকে সন্তানকে ইসলামি জ্ঞানের আলোকে নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে। সাত বছর বয়সে নামাজের তাগিদ এবং দশ বছর বয়সে নামাজ না পড়লে হালকা বেত্রাঘাত করতে রাসুল (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে ছেলেমেয়েদের নৈতিক চরিত্র গঠনে তার ব্যক্তিজীবনের একটি মৌলিক কাজ। এ কাজে পিতামাতা সফল হতে পারলেই সন্তানের ভবিষ্যৎ জীবন হবে আলোকিত। কাজেই শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে অবৈধ যৌনচার থেকে জাতি ও রাষ্ট্রকে বাঁচাতে পারেন একমাত্র পিতামাতার গঠনমূলক ভূমিকা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ