প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যে অন্যের দোষ প্রকাশ করে আল্লাহও তার দোষ প্রকাশ করে দেন

হাবীবুল্লাহ সিরাজ: হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা মুসলমানদের দোষ ত্রুটি ভুলভ্রান্তি খুঁজে বের করো না। যে ব্যক্তি অন্যের দোষ খোঁজে, অন্যের দোষ তালাশে থাকে এবং প্রকাশ করে দেয়; স্বয়ং আল্লাহ তার দোষ প্রকাশ করে দেয়। আর আল্লাহ যার দোষ ত্রুটি ভুলভ্রান্তি প্রকাশ করে তাকে নিজের বাড়িতেই লাঞ্ছিত করে’ আবু দাউদ ৪৮৮০।

আমাদের সমাজে অধিক প্রচলিত ও পরিচিতি চরিত্রগুলোর একটি হলো কথা ফাঁস করে দেওয়া, অন্যের দোষ প্রকাশ করে দেওয়া। কারো গোপন বিষয়ে অবগত হতে দেরি হয়, কিন্ত তা প্রকাশ করতে দেরি হয় না। বিশেষত এই দোষ আমাদের মা’বোনদের মাঝে একটু বেশিই দেখা যায়; কারো সম্পর্কে বাজে বা মন্দ একটি সংবাদ শুনলেই হলো, কোন যাচাই বাছাই নেই, যতক্ষণ পর্যন্ত অন্যের কাছে না বলে ততক্ষণ পর্যন্ত তার যেন শান্তি নেই। অথচ অন্যের দোষ গোপনের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী অসংখ্য অগণিত রয়েছে। বাণীতে রয়েছে প্রচুর সর্তকতা এক হাদীসে তিনি ইরশাদ করেন, হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে যে বান্দা অন্য বান্দার দোষ ত্রুটি এই পার্থিব জীবনে গোপন রাখে মহান আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন তার দোষ ত্রুটি গোপন রাখবেন’ মুসলিস। বুখারি শরীফের এক বর্ণনায় এসেছে। এ হাদীসটিও হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘আমার সব উম্মতের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। কিন্তু দোষত্রুটি প্রকাশকারীর গুনাহ মাফ করা হবে না। দোষ ত্রুটি সে এভাবে প্রকাশ করে যে; কোন ব্যক্তি রাতের বেলা কোন কাজ করলো। অতপর সকাল হলো। মহান আল্লাহ তায়ালা তার এ কাজটি গোপন রাখলেন। সে (সকালবেলা মানুষের কাছে) বলবে, হে অমুক! আমি গত রাতে এই এই কাজ করেছে। অথচ সে রাত যাপন করেছিল এমন অবস্থায় যে মহান আল্লাহ তায়ালা তার কাজগুলো গোপন রেখেছিল আর সে সকালবেলা আল্লাহর ওই আড়াল করা বিষয়টাকে সে সরিয়ে দিল।

অন্যের দোষ গোপন রাখা একটি মানবীয় গুণ। এর দ্বারা মানুষ বিশ্বস্ত হয় আবার গোপন না করার দ্বারা বিশ্বস্ততা হারায়। সম্পর্ক হয় বিনষ্ট। একটি সুন্দর ও গ্রহণীয় চরিত্রের দাবি হলো তাতে অন্যের দোষ গোপন রাখার সক্ষমতা থাকা। যদি মানুষ ব্যাপক হারে অন্যের দোষ প্রকাশ করতে থাকে; তাহলে পৃথিবী তার গতিপ্রকৃতি হারাবে নিমিষেই। আপনি এখন যাকে মানছেন- যখন তার গোপন ও খারাপিগুলো প্রকাশ হবে; তখন আপনি আর তাকে মানতে পারবেন না। যাকে আপনি বাবা বলছেন- যদি তার এমন গোপন বিষয় ফাঁস হয়, যা আপনি সহ্য করতে পারবেন না, তখন আপনিই বলুন; আপনার অবস্থা কী বেগতিক হবে? এভাবে যদি সকলে অন্যের গোপন দোষ যা আল্লাহ গোপন রাখেন তা ফাঁস করে দেয়, দুনিয়া আর দুনিয়া থাকবে না। একারণেই মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন আমি যদি মানুষের গোপন প্রকাশ করে দেয়; কারো কারো চেহারা কালো কুৎসিত হয়ে যাবে। পাপের দাগ চেহারায় ভেসে উঠবে। আর এরকম করলে মানুষ তার আপন অবস্থায় চলতে পারবে না। আমরা নিজেরাতো জানি আমি কি রকম পাপী! তাহলে কেন আমি অন্যের পাপের প্রকাশক হবো? সর্বশেষে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একটি সতর্কবাণী উল্লেখ করে আলোচনার ইতি টানছি। তিনি বলেন, যে কেউ অন্যের দোষ গোপন করবে আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন’ মুসলিম ২৬৯৯। মহান রাব্বুল ইজ্জতের দরবারে আমাদের প্রার্থনা হলো তিনি যে আমাদেরকে অন্যের দোষ গোপন রাখার তৌফিক দান করেন। আমিন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত