প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রুহিন হোসেন প্রিন্সের প্রশ্ন
ড. কামাল হোসেনরা কি ক্ষমতাকেন্দ্রিক কারও ক্রীড়নক হবেন?

আশিক রহমান : বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ড. কামাল হোসেনরা কি ক্ষমতাকেন্দ্রিক কারও ক্রীড়নক হবেন? এনডিটিভি বাংলার নিজস্ব স্টুডিওতে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে দ্বিদলীয় ধারার রাজনীতির একটি অংশ বিএনপি, অপরটি আওয়ামী লীগ। বিএনপির রাজনীতি নানা কারণে প্রশ্নবিদ্ধ। তারা একাত্তরের ঘাতক জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে জোট করেছে। ফলে তাদের কাছ থেকে মানুষের আশা করার কিছু নেই। তাদের অতীত ভূমিকা সম্পর্কেও মানুষ জানে।

এক প্রশ্নের জবাবে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ড. কামাল হোসেনরা জামায়াতভুক্ত জোটকে সঙ্গে নিয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে কিছু একটা দাবি আদায়ে যাবেন, এখনো পর্যন্ত সেরকম বাস্তবতা আছে বলে মনে হয় না। বরং এ দেশের ভোটের রাজনীতিতে এখন যারা ক্ষমতায় রয়েছেন, আগে যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা নানা সময় বলেছেন, ভোটের রাজনীতি শুধু জনগণের ওপরই নির্ভর করলে হয় না, এর সঙ্গে বাইরের কতগুলো শক্তিও রয়েছে। আমার জানতে খুব ইচ্ছে করে, ড. কামাল হোসেন সাহেবরা কি ক্ষমতাকেন্দ্রিক কারও ক্রীড়নক হবেন? জানি না। তবে আমার প্রত্যাশা সেটি তারা হবেন না। তাদের আমরা রাজপথের রাজনীতিতে দেখতে চাই।

তিনি বলেন, জামায়াতকে মেনে নিয়েই কামাল হোসেনরা ঐক্য প্রক্রিয়ার যাত্রা শুরু করেছেন। কারণ তারা যে অংকের কথা বলছেন তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন ধারার সৃষ্টি করেছে। এ দেশের রাজনীতিতে এর চল নেই। একদিকে বিএনপির সঙ্গে জামায়াত, অন্যদিকে ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গেও রয়েছে বিএনপি। এটা কি নতুন ধারা নয়?

তিনি আরও বলেন, সংবাদ সম্মেলন করে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের কথা বারবার বলছেন ড. কামাল হোসেন। অপরদিকে একাত্তরের ঘাতকদের নিয়ে ঐক্য করছেন। এটা কেন করছেন তিনিই ভালো বলতে পারবেন। তবে জামায়াতকে মেনে নিয়েই ঐক্য করেছেন। এ নিয়ে সংশয়ের কারণ নেই। মেনে নিয়ে কেউ কিছু করলে তখন নীতি-নৈতিকতার উপাদান থাকে না। নীতি- নৈতিকভাবে পরাজিত হয়ে এই জোট করলো, কি করলো না সেটা প্রধান নয়। জনগণের কাছে গিয়ে যে কাজটা করবেন সেটাও প্রধান হবে না, প্রধান হবে রাজনীতির ওপর মহলের খেলার কতগুলো অংশীদার হওয়া। আমার বিবেচনায় সেটিই হবে। সেটা বাংলাদেশের জন্য ভালো খবর হবে কিনা সময় বলে দেবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ড. কামাল হোসেন সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা, সম্মানিত একজন মানুষ। আমরা তাকে একজন জাতীয়তাবাদী নেতা হিসেবেই মনে করি। তার কাছ থেকে আমাদের প্রত্যাশা ছিল, এই দুই (বিএনপি-আওয়ামী লীগ জোট) ধারার বাইরে গিয়ে ভিন্ন শক্তিকে নিয়ে নীতিনিষ্ঠ অবস্থান থেকে একটা আন্দোলনে নামবেন। তাহলে ওই জোটের একটা ভবিষ্যৎ থাকতো। বাংলাদেশের জনগণের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণেও জোটের একটা ভূমিকা থাকতো। কিন্তু সেই জায়গাটা তিনি করলেন না কেন জানি না। তিনি কি জনগণের ওপর ভরসা না করে অন্য কারও ওপর ভরসা করছেন? যদি সে রকম কিছু হয় তাহলে ড. কামাল হোসেনর প্রতি যতটুকু ভরসা জনগণের রয়েছে তা মিলিয়ে যেতে সময় লাগবে না। তবে ভাগ-ভাটোয়ারার দ্বন্দ্বের কারণেই সম্ভবত বি. চৌধুরী ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে শামিল হননি।

তিনি বলেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে গেলে প্রকৃতপক্ষে জনগণকে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা দরকার। কিন্তু আমার পর্যবেক্ষণ ড. কামাল হোসেন সাহেবসহ অন্যরা তো রাজপথেই নেই। অনেকদিন ধরেই উনাকে বলছিলাম রাজপথে নামুন, রাজপথই বলে দেবে আন্দোলনের প্রক্রিয়া কী হবে। এটা তো হয়নি। তিনি নামেননি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ