Skip to main content

ড. কামালের ঐক্যের ডাক জাতির কোন শক্তির স্বার্থে ?

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী : অবশেষে বহু নাটকীয়তার পর ডা. বি. চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্প ধারা ছাড়া ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি ঐক্যফ্রন্ট নামক জোটের যাত্রা শুরু হয়েছে। তবে এই ঐক্যফ্রন্টের মূল দল হচ্ছে বিএনপি এবং জামায়াত। আরও স্পষ্ট করে বললে বলতে হবে, ২০-দলীয় জোট একাধিক কৌশলে এই ফ্রন্টের মূল শক্তি হিসেবে রয়েছে। বাহ্যিকভাবে আ স ম আবদুর রব এবং মাহমুদুর রহমান মান্না ফ্রন্টের ‘গুরুত্বপূর্ণ’ নেতা হিসেবে দেখলেও তাদের দুজনেরই তেমন নেই কোনো গণভিত্তি। ড. কামাল হোসেনের গণফোরামও এখন আর জনগণের ভরসার জায়গায় নেই। যে দলের মূল নেতা জনগণের কাছে প্রায় তিন দশকে সাংগঠনিকভাবে দাঁড়াতে পারলেন না, তাকে কেন্দ্র করে ঐক্যফ্রন্ট কতটা ‘জাতীয় ঐক্যে’ প্রভাব ফেলবে তা বলাই বাহুল্য। তবে তিনি এই মুহূর্তে দুর্বিপাকেনেতৃত্বের থাকা বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর নেতাকর্মীদের সমর্থন ও সহযোগিতায় নতুনভাবে নেতা হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছেন। যে নেতা আসলে বিএনপি ও জামায়াতকেই হয়তো রাজনৈতিকভাবে সংহত কিংবা পুনরুদ্ধার করতে ‘ঐতিহাসিক’ ভূমিকা রাখবে বলে আমার মনে হয়। এ ক্ষেত্রে তিনি সফল হলে জামায়াত-বিএনপি তাকে স্মরণ করবে, ব্যর্থ হলে তার শেষ জীবনে দু’কূলই হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এমনিতেই তিনি গণফোরাম প্রতিষ্ঠার পর থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে ধীরে ধীরে একা হয়ে পড়তে থাকেন, গণফোরামও আওয়ামী লীগ-বিএনপির বিকল্প কোনো দল হতে পারেনি। এর দায় নিশ্চয়ই তার এককভাবে রয়েছে। কেননা, গণফোরাম প্রতিষ্ঠাকালে আওয়ামী লীগ-বিএনপির রাজনীতিতে হতাশ অনেকেই মনে করেছিলেন যে, ড. কামাল হোসেন যেহেতু সংবিধান প্রণেতা, খ্যাতিমান আইনিজীবী, দেশে-বিদেশে আইনজ্ঞ হিসেবে সুখ্যাতি রয়েছে, রাজনীতিতে সব সময়ই ভালো কথা বলেন, জনগণ ও সংবিধানের কথা বারবার উচ্চারণ করেন, সে কারণে তিনি হয়তো রাজনীতিতে শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়ার বিকল্প নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবেন। কিন্তু তাকে নিয়ে যাদের আশা ছিলো তা অচিরেই ফিকে হয়ে গেল। তিনি নিজেও এখন পেশা ও রাজনীতির উভয় ক্ষেত্রেই নিঃসঙ্গ হয়ে গেলেন। সেখান থেকেই হয়তো তার আবার নড়েচড়ে ওঠা! তবে তিনি নড়লেন তার সারাজীবনের লালিত আদর্শের জায়গা থেকে, স্থান করে নিলেন তার সমালোচকদের ঘরে, তারাই তাকে সামনে নিয়ে অগ্রসর হতে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কেননা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কারণে জামায়াত পুরাতন নেতাশূন্য, বিএনপি খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়া ছাড়া সংকটে পড়েছে। উভয় দলেরই এখন বড় প্রয়োজন একজন নেতার জাকে সামনে রেখে তাদের সংকট থেকে উদ্ধারের সুযোগ ঘটবে। ড. কামাল হোসেনকে সে কারণেই তাদের এতো প্রয়োজন। ড. কামাল শেষ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের পুনরুজ্জীবনেরই নেতা হতে যাচ্ছেন হয়তো। লেখক : অধ্যাপক, ইতিহাস বিভাগ, বাউবি

অন্যান্য সংবাদ