প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চট্টগ্রামে গেল ৪ প্রাণ

সমকাল: লক্ষ্মীপুর থেকে চট্টগ্রামের আকবরশাহ থানার ফিরোজ শাহ এলাকায় শুক্রবার মেয়েকে দেখতে এসেছিলেন বিবি জোহরা। মেয়ে ও আড়াই বছরের নাতনিসহ ঘুমের মধ্যে মাটিচাপা পড়েন তিনি। শনিবার রাত ২টার দিকে রেলওয়ের মালিকানাধীন একটি পাহাড় ধসে এ মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। প্রায় একই সময় ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’র প্রভাবে ভারি বর্ষণে নগরের পাঁচলাইশ থানার হিলভিউ এলাকায় দেয়াল ধসে নূর আলম লাল্টু (৩৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

বিবি জোহরার মেয়ের জামাই নূর মোহাম্মদ বলেন, প্রথমে ঘরের ওপর মাটি পড়লে অন্য চার ছেলেমেয়েকে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাই। তখন আমার শাশুড়ি, স্ত্রী ও ছোট মেয়ে ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন। তাদেরও নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এর মধ্যেই ঘরের ওপর মাটি এসে পড়বে, বুঝতে পারিনি।

নূর মোহাম্মদের বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলার শান্তিরহাট এলাকায়। আর বিবি জোহরার বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার ভবানীগঞ্জে। ফিরোজ শাহ কলোনির এক নম্বর ঝিল এলাকায় ময়লার গাড়ি চালান নূর মোহাম্মদ। তার আরও দুটি মেয়ে রয়েছে। ওই বাসায় তারা সাতজন থাকতেন।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক জসিম উদ্দিন জানান, পাহাড়ধসের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি গাড়ি ঘটনাস্থলে যায়। সকাল ৭টা পর্যন্ত একটানা কাজ চালিয়ে মাটির নিচে চাপা পড়া অবস্থা থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। তারা হলেন- বিবি জোহরা (৭০), মেয়ে নূরজাহান বেগম (৪৫) ও নূরজাহানের আড়াই বছর বয়সী মেয়ে ফয়জুন্নেছা আক্তার ওরফে নূর আয়শা।

ঘটনাস্থলে যাওয়া চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দেলোয়ার হোসেন বলেন, ফয়’স লেকের দক্ষিণে রেলওয়ের মালিকানাধীন পাহাড়টি ইজারা নিয়েছে কনকর্ড গ্রুপ। সেখানে পাহাড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি পরিবার আছে। ছয় দিন ধরে আমরা এখানে মাইকিং করেছি। উচ্ছেদও করেছি। যে পরিবারটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিকার হয়েছে, তাদেরও সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টি কম দেখে শুক্রবার বিকেলে তারা ফিরে আসে। এর মধ্যে রাতে পাহাড় ধসের ঘটনাটি ঘটল। তিনি জানান, প্রত্যেকের দাফনের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে শনিবার রাত ১টার দিকে নগরের পাঁচলাইশ থানার রহমান নগর এলাকায় দেয়াল ধসে নূরে আলম লাল্টু নামে এক রিকশাচালক চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে মারা যান। তার বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে। চট্টগ্রামে রহমান নগরের হিলভিউ আবাসিক এলাকার পাশে একটি ভাড়া ঘরে থাকতেন তিনি।

বায়েজিদ ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার এনামুল হক জানান, টানা ভারি বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হওয়ায় বড় একটি গাছ শিকড় ভেঙে নিচে পড়ে যায়। এতে পাহাড়ের পাদদেশে থাকা কয়েকটি কাঁচা-পাকা বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় দেয়াল ধসে নূর আলম গুরুতর আহত হন। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ঝুঁকিপূর্ণ বসতিদের সরাতে মাইকিংও কাজ হচ্ছে না :ঘূর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে গত কয়েক দিন ধরেই চট্টগ্রামসহ আশপাশের এলাকায় টানা বৃষ্টি হচ্ছিল। ঝুঁকি বিবেচনায় পাহাড়ের পাদদেশ থেকে বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিংও করা হয়। ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বলেছিল প্র্রশাসন। কিন্তু দুর্ঘটনায় নিহত পরিবারের সদস্যরা জেলা প্রশাসনের অভিযানে সরে গেলেও বৃষ্টি কমে যাওয়ায় আবারও ফিরে আসে তারা। ফলে ভারি বর্ষণের কারণে পাহাড়ে চাপা পড়ে পরিবারটি।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দেলোয়ার হোসেন জানান, পাহাড়ের পাদদেশের বাসিন্দাদের সরে যেতে নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেটরা অভিযানও পরিচালনা করেছেন। তার পরও এ ধরনের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ