প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঐক্যে বিএনপি খুশি চ্যালেঞ্জও আছে

কালের কণ্ঠ : বিকল্পধারার সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে বাদ দিয়েই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যাত্রা করায় খুশি বিএনপি। তবে এই ফ্রন্ট টিকে থাকার বিষয়ে এখনো বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। বিশেষ করে বিএনপির সামনে এই চ্যালেঞ্জ এখন সবচেয়ে বেশি। কারণ আসন বণ্টন ও ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রশ্নে এখনো বেশ কিছু বিষয়ে ঐকমত্য হতে হবে। পাশাপাশি ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে অন্য দলগুলোর সম্পর্ক টিকে থাকারও বিষয় আছে। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে বেশ কিছু ইস্যুতে এর আগে ঝামেলা হয়েছিল ড. কামালের, যা পরে নিষ্পত্তি হয়েছে। এদিকে মাহী বি চৌধুরীর সঙ্গে কথোপকথনের অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়ে যাওয়ায় রুষ্ট হয়েছেন মান্না। তাঁর দল নাগরিক ঐক্যের দু-একজন নেতা ওই ঘটনায় বিকল্পধারার দিকে আঙুল তুলছেন বলে জানা গেছে।

বিকল্পধারা ফ্রন্টে না থাকায় জামায়াত ইস্যু নিয়ে এখন আর কোনো কথা হবে না। বিষয়টি চাপা পড়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিকল্পধারার ১৫০ আসন দাবির বিষয়টিও আর নেই। মূলত ওই দুই ইস্যুতে ‘ছাড়’ দিয়েই বিএনপির সঙ্গে ঐক্যে রাজি হয়েছে গণফোরাম, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্য। ফলে জামায়াতকে বাদ দিয়ে ২০ দলীয় জোটের অন্য দলগুলোকে ঐক্যফ্রন্টে আনার পাশাপাশি জোট সম্প্রসারণেরও উদ্যোগ নেবে বিএনপি।

একটি সূত্রের দাবি, বিভাগীয় শহরে সমাবেশ কর্মসূচি সিলেট থেকে শুরু করতে চায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এ বিষয়ে শিগগিরই লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ঘোষণায় বিএনপি অবশ্যই খুশি। তবে আমরা আরো খুশি হব যদি সরকারের বাইরে থাকা দলগুলো এই ফ্রন্টের সঙ্গে যুক্ত হয়।’ তিনি বলেন, ‘এখানে কাউকে বাদ দেওয়া বা অন্তর্ভুক্ত করার প্রশ্ন নেই। জোট গঠন হয় কিছু ইস্যুতে মতৈক্যের ওপর। এই ফ্রন্ট হয়তো সেই মতের প্রতিফলন। তবে সময় শেষ হয়ে যায়নি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিকূল অবস্থার মধ্য দিয়ে যেভাবে ঐক্য হয়েছে একই প্রক্রিয়ায় আসন বণ্টন বা ক্ষমতার ভারসাম্য প্রশ্নেও সমস্যা হবে না।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়ে গেছে। এ বিষয়ে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। তবে ক্ষমতার ভারসাম্য ও আসন বণ্টন অবশ্যই কিছুটা চ্যালেঞ্জ আছে। তবে এ ক্ষেত্রে বিএনপি দায়িত্বশীল হবে বলে আমরা আশা করি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মাহী বি চৌধুরীর সঙ্গে কথোপকথনের অডিও প্রকাশে আমি বিস্মিত ও অবাক হয়েছি। কোন দিক থেকে এটি করা হয়েছে আমি জানি না। তবে এটা খুব খারাপ কাজ হয়েছে।’

জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন অবশ্য মনে করেন চ্যালেঞ্জ বা ইস্যুগুলো সামনে আসবে ফ্রন্টের বৈঠক হলে। তিনি বলেন, ‘বৈঠকে বসলে আলাপ হলে তখন বিভিন্ন ইস্যুতে মত-দ্বিমত উঠে আসে। কিন্তু এগুলো আরো পরে আসবে।’

রবের সঙ্গে বৈঠক থেকেই ঝামেলা শুরু : বদরুদ্দোজা চৌধুরীর জন্মদিন ছিল গত ১১ অক্টোবর। সে উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানাতে ১২ অক্টোবর রাতে তাঁর বাসায় ফুল নিয়ে হাজির হয়েছিলেন জেএসডি সভাপতি আ স ম রব। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আবদুল মালেক রতন। রবের উদ্দেশ্য ছিল শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি কিছু রাজনৈতিক ইস্যু নিষ্পত্তি করা। কেননা পরের দিনই ঐক্যফ্রন্টের সব দফা ও লক্ষ্য চূড়ান্ত করার কথা ছিল। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, নিষ্পত্তির বদলে সেই রাতে বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরীর কথার সূত্র ধরেই ঘুরে যায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ঘোষণার মোড়। কারণ ওই দিন রব ও বি চৌধুরীর সামনে মাহী ঘোষণা করেন, যেভাবেই হোক বিএনপির সঙ্গে ঐক্য করতে তিনি দেবেন না। মাহী এমনও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে ওরা তাঁদের জবাই করবে। যদিও মাহী বলেন, ওই ধরনের কথা তিনি বলেননি। তাঁর মতে, এগুলো মিথ্যা কথা এবং নিজেদের রক্ষার জন্য অনেকে এ ধরনের মিথ্যা বলছেন। এদিকে আ স ম রব এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তাঁর স্ত্রী জেএসডির সহসভাপতি তানিয়া রব বলেন, ‘এ ধরনের কথা বাইরে জানাজানি হওয়ায় রব সাহেব এ প্রশ্নে কথা বলতে চাচ্ছেন না।’

বি চৌধুরীর সম্পর্ক জোড়া লাগেনি বিএনপির সঙ্গেও : খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যেভাবেই হোক মাহীর ওই কথা চলে যায় ড. কামাল হোসেনসহ বিএনপি নেতাদের কাছে। কামাল হোসেন ও বি চৌধুরীর মধ্যে নেতৃত্বের প্রশ্নে স্নায়ুযুদ্ধ আগে থেকেই ছিল। বি চৌধুরীসহ বিকল্পধারার সন্দেহ, কামাল হোসেনকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। অন্যদিকে রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বি চৌধুরীর সঙ্গে বিএনপির দূরত্বও বিরাজমান ছিল। বিএনপি নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক হলেও ওই সম্পর্ক জোড়া লাগেনি। তা ছাড়া বিএনপির কাছে খবর ছিল, ইচ্ছাকৃতভাবে ঐক্যফ্রন্ট গঠনে কালক্ষেপণ ও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে বিকল্পধারা।

ওই দলের কারো কারো সঙ্গে সরকারের গোপন আঁতাত থাকার গুঞ্জন রাজনৈতিক অঙ্গনে থাকলেও বিএনপি এটি বিবেচনায় না নিয়ে সব কিছু এগিয়ে নিতে চেয়েছে। কিন্তু শেষ দিনে ১২ অক্টোবরের বৈঠকেও বিকল্পধারা জামায়াত ও ক্ষমতার ভারসাম্য ইস্যুতে অনড় থাকে। ফলে বিএনপি ধরে নেয় যে বিকল্পধারা শেষ পর্যন্ত ঐক্যে আসবে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ