প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফের উত্তপ্ত গাজা

সমকাল: ফিলিস্তিনের গাজা সীমান্ত ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শুক্রবার সেখানে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভে ইসরায়েলি বাহিনী গুলি চালিয়ে অন্তত ৭ জনকে হত্যা করেছে। এ সময় আরও অন্তত ১৪০ জন আহত হয়েছে। গাজা সীমান্তে অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভে ১৫ সহস্রাধিক ফিলিস্তিনি অংশ নিয়েছিল। বিক্ষোভকালে কিছু ফিলিস্তিনি সীমান্ত বেষ্টনী ভেঙে ভেতরে ঢুকে সেনা চৌকিতে হামলা চালালে পাল্টা গুলি চালানো হয় বলে দাবি করেছে তেল আবিব। এ নিয়ে চলতি বছরের মার্চ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ২০০ ছাড়াল। খবর রয়টার্সের।

১৯৪৮ সালে শরণার্থী হওয়া লাখ লাখ মানুষকে ইসরায়েলের দখলে থাকা এলাকায় ফিরতে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে গাজা সীমান্ত বরাবর ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল হামাসসহ বিভিন্ন সংগঠন। এ বছর বিক্ষোভের শুরুর দিন হিসেবে তারা ৩০ মার্চকে বেছে নেয়। ১৯৭৬ সালের এই দিনে ভূমি দখলের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ছয় বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছিল। ভূমি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার ৭০তম বার্ষিকীতে ১৫ মে এ কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বিক্ষোভ বন্ধ হয়নি।

গাজার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে সম্প্রতি মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে মিসর। এ প্রচেষ্টার মধ্যেও সাপ্তাহিক বিক্ষোভগুলোতে তেল আবিবের গুলি চালানো অব্যাহত আছে। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবারও ৭ ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করেছে বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি। ইসরায়েল বলছে, বিক্ষোভকারীরা সেনা সদস্য ও সীমান্ত বেষ্টনী লক্ষ্য করে পাথর, বিস্ম্ফোরক দ্রব্য, আগুন, বোমা ও গ্রেনেড ছোড়ে। এ সময় একদল বিক্ষোভকারী ইসরায়েল-গাজা সীমান্ত বেষ্টনীতে বোমার বিস্ম্ফোরণ ঘটায় এবং বেষ্টনীর ভাঙা অংশ দিয়ে ২০ জনের মতো বিক্ষোভকারী ভেতরে প্রবেশ করে। তাদের কয়েকজন ইসরায়েলের একটি সেনা চৌকিতে হামলা চালায়। এ সময় নিরাপত্তারক্ষীরা পাল্টা গুলি চালালে হামলাকারীরা সবাই নিহত হয় বলে জানান ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল জনাথন কর্নিকাস।

ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এ বিক্ষোভে ফিলিস্তিনিরা ২০ লাখ বাসিন্দার শহর গাজার ওপর থেকে ইসরায়েলি ও মিসরের অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। ২০০৭ সাল থেকেই গাজা হামাসের নিয়ন্ত্রণে আছে। ইসরায়েল ও এর মিত্ররা এ সশস্ত্র সংগঠনকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবেই বিবেচনা করে। সীমান্তে বিক্ষোভের ডাক দিয়ে হামাসই সহিংসতা উস্কে দিয়েছে বলে অভিযোগ তেল আবিবের। গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে গত এক দশকেই ইসরায়েলের সঙ্গে তিনবার যুদ্ধ জড়িয়েছে হামাস। শেষবারের সংঘাত হয়েছিল ২০১৪ সালে। তবে সহিংসতা উস্কে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীটি। সীমান্তের এ বিক্ষোভে ইসরায়েলি বাহিনীর মারণাস্ত্র ব্যবহারের কড়া সমালোচনা করেছে জাতিসংঘও। সংকট নিরসনে কাতার, মিসরসহ কয়েকটি পক্ষের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে হামাস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে গোষ্ঠীটির শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়া জানিয়েছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ