প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গ্যাস ফিলিং স্টেশন বন্ধ, দুর্ভোগ

সমকাল: চাঁদপুর-কুমিল্লা সড়কের পাশে গড়ে ওঠা ৫টির মধ্যে ৩টি গ্যাস ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকায় জেলায় চলাচলকারী যানবাহনগুলো দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। গ্যাসচালিত শত শত যানবাহন গ্যাস না পেয়ে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে। বেড়ে যাচ্ছে বর্তমানে স্বল্পসংখ্যক চলাচলকারী যানবাহনগুলোর ভাড়া। এতে করে যাত্রীদের ক্ষোভ বাড়ছে। ৫টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে সর্বশেষ শুক্রবার রাতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেল সেটকো সিএনজি স্টেশনটি। এর আগে গত জুন মাসে বকেয়া বিলের কারণে ইন্ট্রাকো এবং একই মাসে মিটার ত্রুটি থাকার কারণে হাজীগঞ্জের মান্নান ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কবে নাগাদ আগের দুটি স্টেশনে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ করা হবে তা বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ বলতে পারছে না।

বাখরাবাদ গ্যাস চাঁদপুর জোনের ম্যানেজার মহিবুর রহমান জানান, ২৬ জুন প্রায় ৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকার বকেয়ার দায়ে ইন্ট্রাকো গ্যাস ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাদের বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও তারা বিল পরিশোধ করেনি। তবে তিনি জানান, এই মাসের ১ অক্টোবর তারা ৫ কোটি টাকা পরিশোধ করেছেন। আর ৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকার প্রতি মাসে একটি কিস্তি করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১ কোটি টাকা তাদের সিকিউরিটি মানি জমা দেওয়ার কথা। তা তারা এখনও দেয়নি। সেটি পাওয়া গেলে গ্যাস সরবরাহ আবার শুরু হতে পারে। হাজীগঞ্জের মান্নান গ্যাস ফিলিং স্টেশন বন্ধ হওয়ার ব্যাপারে এই কর্মকর্তা জানান, তাদের কোনো বকেয়া ছিল না। গ্যাস সরবরাহ করা মিটারটিতে সংশ্লিষ্ট উচ্চতর প্রকৌশল বিভাগ যথেষ্ট ত্রুটি পেয়েছে বলেই এটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে ওই মালিক কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেও কোনো সুরাহা পাননি। যতক্ষণ পর্যন্ত তা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ করা যাবে না।

এদিকে শুক্রবার রাতে হঠাৎ করেই সেটকো সিএনজি স্টেশনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। সেটকো সিএনজি ফিলিং স্টেশন ম্যানেজার মো. রুহুল আমিন মিয়াজীর জানান, ওই দিন রাতে হঠাৎ করেই গ্যাস সরবরাহের মূল পাইপটি লিক হয়ে যায়। ফলে তারা গ্যাস সরবরাহ সন্ধ্যার দিকেই বন্ধ করে দেয়। স্টেশনটি বন্ধ হওয়ার আগ মুহূর্তে কয়েকশ’ গ্যাসচালিত গাড়ি পাম্পে এসে আটকা পড়ে। চাঁদপুর-কুমিল্লার ব্যস্ততম এই মহাসড়কে ৫টির মধ্যে ৩টি স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্যাসচালিত যানবাহন মালিক-শ্রমিকরা বেকায়দায় পড়েছেন। তবে তিনি জানান, ত্রুটি সারাতে বাখরাবাদ গ্যাসের ৩টি টিম একযোগে কাজ করছে। এই কাজ শেষ হতে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। চার মাস ধরে দুটি গ্যাস ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকা এবং নতুন করে আরেকটি বন্ধ হওয়ার ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান জানান, ৫টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে ৩টি বন্ধ হয়ে গেলে তো দুর্ভোগ হবেই। তবে আমরা বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ এবং ডিলার কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিয়েছি যত দ্রুত সম্ভব তারা যেন এই গ্যাস ফিলিং স্টেশনের ত্রুটি সারিয়ে অতি দ্রুত চালু করে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ