প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খাশোগজি নিখোঁজকে কেন্দ্র করে বিপাকে সৌদি যুবরাজ

নূর মাজিদ : জামাল খাশোগজিকে যদি সত্যিই সৌদি আরব হত্যা করে থাকে তবে তাদের কঠিন শাস্তি পেতে হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মার্কিন সিনেট এবং বিরোধী ডেমোক্রাটদের অনেকের তীব্র আপত্তি স্বত্বেও সৌদি আরবের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রয় বন্ধ করা হবেনা বলেও তিনি জানান। ট্রাম্প মনে করেন, এমন সিদ্ধান্ত নেয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক নির্বুদ্ধিতার কাজ হবে। তবে সৌদি আরবকে শাস্তি দিতে ভিন্ন উপায় ভেবে দেখছেন তার প্রশাসন, গত শনিবার হোয়াইট হাউজে গণমাধ্যম কর্মীদের সামনে এই ঘোষণা দেন ট্রাম্প। বর্তমানে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সিনেট এবং কংগ্রেস উভয়স্থানেই তীব্র চাপের মুখে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। খাশোগজি নিখোঁজের হওয়ার প্রথম দুই দিন তিনি কিছুই জানেন না এমন বক্তব্য দিয়েছিলেন।

তবে তুর্কি কর্তৃপক্ষ খাশোগজিকে হত্যার বিবরণ সহ অডিও ও ভিডিও রেকর্ডিং প্রমাণ রয়েছে এমন দাবি করার পরেই সুর পাল্টে ফেলেন ট্রাম্প। নিজ মিত্র মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রশাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করছেন তিনি। মূলত, ট্রাম্প এবং তার কন্যার জামাতা জ্যারেড কুশনারের প্রত্যক্ষ সমর্থন এবং মদদেই কাতারের ওপর অবরোধ এবং ইয়েমেনে সামরিক অভিযান চালানোর প্রয়াস পান ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান।

তবে খাশগজি ইস্যুতে এবার নিজের ইমেজ নিয়েই সঙ্কটে পড়েছেন নতুন সৌদি আরবের ইমেজ মেকারখ্যাত যুবরাজ বিন সালমান। বিশেষজ্ঞরা জানান, এবার আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী মার্কিন নির্বাচনে খাশোগজি ইস্যু মার্কিন ক্ষমতার কেন্দ্রে অবস্থান করে নেবে। কারণ,জামাল খাশোগি শুধু ওয়াশিংটনের প্রভাবশালী সাংবাদিক মহলের সঙ্গে কাজ করেছেন শুধু তাই নয় বরং ওয়াশিংটনের অনেক নীতি-নির্ধারকের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। বিশ্ব গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গেও তার সখ্যতা ছিল। তারা সকলেই খাশোগজির মৃত্যুকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছেন না। এই বিষয়ে খাশোজগির বন্ধুস্থানীয় ব্রিটিশ-ফিলিস্তিনি একাডেমিক আজ্জাম তামিমি বলেন, খাশোগজি নিখোঁজ হওয়ার কিছুদিন পূর্বেই তিনি লন্ডন এসেছিলেন, সেসময় আমাদের দেখা হলে তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেছিলেন তাকে নিয়ে চিন্তিত হবার কিছু নেই। সেসময় তিনি লন্ডনস্থ সৌদি দূতাবাসে গেলে সেখানকার কর্মকর্তারা তাকে দেখে বিস্মিত হন। তবে খাশোগজির সঙ্গে তারা ভালো আচরণ প্রদর্শন করেন। এসময় তাকে জানানো হয় যে, তুরস্কে ফিরে সৌদি কনস্যুলেটে গেলেই তার বিয়ের কাগজপত্র সংক্রান্ত কাজে সাহায্য করা হবে। আজ্জাম তামিমির এমন বক্তব্যে পরিষ্কার সাক্ষ্য পাওয়া যায় খাশোগজির জন্য তুরস্কে ফাঁদ পেতেই অপেক্ষা করছিল সৌদি কূটনীতিক মিশন।

এদিকে সকল মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের সকল অপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন শিশুসুলভ আচরণের লক্ষ্মণ হিসেবে দেখা হলেও এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এই সুযোগে ট্রাম্পের সৌদি আরব বিষয়ক নীতি নিয়ে চলছে জটিল রাজনৈতিক সমীকরণ। দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন রাজনীতিতে সৌদি আরবকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হতো, তবে এটি হচ্ছে এমন এক ধরণের সম্পদ যা এক সময় দায়ে পরিণত হতে পারে। বর্তমানে অনেক মার্কিন সিনেটর ও কংগ্রেসমান সৌদিকে এই দৃষ্টিতেই বিচার করছেন। এমনকি সিনেটের বিদেশ নীতি বিষয়ক কমিটিও তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই বিষয়ে আরব গালফ স্টেটস ইন্সটিটিউডের প্রাক্তন নন রেসিডেন্ট ফেলো সিগুর্ড নিউবায়ার বলেন, ওয়াশিংটনে যখনই মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হতো তখন আমরা সকলেই খাশোগজির কাছে পরামর্শ নিতে যেতাম।তখন তিনি খুব বিনয় এবং প্রজ্ঞার সঙ্গে তার মুল্যবান মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের সামনে তুলে ধরতেন। তিনি এখানে অনেক প্রভাবশালী বন্ধু রেখে গেছেন। তারা মার্কিন রাজনীতির খুব ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, আমার মনে হয় সৌদি আরব তার ব্যক্তিত্ব ও প্রভাবকে হাল্কা করে দেখেছিল। এই ইস্যুতে মার্কিন রাজনীতির জটিল পাঁকে ফেঁসে গেলে ক্রাউন প্রিন্সের পদ থেকে বিন সালমানকে সরে যেতে হবে। যা তার জন্য হবে নির্ঘাত আত্নহত্যার শামিল। আল জাজিরা/ ইকোনমিক টাইমস

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ