প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নৌকার টিকিট পেতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টির পাশাপাশি বিদেশেও দৌড়ঝাঁপ

জিয়াউদ্দিন রাজু : আওয়ামী লীগের নৌকার টিকিট প্রত্যাশীরা ঢাকাসহ সারাদেশে পোস্টার, বিলবোর্ড ও ব্যানারের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়নের নানা ফিরিস্তি তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন সমাবেশে বড় বড় মিছিল নিয়ে হাজির হচ্ছে। একমাত্র লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে নৌকার টিকেট হাসিল করা।

এ জন্য তারা গ্রুপিং-লবিংসহ যা করা দরকার সবই করছেন। এক্ষেত্রে তাদের বাজেটের নির্দিষ্ট কোনো অংক নেই। যখন যা প্রয়োজন তাই খরচ করছেন। এদের অনেকে তদবিরের জন্য শুধু দেশেই নয়, দেশের বাইরেও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, এ মাসের ৩০ তারিখ থেকে শুরু হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষণ-গণনা। তাই গণসংযোগে ব্যস্ত মনোণায়ন প্রত্যাশিরা।

নেত্রকোনা-৫ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ইঞ্জিনিয়ার তুহিন আহমেদ খান বলেন, আমরা তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের কাজে যাচ্ছি। সেখানে পথসভা উঠান বৈঠক করছি। সরকারের উন্নয়নমূলক কাজগুলো তুলে ধরছি।

নেত্রকোনা-২ আসনের মনোনয়ন দৌড়ে আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমে জোর গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের উপকমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক মো. শামছুর রহমান লিটন ওরফে ভিপি লিটন।

নারায়ণগঞ্জের-৩ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী কায়সার হাসনাত বলেন, আমি এমপি থাকাকালে এই অঞ্চলের অনেক উন্নয়নমূলক কর্মকা- করেছি। কিন্তু গত নির্বাচনে মহাজোটের কারণে আমি প্রার্থী হতে পারিনি। আমার পরিবার ও বংশধররা

আজীবন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছে। তাই আমার কাছে মনোনয়ন মুখ্য উদ্দেশ্য নয়। আমার উদ্দেশ্য সাফল্য বজায় রাখা এবং এলাকায় গিয়ে নৌকার প্রচার করা।

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক প্রতিনিয়ত নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পিতার ন্যায় তিনিও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে গ্রাম-গঞ্জের হাট-বাজারে নিয়মিত আড্ডার মাধ্যমে সরকারের উন্নয়নচিত্র তুলে ধরছেন।

শরীয়তপুর-২ আসনের প্রত্যান্ত অঞ্চলে সেবার হাত বাড়িয়ে দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম। একইসাথে তিনি পদ্মা সেতু, নড়িয়ায় বেড়িবাঁধসহ বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে আবারো শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনার লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজবাড়ী-২ (পাংশা, কালুখালী, বালিয়াকান্দি) আসনের নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামী সেচ্ছাসেবকলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ সোহেল রানা টিপু।

ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের আনাচে-কানাচে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে ওঠান বৈঠক করছেন অধ্যক্ষ সুজাউল করিম চৌধুরী বাবুল। সরকারের উন্নয়নচিত্র তুলে ধরে ব্যাপক প্রচার-প্রচারনা ও পথসভা এবং গনসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন চাঁদপুর ৩ (সদর ও হাইমচর) আসনের কেন্দ্রীয় মৎসজীবী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা মৎসজীবীলীগের সভাপতি রেদওয়ান খান বোরহান। রাজধানীর ঢাকার মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও বসে নেই।

ঢাকা-৫ আসনের মশিউর রহমান মোল্লা সজল, ঢাকা-৬ আসনের চৌধুরী আশিকুর রহমান লাভলু নিজ নিজ সংসদীয় আসনে সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরে গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সরকারের গত ১০ বছরের উন্নয়ন তুলে ধরে ঢাকা-৮ আসনে শোডাউন করছেন যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট।

এবিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, জনমত জরিপ, তৃণমূলের মতামত, সব কিছু মিলিয়ে যিনি উইনেবল ক্যান্ডিডেট তাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে।

বিষযটি নিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ফারুক খান বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা নয়, নির্বাচনকে সামনে রেখে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করছি আমারা। দলের হাইকমান্ডের অনেক নেতা জানান, আওয়ামী লীগ শান্তিপূর্ণ গণসংযোগের মাধ্যমে তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত এভাবে নির্বাচনী মাঠে থাকবে।

সাবেক মন্ত্রী ফারুক খান জানান, আমরা আশা করি যে মনোনয়ন পাবে তাকে সবাই মিলে সাহায্য করবে। যদি কেউ তার সঙ্গে কাজ না করে বা তাকে সাহায্য না করে, বিদ্রোহী প্রর্থী হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে আমাদের গঠনতন্ত্রে দলীয় শৃঙ্খলা বিধি কাজের জন্য সুস্পষ্ট বিধান আছে সেই বিধান অনুযায়ী তাদের বিরূদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ