প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

১০ বছরে বিএনপি’র ২৫ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

শিহাবুল ইসলাম : গত দশ বছরে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৯০ হাজার ৩৪০টি মামলায় আসামী হয়েছে ২৫ লাখ ৭৫ হাজার, জেলে রয়েছে ৮০ হাজার ৬০৯জন, নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৫১২জন। এরমধ্যে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর হাতে নিহত ৭৮২ জন। অজ্ঞাত আসামী ২ লাখ ৭৬ হাজার ২৭৭জন। গুম ৭২জন। তবে মোট গুম হয়েছে বিভিন্ন দলের ১২০৪ জন। এদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী গ্রেফতার দেখায় ৭৮১জনকে। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সালের ০৫ অক্টোবর পর্যন্ত এ পরিসংখ্যান বিএনপির দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে কোনো সরকারের আমলে জেল জুলুমের এটা সর্বোচ্চ রেকর্ড। খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, কেন্দ্রীয়, জেলা-উপজেলা ছাড়িয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলের নেতাকর্মীদেরও মামলায় জাড়ানো হয়েছে। বিএনপির কর্মী না হলেও সর্মথক হওয়ার কারণে অনেকের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মামলা ও তথ্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. সালাহ উদ্দিন খান (পিপিএম), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা শরীফুল ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা তারেক আহমেদ। দেশের প্রতিটি জেলা ঘুরে ৩ মাস ২৬ দিনে মামলার এ তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করেছেন।

তথ্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. সালাহ উদ্দিন খান জানান, সবচেয়ে বেশি মামলা ও আসামী করা হয়েছে ঢাকা বিভাগের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এরমধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলায় ২ হাজার ৩৯৪ টি মামলায় আসামী ৪২ হাজার ৭৭২ জন, মুন্সিগঞ্জে ২৪৮ মামলায় আসামী ৪০ হাজার ৯০০ জন, মানিকগঞ্জে ৪৯৯ টি মামলায় ৩৫ হাজার ২৩৮ জন, গাজীপুর জেলায় ৬৯০টি মামলায় ৪২ হাজার ৪৮১, ঢাকা জেলায় ১ হাজার ৮০৮টি মামলায় আসামী ১ লাখ ৩১ হাজার ৯৬৩ জন।

এছারা সারাদেশের সকল জেলাতে মামলা থাকলেও সব চেয়ে বেশি মামলা করা হয়েছে : রাজশাহী বিভাগের সিরাজগঞ্জ জেলায় ৭৩১ টি মামলায়, আসামী ২৬ হাজার ৫৭৫ জন, পাবনায় মামলা ৬৫৪টি, আসামী ৩০ হাজার ৭৭৫, বগুড়া জেলায় ৮০৬টি মামলায় আসামি ৩৫ হাজার ৮৫৯, নাটোর জেলায় ১৫৮৮ মামলায় আসামি ৩৫ হাজার ৪৭৫জন।

চট্টগ্রাম বিভাগের ফেনী জেলায় ১৭১৪ টি মামলায় আসামী ৩২ হাজার ৭৯২ জন, চট্টগ্রাম জেলায় ২ হাজার ৪০২টি মামলায় আসামী ৩২ হাজার ৩৮৮ জন, নোয়াখালী জেলায় ২ হাজার ৯৯টি মামলায় আসামী ৩৭ হাজার ৫৮৫ জন আসামী।
রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা জেলায় ১হাজার ৪৯টি মামলায় আসামী ৩৮ হাজার ৫১৮ জন, লালমনির হাট জেলায় ৯১২ মামলায় ৩২ হাজার ৮৭৭ জন আসামী। ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোনায় ৩৯৩টি মামলায় আসামী ৩৯ হাজার ১০৮ জন, ময়মনসিংহ জেলায় ১ হাজার ১৯টি মামলায় ৩৩ হাজার ৮৯৬ জন আসামী।

বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী জেলায় ৯২১টি মামলায় ৪৩ হাজার ৭৬৪ জন, বরিশাল জেলায় ১ হাজার ৪৪২টি মামলায় ৩৪ হাজার ৬৭৪ জন আসামী। এছাড়া

খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা জেলায় ২ হাজার ৪৮টি মামলায় ৩০ হাজার ৪৬৩ টি, ঝিনাইদহ জেলায় ১ হাজার ১৬টি মামলায় ৩২ হাজার ৫৮৮টি, মেহেরপুর জেলায় ৬৭৭ টি মামলায় ৩৪ হাজার ১৬১ জন, যশোর জেলায় ১ হাজার ১৯৩টি মামলায় ৩৪ হাজার ৯০৫ জন, কুষ্টিয়া জেলায় ১ হাজার ৪৩০টি মামলায় ৩২ হাজার ৩৬৯ জন আসামী।

সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলায় ৬২৩টি মামলায় ২৫ হাজার ৭৮৪ জন, মৌলভী বাজার জেলায় ৭২৩ টি মামলায় ১৬ হাজার ৮৪৮ জন আসামী।

এসকল মামলা মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রনদিত ভাবে বিএনপির নেতা- কর্মীদের দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এরা আমাদের সক্রিয় নেতা-কর্মী। আন্দোলনে যেনো তারা মাঠে না নামতে পারে, এজন্য এদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। এদের আন্দোলনে নামানোর কোনো ব্যাবস্থা, কিভাবে সক্রিয় করবেন বা আন্দোলনে আসবে? প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এদের আন্দোলনে নামানোর বিষয়টা আমাদের কৌশল। এটা তো আপনাদের বলবো না। আমরা এবং আমাদের নেতা-কর্মীদের মধ্যে যে সাহস আছে সেটা নিয়েই চলছে। এবং কিভাবে টিকে থাকতে হয় সেটা তারা শিখে গেছে। অসংখ্য মামলা, গুম, খুন সব করার পরেও আমাদের নেতা-কর্মীরা হতাশ হয়নি, দল ত্যাগ করেনি। মার খেয়ে, বার বার জেলে গিয়ে নিশ্ব হয়ে যাচ্ছে অনেকে, তারপরও কেউ নরে নাই সরে নাই। তো এটা হচ্ছে সবচেয়ে বড় সম্পদ বিএনপি’র। আন্দোলনের ডাক দিলে সবাই রাস্তায় নেমে আসবে।

বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের মামলা সহ দলের সিনিয়র নেতা থেকে শুরুকরে তৃনমূল নেতাদের মামলায় গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করে থাকেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং সিনিয়র আইনজীবী এ্যাড. খন্দোকার মাহাবুব হোসেন। তিনি বলেন, সরকার নির্বাচনকে বাঞ্চাল করার জন্য এবং ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন করতে, একটা নীল নকশা নিয়ে সরকার এই ধরনের কাজ করছে। আমরা বিশ্বাস করি যখনই আমাদের নেত্রী মাঠে নামতে বলবেন, তখন জেল জুলুম, গুলি, গুম উপেক্ষা করে তারা মাঠে নামবে। ভোটের ও গণতন্ত্রের অধিকার আদায় করার জন্য। আপনারা দেখেছেন, বিএনপি’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে শেষ মূহুর্তে অনুমতি দেওয়ার পরও লাখ লাখ মানুষ উপস্থিত হয়েছিল। সোহরাওয়ার্দী উদ্দ্যানে ২৪ ঘন্টার নোটিশেও লাখো মানুষ এসেছিল। সারা দেশের মানুষ, আমাদের নেতা-কর্মীর বাইরে যারা বিএনপি সমর্থন করে না তারাও চায় না এই সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত