প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডিপোতে পড়ে আছে বিআরটিসির ভলভো বাস

সুজিৎ নন্দী: অযত্ন ও অবহেলায় রাজধানীতে চলাচলরত বিআরটিসির বিলাসবহুল ভলভো বাসগুলো পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বিআরটিসির কল্যাণপুর, জোয়ারসাহারা বাস ডিপোতে ডবল ডেকার বাসগুলোতে সিট কাভার থেকে শুরু করে ইঞ্জিনের কোন যন্ত্রাংশ নেই। যন্ত্রাংশহীন অবস্থায় শুধু গাড়ির খোলস পড়ে আছে। গাড়িগুলো চলাকালে কোন সংস্কার কাজ ও কোন যন্ত্রাংশ লাগানো হয়নি। ‘সেবায় অঙ্গীকারাবদ্ধ’ শ্লোগান নিয়ে শুরু হওয়া ভলভো বাসগুলো রাস্তায় মাত্র চার বছর চলার পর একে একে বন্ধ হতে থাকে। শুরু থেকে এর কোন রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। বিআরটিসির যান্ত্রিক ও প্রশাসন বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাসগুলোর টায়ার নেই, ভেতরে ভূতুরে পরিবেশ। ময়লা আর আবর্জনা পূর্ণ। সংস্কারের অভাবে পাঁচ থেকে সাত বছর আগে গাড়িগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এগুলোর বিক্রির প্রক্রিয়াও বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ করেনি। উদ্ধতন কর্মকর্তা জানান, ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে ৫০টি বিলাসবহুল ‘ভলভো’ বাস বিআরটিসি কিনে আনে। প্রায় ৬০ কোটি টাকা মূল্যের ওই গাড়িগুলো ২০০২ সাল থেকে রাজধানীতে চলতে শুরু করে।

এই বাসের জন্য ১৩১ জন ড্রাইভার, ৪২জন মেকানিক, ৩০জন ক্লিনার এবং ১৪৭জন কর্মচারি, সুপারভাইজার ও লাইনম্যান নিয়ে যাত্রা শুরু। বিআরটিসির উদ্ধতন কর্মকর্তা বলেন, ভলভো বাস চালু হবার কারণে রাজধানীতে যাত্রী সেবার মান উন্নত হয়েছিলো। কিন্তু এর ধারাবাহিকতা রাখা হয়নি। ভলভো বাস চালু হবার পর কোন যন্ত্রাংশ আমদানি করা হয়নি। যাদের দায়িত্বে ছিলো তাদের দায়িত্বহীনতা ও খামখেয়ালীর কারণে এটি বন্ধ হয়ে গেছে।

ভলভো গাড়ির টঙ্গী ও মিরপুর থেকে মতিঝিল রুটে বাস চলাচল করে। বিআরটিসি সূত্র জানায়, এই বাসগুলো যে রাস্তায় চলবে, সে রাস্তায় বেশি ধূলা থাকবে না। ফাস্ট মুভিং লেনের রাস্তা ছাড়া এই গাড়ি চলাচল করা খুবই সমস্যা। ঘন ঘন ব্রেক আর অপরিচ্ছন্নতার জন্য গাড়িগুলো খারাপ হয়। সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিলো প্রশিক্ষিত ক্লিনারের অভাব। বাস পরিষ্কারের জন্য ইলেকট্রনিকস মেশিনের মাধ্যমে পরিষ্কারের নিয়ম থাকলেও মিরপুর-১২ বিআরটিসির বাস ডিপোতে বাসের ভেতর ও বাইরে পনি দিয়ে পরিষ্কার করা হতো।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ