প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বি. চৌধুরীকে ফাঁকি দিয়ে ড. কামালের ঐক্যফ্রন্ট: ভবিষ্যত কী?

সমীরণ রায় : রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে ড. কামাল হোসেন, আ স ম আব্দুর রব ও মাহমুদুর রহমান মান্না জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ঘোষণা করেছেন। ঐক্যফ্রন্ট ঘোষণা হয়েছে ৭ দফা দাবি ও ১১টি লক্ষ্য নিয়ে। ৭ দফার প্রধান দাবি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকারের পদত্যাগ, জাতীয় সংসদ বাতিল, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার।

এখন প্রশ্ন উঠেছে অন্য জায়গায়, ড. কামাল হোসেনের বাসায় দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল বি. চৌধুরীকে। কিন্তু বি. চৌধুরীকে কোনো কিছু না জানিয়ে হঠাৎ করেই জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঘোষণা দেন ড. কামাল হোসেন। এতে চটেছেন, বি. চৌধুরী ও মাহি বি. চৌধুরী। বি. চৌধুরী বলেছেন, ড. কামাল হোসেন শর্ত ভেঙ্গেছেন।

তাঁর দুই শর্ত ছিল, স্বাধীনতাবিরোধীদের ঐক্য প্রক্রিয়াতে যুক্ত না করা ও জাতীয় সংসদে কোনো দলকে এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে না দেওয়া। ড. কামাল হোসেন এই দুই শর্তে রাজিও হয়েছিলেন। কিন্তু বিএনপিকে ডেকে এনে কামাল হোসেন সে শর্ত মানেননি। এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। কেউ কেউ বলছেন, ড. কামাল হোসেন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই ধাপ্পাবাজি শুরু করেছেন।

আবার কেউ কেউ বলছেন, ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী ড. কামাল হোসেনদের সঙ্গে ব্যাঈমানী করতে পারেন, তা আচ করতে পেরেই তাকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে নেওয়া হয়নি। সাধারণ মানুষ এও বলেছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট দেশের জনগণের জন্য কতটুকু মঙ্গল বয়ে আনবে! শুধু তাই নয়, এর ভবিষ্যতই বা কি?

এদিকে, বিকল্পধারাকে কেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে রাখা হয়নি, প্রশ্ন তুলেছেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহি বি. চৌধুরী। এমনকি মাহি বি. চৌধুরী ও মাহমুদুর রহমান মান্নার একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হয়েছে। তাতে মাহি বি. চৌধুরী বলেছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ‘রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র’। এই ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তে মাহমুদুর রহমান মান্না ও আব্দুর রব শিকার হচ্ছেন এবং এটাতে জড়িত হননি বলে নিজেদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

যদিও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া, যুক্তফ্রন্ট গঠনের পর থেকেই আওয়ামী লীগ একটু হতাশ হয়ে পড়েছিল। কিন্তু এই হতাশা আরও বাড়িয়ে তুলেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর। যদিও আওয়ামী লীগের অনেক নেতারা মনে করেন, ড. কামাল হোসেন, আ স ম আব্দুর রব, মাহামুদুর রহমান মান্নাদের কোনো ভোট ব্যাংক নেই। তাদের নিজস্ব একটা স্বত্তা আছে। ফলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে মাথা ঘামিয়ে কোনো লাভ নেই। এমনকি আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ডা. কামাল হোসেনের বিএনপির সঙ্গে ঐক্য, দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে ঐক্য। তিনি এখন নৌকা ছেড়ে ধানের শীষে গেছেন। কিন্তু ধানের শীষে ধান নেই, আছে চিটা।

অর্থাৎ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে দেশের রাজনীতিতে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, আদৌ কি রাজনীতিতে এই ঐক্য কাজে আসবে? এতে দেশের ভবিষ্যত কি? এমন প্রশ্ন থেকে ড. কামাল হোসেনরা কি বের হয়ে আসতে পারবেন?

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ