প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কৌশলগত পরিকল্পনায় ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ

তরিকুল ইসলাম : বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি ইন্দো-প্রশান্ত কৌশলগত পরিকল্পনায় বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ যেন খাদ্য উৎপাদন, যোগাযোগ ব্যাবস্থায় সাফল্য, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত ও সেনা দক্ষতা বৃদ্ধিতে আরো এগিয়ে যেতে পারে সেই সহযোগিতা করতে চায় দেশটি। এশিয়ায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের পর বাংলাদেশকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর।

এ তথ্য নিশ্চিত করে রোববার দেশটির পররাষ্ট্র দফতরের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গত মাসের ১০ তারিখে হাওয়াইয়ের হনুলুলুতে উভয় দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের এক বৈঠক হয়। সেখানে এশিয়ার দেশগুলোর স্থিতিশীলতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের সাথে আরো শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ার তাগিদ অনুভব করে। এ ছাড়া উভয় দেশের দ্বিপাক্ষিক সামরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা কীভাবে বৃদ্ধি করা যায় তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ প্রধান জেনারেল জোফেস এফ ডানফের্ড ও বাংলাদেশের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাহফুজুর রহমান।

দেশটি এমন কোনও পরিকল্পনা নিতে চায় না, যা বাস্তবায়ন করতে বাংলাদেশের মনে হবে তাদের বাধ্য করা হচ্ছে বা সার্বভৌমত্বকে ক্ষুন্ন করা হচ্ছে। বাংলাদেশের বিষয়ে এটাই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জানিয়ে ডানফোর্ডের অফিস থেকে এক বার্তায় বলা হয়, ইন্দো-প্রশান্ত কৌশলের অংশ হিসেবে আমরা এমন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে কেউই দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে বা শ্রমিকের অধিকার খর্ব করে অথবা পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত না করে প্রতিযোগিতায় অন্যায় সুবিধা ভোগ করতে না পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের একটি ফ্যাক্ট শিট অনুযায়ী, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যে ৭২০ কোটি মার্কিন ডলারের বাণিজ্য হয়েছে। পোশাকজাত ও টেক্সটাইল দ্রব্যে যুক্তরাষ্ট্রই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে মূলত কৃষিপণ্য ও মেশিনারি আমদানি করে বাংলাদেশ, যার পরিমাণ ১৪০ কোটি ডলার। যা ২০১৬ সালের চেয়ে ৬৩ শতাংশ বেশি। তবে এরপরও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৪২০ কোটি ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়ে গেছে বাংলাদেশের।

বর্তমানে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় উৎস যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৭ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশে দেশটির সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ছিল ২৩ শতাংশ। মার্কিন কোম্পানি শেভরন এককভাবে সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশে ৫৫ শতাংশ গ্যাস উত্তোলন করে থাকে এই কোম্পানি।

প্রসঙ্গত, গত মাসের ১৩ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কোঅপারেশন ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট (টিকফা) বৈঠক হয়। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী মার্কিন বাণিজ্য মূখপাত্র মার্ক লিন্সকট ও বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সচিব সুভাশীষ বোসু টিকফা বৈঠকে নেতৃত্ব দেন। বৈঠকে উভয় দেশের কর্মকর্তারা বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে অঙ্গীকার করেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ