প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তিতাসের ৭১২ কোটি টাকার প্রি-পেইড মিটার কার্যক্রমে ধীর গতি

শাহীন চৌধুরী: সরকার গ্যাসের সিসটেম লস হ্রাস, চুরি বন্ধের জন্য আবাসিকে প্রি-পেইড মিটার প্রদানের সিদ্ধান্ত নিলেও তাতে কোনও অগ্রগতি নেই। এ ব্যাপারে তিতাস ৭১২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহন করলেও অত্যান্ত ধীর গতিতে চলছে তার কাজ। তিতাসের এই প্রকল্পে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোয়াপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ৪৫৩ কোটি, সরকার ২৩৬ কোটি ও তিতাসের নিজস্ব অর্থায়ন রয়েছে ২২ কোটি টাকা।

এদিকে গ্যাসের বিল প্রি-পেইড কার্ডে না স্মার্ট মিটারে দেওয়া হবে তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে জ্বালানি বিভাগ। প্রকল্পের মাঝপথে এসে ধরন পরিবর্তন করতে চাইছে সরকার। এখন গ্যাসের গ্রাহকদের কার্ডে বিলিং পদ্ধতির প্রি-পেইড মিটার দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রকল্পর অর্ধেক বাস্তবায়ন হতে না হতেই বলা হচ্ছে কার্ডের পরিবর্তে স্মার্ট বিলিং পদ্ধতির মিটার দেওয়া যায় কিনা, তা পর্যালোচনা করতে হবে।

এ ব্যাপারে গত ৩০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি খাতের প্রকল্পগুলোর অগ্রগতির বিষয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, কার্ড পদ্ধতির মিটারে গ্রাহককে কার্ড কিনে মিটার রিচার্জ করতে হয়। অন্যদিকে স্মার্ট মিটারে সরাসরি মোবাইল থেকেই রিচার্জ করা যায়। কার্ড কেনা ও রিচার্জের ঝামেলা থেকে মুক্তির জন্য স্মার্ট মিটারের বিকল্প নেই। সেজন্য কোন মিটার গ্রাহকের ব্যবহারের জন্য সুবিধাজনক, তা নিয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

অভিযোগ জানা যায়, এখন তিতাসের প্রি-পেইড মিটারে বিল দিতে গিয়ে অনেক গ্রাহক বিড়ম্বনায় পড়ছেন। সরকার এই বিড়ম্বনা থেকে মুক্তির জন্যই প্রি-পেইডের বদলে স্মার্ট মিটারের প্রচলন করতে চায়। তবে স্মার্ট মিটারের ক্ষেত্রে গ্রাহক কী কী সুবিধা পাবেন, সেই সুবিধা গ্রাহক ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারবেন কিনা, সে বিষয়ে শুরুতেই বিস্তারিত জানা প্রয়োজন। এজন্যই প্রতিবেদনটি তৈরি করতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে তিতাসের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, এখন যেহেতু কার্ড মিটারের পরবর্তী ধাপ হিসেবে স্মার্ট মিটার চলে এসেছে, তাই নতুন করে কার্ড মিটারে গ্রাহককে গ্যাস দেওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, একবার গ্রাহকের আঙিনায় কার্ড মিটার লেগে গেলে আর স্মার্ট মিটার লাগানো সম্ভব না। এক্ষেত্রে গ্রাহককে ব্যবহার সহজ করার জন্য যে সুবিধা দেওয়া যেতে পারে।

প্রসঙ্গত, তিতাস ইতিমধ্যেই ঢাকার লালমাটিয়া, মোহম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় যথাক্রমে ৪ হাজার ৫০০ ও ৮ হাজার ৬০০ গ্রাহকের আঙিনায় প্রি-পেইড গ্যাস মিটার স্থাপন করেছে। আরও দুই লাখ গ্রাহকের আঙিনায় মিটার স্থাপনের কাজ করছে। এই দুই লাখের মধ্যে বাড্ডা, গুলশান, বনানী, বারিধারা, বসুন্ধরা, তেজগাঁও শি/এ, ক্যান্টনমেন্ট, মিরপুর, আজমপুর, কাফরুল, খিলক্ষেত, উত্তরখান ও উত্তরা এলাকায় এক লাখ ৭০ হাজার আবাসিক গ্রাহকের আঙিনায় প্রি-পেইড মিটার বসানো হবে। বাকি ৩০ হাজার প্রি-পেইড মিটার নতুন উপশহর এলাকা উত্তরা তৃতীয় প্রকল্প, পূর্বাচল প্রকল্প ও ঝিলমিল প্রকল্প এলাকার আবাসিক গ্রাহকের আঙিনায় বসানো হবে। প্রকল্পটি ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও তাতে আশানুরূপ অগ্রগতি নেই। এজন্য আরও এক বছর সময় বাড়াতে বলেছে তিতাস।

সূত্র জানায়, তিতাসের দুই লাখের মধ্যে মাত্র ৫৭ হাজার ৭২৯টি মিটার স্থাপন হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ২৫০টি পয়েন্ট অব সেলস পরিচালনার জন্য ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এরই মধ্যে ১২টি পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) স্থাপিত হয়েছে।

অন্যদিকে চট্টগ্রামের ৬০ হাজার মিটারের মধ্যে এ পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৭০৮ টি প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে। ২২ হাজার ২৭ জন গ্রাহকের আঙিনায় স্থাপিত মিটারগুলোকে প্রি-পেইড মোডে কমিশনিং করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল)। ##

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ