প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জামায়াত-জঙ্গিদের সাথে ড. কামাল ঐক্য গড়েছেন: প্রধানমন্ত্রী

সাজিয়া আক্তার: জামায়াত-জঙ্গিদের সাথে ড. কামাল ঐক্য গড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, দুর্নীতিবাজ-এতিমদের টাকা আত্মসাতকারী খুনিদের সাথে হাত মিলিয়েছে ড. কামাল হোসেন গংরা।

মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটে জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময়  প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মাসেতুর ৬০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। সেটা পর্যবেক্ষণ করতে এসেছি। রেল লাইন নির্মাণ ও রেল লাইনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন এবং নদী ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যই আমরা এখানে আগমন করেছি। আমরা চাই দেশের মানুষ এগিয়ে যাক। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙন রোধে আমরা প্রায় ১২ কোটি টাকা প্রজেক্ট করে দিয়েছি।২০২১ সালের মধ্যে আমরা বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধি দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা পরিকল্পনা করেছি। সমগ্র দেশ যাতে উন্নত হয় সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, ২০০১ সালে নির্বাচনের পর দক্ষিণ বঙ্গে বিএনপি অত্যাচার নির্যাতন করেছে তার কোনো তুলনা হয় না। সেই সাথে আওয়ামী লীগের ঘর বাড়ি পুঁড়িয়ে দিয়েছে। ২০০৮ সালে আমরা নির্বাচনে আসি। ২০১৪ নির্বাচন এই নির্বাচনকে ঠেকানোর নাম করে অগ্নিসন্ত্রাস শুরু করে বিএনপি। বিএনপি-জামায়াত জোটের অগ্নিসন্ত্রাসে প্রায় ৩ হাজার ৮শ মানুষ আগুনে পুড়ে যায় এবং ৫’শ মানুষ মারা যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরা শুধু মানুষ খুনি না, এরা পারে না এমন কোনো কাজ নেই। যার কারণে আজকে তারেক জিয়া সাজাপ্রাপ্ত আসামি। ২১ শে আগস্টের হামলার বিচার হয়েছে আর সেই বিচারে তাদের সাজা হয়েছে। আমরা বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের বিচার করেছি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছি এবং গ্রেনেড হামলার বিচারও এখন হয়েছে। আজকে সেই খুনের মামলার আসামি তারা।

তিনি বলেন, জামায়াত-বিএনপি এক জোট। ৭১ সালে জামায়াত যেমন এদেশে গণহত্যা চালিয়েছে তার-ই ধারাবাহিকতায় তারা যখনি সুযোগ পায় তখনি মানুষকে হত্যা করে। বিএনপি সরকার আমলে বাংলাদেশ ৫ বার দুর্নীতি চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, যারা মানুষ পুড়িয়ে মারে, অগ্নিসন্ত্রাস করে, মানি লন্ডারিং, দুর্নীতির সাথে জড়িত, এতিমের টাকা চুরি করে খায় আজকে তাদের সাথে ঐক্য করেছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী হিসেবে পরিচিত ড. কামাল হোসেন। তার সাথে জুটেছে আরও কিছু খুচরা আদুলি। এরা সবাই ঐক্য করেছে। আমি কামাল হোসেনকে বাহবা জানাই। তিনি দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেন। যে বিএনপি-জামায়াত জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসের সাথে সম্পৃক্ত তাদের সাথে তিনি ঐক্য করেছেন। খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর কী একটি লোকও ছিল না বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হতে পারে? যে মানুষ মানি লন্ডারিং আইনে সাজাপ্রাপ্ত, ১০ ট্রাক চোরাকারবারি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং ২১শে আগস্ট হামলা মামলার সাজাপ্রাপ্ত। এবং যে পলাতক হিসেবে বিদেশে রয়ে গেছে তাকেই বানিয়েছে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। সেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের অধীনে ড. কামাল হোসেন ঐক্য করেছে। বড় বড় নীতির কথা বলেন যারা তারাই আজ খুনিদের সাথে হাত মিলিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ এই খুনিদের চায় না। ২০০৮ এবং ২০১৪ সালে নির্বাচনে মানুষ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করেছে। ২০১৪ সালে নির্বাচন ঠেকাতে গিয়ে বিএনপি শত শত মানুষ মেরেছে। তখনও এদেশের মানুষ তাদের ভোট দেয়নি। মানুষ ভোট দিয়েছে নৌকা মার্কায়। কারণ মানুষ জানে নৌকা মার্কা মানেই উন্নয়ন। নৌকা মার্কা মানেই দেশের মানুষের সর্বাত্মক উন্নতি। কাজেই তারা ধানের শীষে ভোট দেয়নি।

প্রধানমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনের রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আজকে বিএনপির সেই মরা গাঙে যোগ দিয়েছে কামাল হোসেন, মান্না, আ স ম রব, আরও অনেকে। তারা কী করতে পারবেন? তারা কী করতে চান? বাংলাদেশের উন্নয়ন তাদের চোখে পড়ে না। বাংলাদেশ এখন ৭. ৮৬ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। এতো উন্নয়নের মধ্যে তারা উন্নয়ন দেখে না, তাদের উন্নয়ন হলো দুর্নীতির উন্নয়ন, সন্ত্রাসের উন্নয়ন, মানি লন্ডারিংয়ের উন্নয়ন। মানুষ সুন্দরভাবে বাঁচবে এটা তাদের কাছে উন্নয়ন নয়।

এর আগে রোববার পদ্মা সেতু প্রকল্প পরিদর্শনে গিয়ে মাওয়ায় এক সুধি সমাবেশে তিনি দেশের অন্যতম বড় পদ্মা সেতুর প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে নানা বাধা-বিপত্তিতে পড়ার কথা তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী সকালে হেলিকপ্টারে করে মাওয়ার দোগাছির পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়ার-১ এর মাঠে অবতরণ করেন। এরপর গাড়িতে যান সেতু এলাকায়।

২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ৭ নম্বর খুঁটিতেই পাইল স্থাপনের কাজ শুরুর মধ্য দিয়ে মূল সেতুর কাজের উদ্বোধন করেছিলেন।

পদ্মা সেতুর ৪২টি খুঁটিতে ৪১টি স্প্যান বসবে। এর মধ্যে ১৪টি খুঁটি বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। আর নদীতে ১৮০টি পাইল স্থাপন করা হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত