প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আ.লীগে নৌকার মাঝি হতে ৬ থেকে ৯ শত রয়েছেন দৌড়ঝাঁপে

রফিক আহমেদ : সরকারি দল আওয়ামী লীগের নৌকার মাঝি হতে চান এমন প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপের শেষ নেই। যেকোনোমূল্যে নৌকার টিকেট পেয়ে এমপি হতেই হবে। এর সংখ্যা নেহায়েত কম করে হলেও ৬ থেকে ৯ শত। তবে দলীয় মনোনয়নের জন্য নৌকার টিকেট পাবেন ৩শত জন। এরমধ্যে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটকে দেয়া হতে পারে ৬৫ থেকে ৭০। ফলে নৌকার টিকেট আরো কমবে ৭০টি। বাকী ২৩০টি আসনে এমপিপ্রার্থী হতে পুরোপুরো টেকশন এমন নবীণ-প্রবীন প্রার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হবে নৌকা। তবে আশা যতদিন পর্যন্ত নৌকার টিকেট কেউ হাতে পাচ্ছেন না, ততদিন পর্যন্ত সার্বিকভাবে নিজেদের কর্মদক্ষতা ও স্বচ্ছতা-মেধার পরিচয় দিয়ে দলীয় টিকেট পেতে তৎপরতা চালিয়ে যাবেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপকালে এসব তথ্য জানা গেছে।

দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানান, টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকায় সারাদেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা শক্তিশালী হয়েছেন। অনেকে ব্যবসা-বাণিজ্য করে অর্থবিত্তেরও মালিক হয়েছেন। এসব নেতাকর্মীর অনেকে নিজ নিজ এলাকায় পৃথক বলয় তৈরি করে মনোনয়ন প্রত্যাশাও করছেন। কেউ কেউ এমনটিও ভাবছেন, এবারও ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন হবে। আর নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেলেই জয় নিশ্চিত। কিন্তু তাদের এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। কারণ এবারের নির্বাচন অন্য যে কোনো বারের নির্বাচনে চেয়ে তুলনামূলক কঠিন হবে।

সুত্রমতে, আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্যদের মতো বঞ্চিত নেতারাও নৌকার টিকেট পেতে গত কয়েক বছর যাবৎ নিজ নিজ এলাকায় মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তবে বিভিন্ন জরিপের ভিত্তিতে প্রার্থী তালিকা মোটামুটি চূড়ান্ত করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারমধ্যে অন্যতম-নৌকার টিকেটে পেতে আলোচনায় যারা: গোপালগঞ্জের তিনটি আসনের মধ্যে গোপালগঞ্জ-২ শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও গোপালগঞ্জ-৩ শেখ হাসিনা। গোপালগঞ্জ-১ আসনে নতুন মুখ হিসেবে নাম রয়েছে শেখ রেহানার। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সাবেক মন্ত্রী কর্নেল ফারুক খান। শেখ রেহানা নির্বাচনে প্রার্থী হলে কর্নেল ফারুক খানকে রাজধানীর একটি আসন থেকে মনোনয়ন দেয়া হবে। মাদারীপুর-১ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য নূরে আলম লিটন চৌধুরী ও মাদারীপুর-২ আসনে বর্তমান নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান একক প্রার্থী হলেও মাদারীপুর-৩ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাসিমের সাথে সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের নাম রয়েছে। চাঁদপুর-৩আসনে রেদওয়ান খান বোরহান। শরীয়তপুর- ১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক। শরীয়তপুর-২ আসনে এক প্রার্থী হিসেবে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীমের মনোনয়ন নিশ্চিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সাবেক ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলী। শরীয়তপুর-৩ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য প্রয়াত জননেতা আব্দুর রাজ্জাকের পুত্র নাহিম রাজ্জাক। ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান। ফরিদপুর-২ আসনে জাতীয় সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। এই আসনে তার পরিবর্তে সাংবাদিক লায়েকুজ্জান মনোনয়ন পেতে কাজ করে যাচ্ছেন। ফরিদপুর-৩ আসনে এলজিআরডি মন্ত্রী খোন্দকার মোশাররফ হোসেন। ফরিদপুর-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ। রাজবাড়ী-২ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জিল্রুল হাকিম একক প্রার্থী। নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু। নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে সংসদ সদস্য গাজী গোলাম দস্তগীর।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। মানিকগঞ্জ-২ আসনে মমতাজ বেগম ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনে জাহিদ মালেক স্বপন মনোনয়ন পাচ্ছেন। মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে ডা. বদিউজ্জামান, মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানু আখতার। কিশোরগঞ্জ-১ আসনে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে রেজওয়ান আহমেদ তৌফিক, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে আজয়কর খোকন ও কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে নাজমুল আহসান পাপন। কিশোরগঞ্জ-২ আসনে ড. জায়েদ মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, গাজীপুর-১ আসনে মন্ত্রী আকম মোকাম্মেল হক, গাজীপুর-২ আসনে জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর-৩ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য রহমত আলীর পুত্র জামিল হাসান দুর্জয়। গাজীপুর-৪ আসনে সিমিন হাসান রিমি, গাজীপুর-৫ আসনে মেহের আফরোজ চুমকী। নরসিংদী-১ আসনে নজরুল ইসলাম হীরু, নরসিংদী-৪ আসনে নুরুল মজিদ হুমায়ুন। ঢাকা-১ আসনে আব্দুল মান্নান খান, ঢাকা-২ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য কামরুল ইসলাম, ঢাকা-৩ আসনে সংসদ সদস্য নসরুল হামিদ বিপু, ঢাকা-৪ আসনে সাবেক চেয়ারম্যান (তৃণমূলের নেতা হিসেবে পরিচিত) লুৎফর রহমান, ঢাকা-৫ আসনে মশিউর রহমান মোল্লা সজল, ঢাকা-৬ চৌধুরী আশিকুর রহমান লাভলু, ঢাকা-৭ আসনে ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন, ঢাকা-৮ ইসমাইল চৌধুরী স¤্রাট, আসনে মোজাফফর হোসেন পল্টু, ঢাকা-৯ আসনে সাবের হোসেন চৌধুরী, ঢাকা-১০ আসনে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, ঢাকা-১১ আসনে এ কে এম রহমতউল্লাহ, ঢাকা-১২ আসনে আসাদুজ্জামান খান কামাল, ঢাকা-১৩ আসনে জাহাঙ্গীর কবীর নানক ও ঢাকা-১৪ আসনে আসলামুল হক। তবে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে বলে একটি সূত্র জানিয়েছেন।