প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘বিএনপির আগুন সন্ত্রাস মোকাবেলা করে উন্নয়নের বিস্ময় এখন বাংলাদেশ’

আশিক রহমান : শিক্ষাবিদ ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ড. অনুপম সেন বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০১৪ সালের আগে এবং পরে বিএনপির আগুন সন্ত্রাস মোকাবেলা করে উন্নয়নের বিস্ময় এখন বাংলাদেশ। ওই সময়ে দেশে যে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি করেছিল বিএনপি-জামায়াত তা মোকাবিলা করে দেশকে শেখ হাসিনার সরকার কোথাও নিয়ে যাচ্ছে, তা দেখে বিস্মিত গোটা দুনিয়া। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আরও বলেন, আমরা পদ্মা সেতুর মতো বড় অবকাঠামো নিজের অর্থায়নে করছি। ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন হয়েছে। ঢাকাসহ সারাদেশের যেখানে যেখানে ফ্লাইওভার বা অকাঠামো দরকার তা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি বেগবান হচ্ছে অবিশ্বাস্যভাবে। এটি সম্ভব হচ্ছে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্ব গুণে।

এক প্রশ্নের জবাবে ড. অনুপম সেন বলেন, পাকিস্তান-বাংলাদেশ আমল মিলিয়ে প্রায় ৪৫ বছর যে খাদ্যঘাটতি দেখছিল এ দেশের মানুষ, তা এখন নেই। আমরা এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। যদিও এই সময়ে জমির পরিমাণ কমেছে। তবুও খাদ্যউৎপাদন চারগুণ বেড়েছে। স্বাধীনতাসংগ্রামের সময় ৬০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছিল, সেটা কমে দাঁড়িয়েছে ২২ শতাংশে। এখন হয়তো ২০ শতাংশেরও নিচে। অসম্ভব সম্ভব হচ্ছে আওয়ামী লীগের সরকারের সময়োচিত সঠিক সিদ্ধান্তের ফলে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, এ দেশের উন্নয়নে চার দলীয় জোট কিছুই করেনি। কারণ তাদের সময়ে কৃষিতে কোনো অগ্রাধিকার ছিল না। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হয়ে সাধারণ মানুষের সুবিধা হয় এমন নীতি গ্রহণ করে। আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক কৃষিতে ভর্তুকি দেওয়া পছন্দ করে না, ঘোর ভর্তুকি বিরোধী, তা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ তথা চৌদ্দ দলীয় জোট সরকার কৃষিতে ভর্তুকি দিয়ে গেছে। তার ফলে দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ম্বর। শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বের কারণে ভ্রুত্রুটি করতে পারে না বিদেশি কোনো সাম্রাজ্যবাদী শক্তি। আধিপত্যবাদী শক্তিগুলো এখন নেই বললেই চলে।

অপর এক প্রশ্নে ড. অনুপম সেন বলেন, ২০০৬ সালে অত্যন্ত অন্যায়ভাবে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক ধারণাটি ধ্বংস করেছিল। তখন তারা নিজের মতো করে তত্ত্বাধায়ক সরকার ব্যবস্থা নির্ধারণ করল। সেটা আবার পরিবর্তিত হয়ে গেল ১/১১ আধা-সামরিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর। যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকার কথা ছিল তিন মাস, থাকল প্রায় দুই বছর। ছিয়ানব্বই সালের ১৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপিকে ছাড়া অন্য কোনো দল অংশগ্রহণ করেনি। কিন্তু ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বহু দল অংশগ্রহণ করেছিল। আপনি বলতে পারেন, ১৫৩ জন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে। কিন্তু এখানে সংবিধানের ধারা অনুসরণ করেই নির্বাচনটি হয়েছে।

তিনি বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোন ফরম্যাটে হবে তা নিয়ে পরামর্শের জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে শেখ হাসিনা টেলিফোন করেছিলেন। আহ্বান জানিয়েছিলেন, আসুন আমরা সবাই মিলে একটি সরকার গঠন করি, যার অধীনে অনুষ্ঠিত হবে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করে নির্বাচন দিই আমরা। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া সেই ডাকে সাড়া দেননি। তিনি আরও বলেন, বিএনপি নামক দলটি এখন বহু দণ্ডিত দল। তাদের প্রধান দুই নেতা সাজাপ্রাপ্ত। দলের চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দুজনই দুর্নীতি ও হত্যা মামলায় সাজা পেয়েছেন। তারেক রহমান বিদেশে পলাতক থাকলেও দলের চেয়ারপারসন কারাভোগ করছেন। এটা নির্মম সত্য, অপরাধ করে কেউ পার পায় না। যে অনিয়ম-দুর্নীতি, অন্যায় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে হয়েছিল, তার ফল ভোগ করতে হবে তাদের। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। বিএনপিও এখন নির্মম সত্যকে মোকাবিলা করছে। যতদিন তারা মানবিক রাজনীতিতে না ফিরবে ততদিন সন্ত্রাসী দল হিসেবেই পরিচিত থাকবে।