প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঘোট পাকানোর জোট?

অসীম সাহা : “না, আমরা কিছুতেই ওদের সঙ্গে একপাতে খাবো না। কিছুদিন পর সুর ঘুরিয়ে বলছে, একঘরে খাবো না। এখন আবার বলছে, খাবো, তবে কথা বলবো না।” এরপর হয়তো তারা বলবে, “ঠিক আছে খাবো কিন্তু ওদের মুখ দেখবো না।” তা হলে কী থাকলো বাকি? ওদের সঙ্গে একসঙ্গে খাওয়া ও এক বিছানায় শোওয়া? সেটাও যে হবে, তার অভাস পাওয়া যাচ্ছে। সংস্কৃতে একটি শ্লোক আছে, “ঘ্রাণেন অর্ধভোজনং।” সেই পর্বশেষে এখন যেন স্বামী-স্ত্রীর মান-অভিমানের পালা চলছে! বলছি জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া ও যুক্তফ্রন্টের বৈঠকে ঘোটপাকানো জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ভূমিকার কথা। এই ফ্রন্টের ভান্ডারিদেও মধ্যে আছেন, গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়লের সভাপতি গণফোরামের ড. কামাল হোসেন, ম্যারাথন দৌড়-প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়া বিকল্পধারার এ কিউ এম বদরুদ্দৌজা চৌধুরী, জাসদের ভগ্নাংশের ভগ্নাংশ-সভাপতি আসম আবদুর রব, বহু ঘাটে নৌকা-ভেড়ানো নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না প্রমুখ। সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন চিরকালীন ষড়যন্ত্রকারী গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। আর বিএনপির তরফ থেকে প্রধানত দলটির মহসচিব মীর্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর। এই সভার সিদ্ধান্ত : “বিএনপির সঙ্গে জামায়াত থাকলেও আপত্তি নেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের।” একথার মাধ্যমে যে থলের বেড়াল বেরিয়ে পড়লো? অবশ্য তাতে কী? নির্লজ্জদের সুবিধা এখানেই যে, তারা যে কোনো স্থানে, যে কোনো সময় ন্যাংটো হয়ে যেতে পারেন! যদি ন্যাংটোই হবেন, তা হলে এতো নাটক করার কী দরকার ছিলো? নিজেদের মুরোদ নেই, তো বিএনপির ঘাড়ে সওয়ার হলে বিএনপি যে জামায়াতকে ছাড়বে না, এটা ড. কামাল-গংরা জানতেন না, এটা কাউকে বোঝানো যাবে? জনগণকে এতো বোকা ভাবার কোনো কারণ আছে?

উদ্দেশ্য যেহেতু শেখ হাসিনাকে যে করেই হোক, ক্ষমতা থেকে নামানো, সেহেতু জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছেন। ছলে-বলে-কলে-কৌশলে বিএনপির সঙ্গে, জামায়াতকে নিয়ে হলেও “রশি ধরে মারো টান/রাজা হবে খান-খান” করতেই হবে। তারা কী দেবেন? গণতন্ত্র? কেমন গণতন্ত্র? সেটা কি গায়ে দেয় না মাথায়? এমন প্রশ্ন অনেকের মনেই উদিত হবে। বাংলাদেশে তিন তিনবার বিএনপির হাতে গণতন্ত্রের যে নিশান উড়েছিলো, সে নিশান যে অন্তরালে চাঁদ-তারার কওমি নিশান’, তা কি এসব হালে পানি না পাওয়া নেতা জানেন না? সব জানেন। তবু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে টেনেহিঁচড়ে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে বাংলাদেশের মাটিতে তারা গণতন্ত্রের সুরভিত ফুলের চাষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন!

বেদনাদায়ক হচ্ছে এই যে, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সন্তানসম ছাত্রলীগের এক সময়ের অকুতোভয় সৈনিক মোস্তফা মহসিন মন্টু ও সুলতান মুহম্মদ মনসুর। শেখ হাসিনার সঙ্গে তাদের মতের অমিল হতেই পারে। কিন্তু তাই বলে তারা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের মদদদাতাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যাকেই ক্ষমতাচ্যুত করার কাজে নিজেদের সক্রিয় রাখবেন, এটা ভাবলেই আমার গা শির শির করে ওঠে! আসলে রাজনীতির খেলায় কে যে কখন চরিত্রহীনতার প্রতিযোগিতায় প্রথম সারিতে অবস্থান করতে পারেন, তা ‘দেবা না জানন্তি’। তাই এই ঘোট পাকানো জোটের অন্তরালের খেলা দেখার জন্য আমাদের বোধহয় নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই!

লেখক : কবি ও সংযুক্ত সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ