প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রামু গর্জনিয়া সড়কে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়

হাবিবুর রহমান সোহেল, নাইক্ষ্যংছড়ি: রামু উপজেলার রামু গর্জনিয়া সড়কে সিএনজি হাইস্ সহ সকল প্রকার গাড়িতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্যস্ততম এলাকায় প্রতিদিনই প্রয়োজনের তাগিদে ঘর থেকে বের হয় সাধারণ মানুষ। তবে প্রয়োজনের তুলনায় ওই রোড়ে কোন গণপরিবহন নেই। তার ওপর যানজটও কম নয়। তাই কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে একমাত্র ভরসা সিএনজি চালিত অটোরিকশাই। তবে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ও জনগণের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে প্রতিনিয়তই বাড়ছে অটোরিকশা চালকদের দাপট। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই চলছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের মহোৎসব।

রামু থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি সিএনজি ভাড়া ৩০ টাকা হলে, এখন ভাড়া নিচ্ছে ৪০/৫০ টাকা আর রামু থেকে গর্জনিয়া ভাড়া ৪০ টাকা হলেও চালকরা ভাড়া নিচ্ছে ৬০/৭০ টাকা করে। এতেও তাদের নৈরাজ্য শেষ নয় হঠাৎ করে রাত অবধি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। অঘোষিত অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে যাত্রীরা চরম লাঞ্চনার স্বীকার হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে বুধবার সন্ধ্যায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদ করাতে রামু স্টেশনে সিএনজি চালক ও যাত্রীর সাথে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সাধারণ ভোক্তভোগী যাত্রী রামুর গর্জনিয়ার ব্যবসায়ী বাপ্পী জানান, রামু থেকে গর্জনিয়ার নির্ধারিত সিএনজি ভাড়া ৪০ টাকা হলেও একটু রাত হওয়ায় ৭০টাকা দাবি করে সিএনজি চালক। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদ করলে সিএনজি চালক দুর্ব্যবহার করে বলে জানান তিনি।

গতকাল রাত ৮ টায় কক্সবাজারের রামু থেকে নাইক্ষ্যংছড়ির যাওয়ার জন্য সিএনজি অটোরিকশা খুঁজছেন হাসান সোহেল মুন্না। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও যেতে পারছেন না তারা। জিজ্ঞেস করতেই ক্ষোভের সঙ্গে বললেন, দেখছেন না ভাই। কেউ যেতে চায় ‍না,বলে ভাড়া আছে। আবার কেউ কেউ বলে রিজার্ভ হলে যাব, মানিক নামে একজন বলেন, আমার সঙ্গে প্রথমে ৪০০ টাকা দর করেছে। এখন বলতেছে ৫০ টাকা বেশি দিয়েন। তারা সব সময় অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে।

প্রশাসনের অব্যবস্থাপনার কথা তুলে কলেজ শিক্ষার্থী আনোয়ার বলেন, প্রশাসনের সামনে এসব অনিয়ম চলছে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের এক সিনিয়র সাংবাদিক বলেন, আমরা বরাবরই এসব চালকদের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছি। বিআরটিএ বলছে তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে তা দৃশ্যমান নয়। আজকে সাধারণ জনগণ পরিবহন মালিকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে এবং যাত্রী স্বার্থ চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

এ ব্যাপারে যাত্রীগণ সরজমিনে তদন্ত পূর্বক অসাধু গাড়ি চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান। এই ব্যাপারে কথা বলতে রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার লুৎফুর রহমানের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই ব্যাপারে খোজঁ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ