প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অপরাজনীতি কাউকে ক্ষমা করে না

মিঠুন মিয়া : ‘ক্ষমতা মাত্রই দুর্নীতি’ ঠিক ১২৮ বছর আগে উক্তিটি করেছিলেন ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ লর্ড এ্যাক্টন। তিনি উক্তিটি পূর্ণ করতে যোগ করেছিলেন, ‘ক্ষমতার মাত্রা যত বেশী, দুর্নীতিপ্রবণতাও তত বেশী হয়।’ দুর্নীতি যেহেতু ধ্বংসের কারণ, তাই ক্ষমতা স্বভাবতই ক্ষণস্থায়ী হয়। ক্ষমতা এমনই; এভাবেই সে ধ্বংস ডেকে আনে। ক্ষমতার উৎস রাজনীতি। রাজনীতি, ক্ষমতা এবং ধ্বংসের অবস্থান খুব কাছাকাছি। ভারতের এক রাজনীতিবিদ বলেছেন, ক্ষমতা মানে বিষ। বিশ্বে এক সময়ের ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অধঃপতনের কারণ হয়েছে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতি। অনেকে গ্রেফতার হয়েছেন, জেল খেটেছেন। কারও আবার রাজনৈতিক জীবনই শেষ হয়ে গেছে।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় সেই সত্যকে আবার নতুন করে উন্মোচন করলো। অর্থাৎ ক্ষমতার অপব্যবহার কাউকে ক্ষমা করে না। ক্ষমতায় গেলে বাহাদুরী আর জারিজুরির শেষ থাকে না, দুর্নীতি আকড়ে ধরে, কুচক্রে মেতে উঠেন রাজনীতিবিদরা। কিন্তু দিনশেষে সেই ফাঁদে আবার তাদেরকেই পড়তে হয়। এক সমেয়র প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ যারা রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহার করে বিরোধী দলকে দমন করার জন্য বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলা চালায়। এখন আদালতের রায়ে তাদের মৃত্যুদ- এবং যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে। দুর্নীতির দায়ে বিএনপির চেয়ারপার্সন কারাভোগ করছেন।

ক্ষমতা ক্ষণিকের রাজনীতিবিদরা তা বিশ্বাস করতেই চান না। পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট নওয়াজ শরিফ, রাশিয়ার জারতন্ত্রের রাজা নিকোলাস দ্বিতীয়, পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট অলান্টা হিউমালা, ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন, আর্জেন্টিনার সাবেক প্রেসিডেন্ট রেইনালদো বেনিয়োন, মালদ্বীপের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আহমেদ আদিব,  গুয়েতেমালার সাবেক প্রেসিডেন্ট আলফনসো পোরতিয়োকে, ভারতের তামিল নাড়–র প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জয় ললিতা, দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন হাই, নেপালের প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবাসহ আরও অনেক রাজনীতিবিদদের কি হাল হয়েছে তা আমরা দেখতেই পাচ্ছি। এসব ঘটনা থেকে রাজনীতিবিদদেরকে শিক্ষা নিতে হবে। কেবল রাজনীতিবিদদেরকেই নয়, সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে। ক্ষমতার অপব্যবহার নয়, সঠিক ব্যবহার করতে হবে। রাজনীতিতে শুদ্ধতার চর্চা জরুরি। কাজেই দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের ক্ষমা নেই। বিষয়গুলো রাজনীতিকরা যতো বেশি উপলব্ধি করবেন ততোই তা মঙ্গলজনক হবে।

লেখক :  শিক্ষক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ