প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্যক্তি স্বাধীনতায় ইসলাম

আমিন হানিফ: স্বাধীনতা মানুষের অন্যতম অধিকার। স্বাধীনতা হলো এমন একটি অধিকার যা মানুষকে সঠিক চিন্তা ও তার উপযোগী কর্মের পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং এর প্রতিবন্ধকতাসমূহকে দূর করে। যা কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে সমর্থিত হয়েছে। যেমন সূরা জাসিয়ার ১৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে: ‘যে সৎ কাজ করছে সে তার কল্যাণার্থেই করছে। আর যে অসৎ কাজ করছে তাও তার ওপরই বর্তাবে। অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে। হযরত আলী রা. বলেছেন, ‘অন্যের দাসে পরিণত হয়ো না। কারণ আল্লাহ তোমাকে স্বাধীনভাবে সৃষ্টি করেছেন।’ (নাহজুল বালাগাহ্,খুতবা নং ৩)

ইসলাম স্বাধীনতাকে মানুষের জন্মগত অধিকার বলে মনে করে। ইসলাম সকল মানুষকে আল্লাহর বান্দা বলে মনে করে। আল্লাহর বান্দা হিসেবে সকলে সমান ও স্বাধীন। তাই মানুষ অন্যকে নিজের বান্দা বা দাসে পরিণত করতে পারে না। তবে ইসলামে চিন্তা ও বিশ্বাসের স্বাধীনতার মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে। ইসলাম চিন্তার স্বাধীনতায় বিশ্বাসী, কিন্তু যে কোন কিছু বিশ্বাসের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী নয়। কারণ মানুষ যুক্তি-প্রমাণের ভিত্তিতে চিন্তা করে থাকে; সে তার চিন্তাশক্তির মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছতে সক্ষম। তাই কোরআন অসংখ্যবার মানুষকে চিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তির দিকে আহবান জানিয়েছে। যেমন পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা কি চিন্তাশক্তিকে প্রয়োগ কর না? অন্যত্র বলা হয়েছে : তারা কি গভীর চিন্তা করে না? কোরআন বুদ্ধিবৃত্তির মানদণ্ডে অগ্রহণযোগ্য হওয়ার কারণে পূর্ববর্তীদের অনেক বিশ্বাসকে সমালোচনা করেছে; সে সকল বিশ্বাসের সঠিক কোন চিন্তাগত ভিত্তি নেই; বরং অন্ধ অনুকরণের ফলশ্রুতিতে অগ্রহণযোগ্য হয়েছে। ইসলাম একে অকল্যাণকর মনে করেছে। ভিত্তিহীন চিন্তা হতে উৎসারিত মূল্যবোধশূন্য বিশ্বাসসমূহ মানুষকে উদ্দেশ্যহীন অনর্থক কর্মে লিপ্ত করে যা মানবতার অবমাননা ছাড়া কিছু নয়। তাই ইসলাম অযৌক্তিক বিশ্বাস গ্রহণের ক্ষেত্রে মানুষকে স্বাধীনতা দেয়নি।

এর বিপরীতে সঠিক চিন্তার ওপর প্রতিষ্ঠিত বিশ্বাসকে সম্মান দেখিয়েছে। তদ্রুপ বাক স্বাধীনতা। যা ব্যক্তির চিন্তা, বিশ্বাস ও মত প্রকাশের অধিকার বুঝায়। মানুষ তার চিন্তা ও বিশ্বাসকে বক্তব্য, গ্রন্থ, পত্রিকা ও লেখনীর মাধ্যমে প্রকাশ করে থাকে। ইসলাম মানুষের বাক স্বাধীনতাকে অন্যতম মৌলিক অধিকার বলে মনে করে, কিন্তু কেউ যদি এ স্বাধীনতাকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বা মানুষকে বিচ্যুত করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে তাহলে ইসলাম তাকে তা করার অনুমতি দেয় না। আবার যদি কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সত্যকে জানার পরও তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বাক স্বাধীনতার অপব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায় তাহলে তার পথ রুদ্ধ করা সকলের নৈতিক দায়িত্ব। অনুরূপ যে সকল গ্রন্থযুক্তি-প্রমাণের মাধ্যমে বিষয়বস্তু উপস্থাপন করে, কিন্তু সঠিক ধারণার অনুপস্থিতির কারণে ভুল ভ্রান্তি রয়েছে।

বাক স্বাধীনতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সহস্র মিথ্যাকে সত্য বলে প্রচার করে, কোন রাষ্ট্র বা ব্যক্তির নামে অপপ্রচার করে, কারো বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ আনে, মিথ্যা দলিল উপস্থাপন করে। তার পথও রুদ্ধ করা সকলের নৈতিক দায়িত্ব। অন্য দিকে ইসলাম যদি এরূপ মিথ্যা ও অসচেতনতার পথ রোধ করার প্রতিবাদ করে তখন অনেকেই বলে থাকে, কেন বাক স্বাধীনতাকে রুদ্ধ করার প্রয়াস চলছে? প্রশ্ন হলো সত্য ও মানবতার অগ্রপথিকরা কি মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রের পথকে রুদ্ধ না করে চিন্তা, বিশ্বাস ও বাক স্বাধীনতার নামে জনসাধারণের মাঝে অসত্যের প্রচারের পথকে উন্মুক্ত করে দেবে? তা কখনই হতে পারে না। ইসলাম আমাদের যে স্বাধীনতা দিয়েছে তার সীমা রয়েছে। এ স্বাধীনতা আইন দ্বারা সীমিত। পৃথিবীর সব দেশেই স্বাধীনতা আইন দ্বারা সীমিত। তাই স্বাধীনতার নামে আইন ভঙ্গের অধিকার কারো নেই। নেই কোন অপপ্রচারের সুযোগ এবং ব্যক্তি সম্মান ও স্বাধীনতা খর্ব করার অনুমতি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ