প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নতুন ছক জঙ্গিদের!

কালের কন্ঠ : পরিবারের সদস্যদের অপহরণ বা হত্যার হুমকি দিয়ে কোনো ব্যক্তিকে জিম্মি করার পর সেই জিম্মি হওয়া ব্যক্তির মাধ্যমে নাশকতা চালানোর ছক কষেছে জঙ্গিরা। সেই সঙ্গে আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনাও আছে জঙ্গিদের। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক একটি সূত্র থেকে এসব তথ্য পাওয়ার পর বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ বিষয়ে সতর্ক থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই নির্দেশনা পেয়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজির সই করা আরেকটি চিঠি পাঠানো হয় সারা দেশের সব পুলিশ ইউনিটে। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) ও র‌্যাব সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

অবশ্য এরই মধ্যে দেশের বেশ কয়েকটি জায়গায় নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গিদের তৎপরতার প্রমাণ পেয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সর্বশেষ গত ৫ অক্টোবর চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় একটি ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযান চালায় র‌্যাব। ওই অভিযানের সময় ‘আত্মঘাতী’ বোমা বিস্ফোরণে দুই জঙ্গির মৃত্যু হয়। তাদের পরিচয় এখনো শনাক্ত করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী জঙ্গিদের তৎপরতা মোকাবেলায় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—জানতে চাইলে সিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান ও অতিরিক্ত উপকমিশনার পলাশ কান্তি নাথ কালের কণ্ঠকে বলেন, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী নগর পুলিশ ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিট জঙ্গি মোকাবেলায় প্রস্তুত আছে। অতীতের কিছু জঙ্গি হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি এখনো অধরা। তাদের গ্রেপ্তার করতে কাজ করছে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। পাশাপাশি জঙ্গিবাদের নতুন কোনো ঘটনার আগেই যাতে জঙ্গিদের অবস্থান চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়, সেই বিষয়েও পুুলিশের প্রস্তুতি আছে।

একই বিষয়ে র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতা উদ্দিন আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জঙ্গিদের নানা ধরনের কৌশল আছে। তারা নানাভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। কিন্তু র‌্যাবও বসে নেই। জঙ্গিদের ধরতে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাব। গোয়েন্দা কার্যক্রম চলমান থাকার সুফল হচ্ছে সর্বশেষ মিরসরাই এলাকায় জঙ্গি আস্তানা চিহ্নিত করে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা। ওই দিন অভিযানে দুজন জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে। তাদের পরিচয় এখনো চিহ্নিত হয়নি। তবে জঙ্গিবাদের শিকড় উপড়ে ফেলতে র‌্যাব সর্বাত্মকভাবে অভিযান চালাচ্ছে। কোনো অবস্থায়ই বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদের উর্বর ভূমি হতে দেওয়া হবে না। বাংলাদেশের মানুষের নিরাপত্তায় র‌্যাব সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘জঙ্গি দমন শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা র‌্যাবের দ্বারা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে জনগণকে সর্বাগ্রে সচেতন হতে হবে। তথ্য দিতে হবে। অপরিচিত কাউকে বাসা ভাড়া দেওয়ার আগে যাচাই-বাছাই করে নিতে হবে।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, সারা বিশ্বে বেশ কিছুসংখ্যক সন্ত্রাসী সংগঠন বা গ্রুপের আত্মপ্রকাশের আশঙ্কা করা হচ্ছে। আত্মঘাতী হামলার মাধ্যমে নাশকতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে কিছু গ্রুপ। আবার কিছু গ্রুপের রাজনৈতিক এজেন্ডাও আছে। এসব সংগঠনে বিভিন্ন সংস্থা ও দেশের দ্বারা মদদপুষ্ট হয়ে, কেউ কেউ সুসংগঠিতভাবে, কেউ বা বিচ্ছিন্নভাবে হামলার পরিকল্পনা করছে। তাদের মূল লক্ষ্য দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে অস্থিতিশীল করে তোলা। জঙ্গি সংগঠনগুলো সদস্য নিয়োগ বা বিদেশি যোদ্ধাদের দলে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বেশ কিছু কৌশল অবলম্বন করছে। এসবের মধ্যে আছে ব্যক্তিবিশেষের পরিবারের সদস্যদের অপহরণ করে বা মৃত্যুর হুমকি দিয়ে সেই ব্যক্তির মাধ্যমে সন্ত্রাসী হামলা পরিচালনা করা। জঙ্গিরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলেও উল্লেখ করা হয় চিঠিতে। তাতে আরো বলা হয়, জঙ্গি সংগঠনে যোগদানের জন্য আর্থিকভাবেও প্রলুব্ধ করা হচ্ছে।

চিঠিতে বলা হয়, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও সোমালিয়ার মতো দেশগুলোর উপজাতীয় লোকজন এবং সিরিয়া, লিবিয়া ও ইরাকের অনেক যুবক ধর্মীয় নেতার মাধ্যমে জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিচ্ছে। আবার সেসব দেশ থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জঙ্গিরা দেশে ফিরে উগ্র ধর্মীয় মতবাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়। আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন নানাভাবে সংগঠিত হচ্ছে—এমন তথ্য উল্লেখ করে চিঠিতে লেখা হয়েছে, আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের এই কৌশল মোকাবেলা করতে বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ