প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অঙ্ক কষতে মস্তিস্কে শক

সমকাল: স্কুলে থাকতে অঙ্কের ভয় অনেকেরই থাকে। অঙ্ক বুঝতে না পারা কিংবা দ্রুত অঙ্ক কষতে না পারায় পিছিয়ে পড়ে অনেকে। তবে মস্তিস্ক যেন অঙ্ক কষতে আরও বেশি সক্ষম হয়, সেজন্য কৃত্রিম উপায়ে শক্তি বাড়াতে অভিনব এক প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। মস্তিস্কের নির্দিষ্ট কিছু অংশকে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে উদ্দীপিত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা মস্তিস্ককে চাঙ্গা করে তুলতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ক্রিস্টিয়ান রুফ ও তার সহকর্মীরা গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মস্তিস্কে বিদ্যুতের শক দেন। অবশ্য এটি করা হচ্ছে এমন উপায়ে, স্বেচ্ছাসেবীরা টেরই পাচ্ছেন না তাদের শক দেওয়া হচ্ছে। গবেষকরা দাবি করেছেন, ট্রানস্ক্যানিয়াল ম্যাগনেটিক সিমুলেশন প্রক্রিয়ায় কৃত্রিমভাবে মস্তিস্কের এমন এক স্থানকে উদ্দীপিত করা হচ্ছে, যা অঙ্ক কষার ক্ষমতার ওপর প্রভাব রাখে।

এই শক নেওয়ার পর ১০ মিনিট ধরে স্বেচ্ছাসেবীরা কঠিন অঙ্ক করছেন। তার ফল সত্যি চমকে দেওয়ার মতো। ক্রিস্টিয়ান রুফ বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, যখনই মস্তিস্কের এই অংশকে উদ্দীপিত করা হয়, স্বেচ্ছাসেবীরা অনেক ভালোভাবে বিয়োগ অঙ্ক করেন। অর্থাৎ তাদের পক্ষে বিয়োগ করা অনেক সহজ হয়। তবে গুণ করার সময় কোনো প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি। মনে হচ্ছে, মস্তিস্কের এই অংশটি বিয়োগ অঙ্ক করার ক্ষেত্রে বেশি সক্রিয় থাকে।

শুধু জুরিখে নয়, যুক্তরাষ্ট্রেও বৈদ্যুতিক শকের মাধ্যমে মস্তিস্ককে উদ্দীপিত করা হচ্ছে। দেশটির সেনাবাহিনীর ড্রোন পরিচালনাকারীদের ওপর চালানো হচ্ছে এই গবেষণা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে তাদের মনিটরের সামনে বসে থেকে সূক্ষ্ণ সব জিনিস খুঁজতে হয়। সামান্য মনোযোগের অভাব ঘটলে মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তাই ট্রানস্ক্যানিয়াল ম্যাগনেটিক সিমুলেশনের মাধ্যমে তাদের একাগ্রতা ও মনোযোগ বাড়ানোর চেষ্টা চালানো হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ