প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সংঘাত-খুনোখুনিতে শঙ্কিত আওয়ামী লীগ!

ডেস্ক রিপোর্ট  :  আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ক্ষমতাসীন দলে দ্ব›দ্ব-সংঘাত ও খুনোখুনির ঘটনা বাড়ছে। এমনকি দলীয় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে কেউ কেউ গোপনে বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের নেতাকমীর্ ও ক্যাডারদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন। তাদের সহায়তা নিয়ে দলীয় নেতাদের ওপর প্রকাশ্যে হামলার ঘটনাও ঘটছে। এ অবস্থায় সম্ভাব্য প্রাথীের্দর কেউ কেউ ভোটারদের চেয়ে ক্যাডারদের দিকেই বেশি নজর দিচ্ছেন। ক্ষমতার মেয়াদের শেষ সময় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের এই ভয়ঙ্কর রূপ নিয়ে দলীয় নীতিনিধার্রকরাও শঙ্কিত হয়ে উঠেছেন। এই পরিস্থিতি সামাল দেয়াই এখন দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে তারা অনেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দল সক্রিয় না থাকায় সরকারি দলের নেতাকমীর্রা দীঘির্দন ধরে ব্যক্তিগত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাগিয়ে নিতে ব্যস্ত ছিলেন। ফলে দলটির তৃণমূল থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরে কোন্দল বেড়েছে। যেটা ক্ষমতার মেয়াদের শেষ সময় নতুন গতি পেয়েছে। বিশেষ করে নিবার্চনে মনোনয়নপ্রাপ্তির ইস্যুতে দ্ব›দ্ব-সংঘাত প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।

তাদের ভাষ্য, বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে পাওয়া না-পাওয়া থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ, অন্তকর্লহ থাকবেÑ এটাই স্বাভাবিক। বতর্মানে এটা আওয়ামী লীগের মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত। কারণ, আওয়ামী লীগের এখন কোনো দলগত প্রতিপক্ষ নেই। দলটির কোনো কোনো নেতার সময় ব্যয় হয় ব্যক্তিগত স্বাথর্ হাসিলে। ফলে তাদের মধ্যে দ্ব›দ্ব-সংঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। কারণ, রাজনৈতিক শক্তির ধারা কখনো নিষ্ক্রিয় থাকে না।

এদিকে ক্ষমতাসীন দলের এক শ্রেণির স্বাথাের্ন্বষী নেতা দলীয় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বিরোধীদের সঙ্গে গোপন অঁাতাত করায় বেশকিছু এলাকায় আওয়ামী লীগের অবস্থান দুবর্ল হয়ে পড়েছে বলে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা সরকারকে অবহিত করেছে। ওই প্রতিবেদনে সিলেট সিটি করপোরেশন নিবার্চনে আওয়ামী দলীয় প্রাথীর্ বদরুদ্দিন আহম্মেদ কামরানের পরাজয়ের নেপথ্যে সরকার বিরোধীদের সঙ্গে দলীয় নেতাদের অঁাতাত মুখ্য ভ‚মিকা পালন করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতীয় নিবার্চনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় আওয়ামী লীগের বেশকিছু নেতা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিরোধীদলীয় প্রাথীের্ক সহায়তা করার ষড়যন্ত্র করছে এবং এতে দলীয় অভ্যন্তরে সংঘাত-সহিংসতা আরও বাড়বে বলে গোয়েন্দারা সরকারকে সতকর্ করেছে।

মাঠপযার্য় থেকে গোয়েন্দাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০০ আসনে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে। এর মধ্যে কোথাও নেতায় নেতায়, কোথাও এমপির সঙ্গে নেতায়, কোথাও মন্ত্রীর সঙ্গে নেতাকমীর্র দ্ব›দ্ব রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য আসনগুলো হচ্ছে দিনাজপুর-১, রংপুর-৫, গাইবান্ধা-৫, বগুড়া-৫, চঁাপাইনবাবগঞ্জ-৩, নওগঁা-৩ এবং ৪, রাজশাহী-৫ ও ৬, নাটোর-২ ও ৪, সিরাজগঞ্জ-৪ ও ৫, পাবনা-১, ৪ ও ৫, মেহেরপুর-১, চুয়াডাঙ্গা-১, ঝিনাইদহ-৩ ও ৪, যশোর-১, ২, ৩ ও ৪, নড়াইল-১, খুলনা-২ ও ৫, সাতক্ষীরা-২ ও ৩, বরগুনা-১ ও ২, পটুয়াখালী-৪, ভোলা-২, বরিশাল-৪, ঝালকাঠি-১, টাঙ্গাইল-৩, ৪ ও ৫, শেরপুর-২, ময়মনসিংহ-৩ ও ১০, নেত্রকোনা-১ ও ২, কিশোরগঞ্জ-৪, মানিকগঞ্জ-১ ও ২, মুন্সীগঞ্জ-১ ও ২, ঢাকা-২, ৫, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৮, ১৯, গাজীপুর-১, ৩, ৫ নারায়ণগঞ্জ-১, ফরিদপুর-১ ও ২, মাদারীপুর-২ ও ৩, শরীয়তপুর-১, ২ ও ৩, সুনামগঞ্জ-১, ২ ও ৫, সিলেট-১ ও ৪, মৌলভীবাজার-১ ও ৪, হবিগঞ্জ-৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ , কুমিল্লা-১, ৬ ও ৭, চঁাদপুর-২, ৩ ও ৫, ল²ীপুর-৪, চট্টগ্রাম-৬ ও ১৫, কক্সবাজার-২ ও ৩, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান। উল্লেখিত এলাকাগুলোতে প্রায়ই দলীয় নেতাকমীের্দর মধ্যে হানাহানির ঘটনা ঘটছে বলেও আওয়ামী লীগের ওই নেতারা স্বীকার করেন।

এদিকে ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরে আকস্মিক সংঘাত-সহিংসতা কেন বাড়ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, তার ধারণা অনেক দিন ধরে ক্ষমতায় থাকার কারণে মাঠপযাের্য় দলটির নেতাকমীর্রা কিছুটা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে গেছে। আর দলের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না বলে মনে করেন তিনি।

তবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের দাবি, কোন্দল দ্ব›দ্ব-সংঘাত হচ্ছে সামাজিক নানা কারণে। আর এ জন্য তিনি দায়ী করেন আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া নতুন নেতাকমীের্দর। এর সঙ্গে অনেক দিন ক্ষমতায় থাকার কোনো সম্পকর্ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শতের্ আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একাধিক নেতা জানান, জেলা পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নিবার্চনের সময় বিভিন্ন স্থানে দলের ভেতর বিরোধ তৈরি হয়েছে, যার জের এখনো রয়ে গেছে। এ ছাড়া এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও বৈষয়িক স্বাথর্-সংশ্লিষ্ট কারণেও বিরোধ বা সংঘষর্ হচ্ছে। কিন্তু এসব কমাতে যতটা কঠোর হওয়ার কথা, দল ততটা হতে পারছে না। কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিলে হানাহানির ঘটনায় চ‚ড়ান্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার নজির কম। কোনো কোনো ঘটনায় স্থানীয়ভাবে তাৎক্ষণিক সাময়িক বহিষ্কার করা হলেও পরে সেটা চ‚ড়ান্ত করার দীঘর্ প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হয় না বললেই চলে। আর এ কারণেই দলীয় কোন্দল সামাল দেয়া যাচ্ছে না বলে মনে করেন ওই নেতারা।

আওয়ামী লীগের প্রথমসারির এক নেতা  বলেন, মারামারি বা অপরাধ করে রাজনৈতিক দলে কারও পদ গেছে, এর নজির কম। পদ যায় রাজনৈতিক কারণে। ওই নেতা বলেন, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, কাদের সিদ্দিকী ও মোস্তফা মহসীন মন্টুর মতো বড় অনেক নেতাকে দল থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। সেটা হয়েছে রাজনৈতিক কারণে। আর দলীয় নেতাকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত এবং কারাবন্দি টাঙ্গাইলের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান রানাকে জেলা আওয়ামী লীগ সাময়িক বহিষ্কার করেছে। তবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ তার বিরুদ্ধে কারণ দশাের্নার নোটিশ পাঠানো বা তদন্তের পথে হঁাটছে না; বরং মামলার চ‚ড়ান্ত রায় হওয়ার আগে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিকে নিবার্চনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে দ্ব›দ্ব-সংঘাত ও সহিংসতা ব্যাপক হারে বাড়লেও দলের শীষর্ নেতারা সেটা উদ্বেগজনক নয় বলে মন্তব্য করেছেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমÐলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, নিবার্চনের কারণে কিছু মারামারি হয়েছে। তবে সামনে কমে আসবে।

মারামারির ঘটনায় দল ব্যবস্থা নেয় নাÑ এমন অভিযোগ সম্পকের্ কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, ‘ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব পুলিশের। তারা সেটা করে। দলের লোক মারামারি করেছে, এটা পত্রপত্রিকা বলে। কিন্তু নিজেরা খুঁজতে গেলে পাওয়া যায় না। তাহলে দল কীভাবে ব্যবস্থা নেবে।

তবে আওয়ামী লীগের অপর একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, দল কঠোর নয় বলে ক্ষমতাসীন নেতারা অপরাধ করলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিষ্ক্রিয় থাকে। কোনো ঘটনা জাতীয়ভাবে আলোচিত হলেই কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইনি পদক্ষেপ নেয়। এ প্রসঙ্গে উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগ নেতা সাজ্জাদ আলম শেখ আজাদ হত্যার দীঘর্সময় পরও পুলিশ মামলা নেয়নি। কেননা, এই মামলায় ধমর্মন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের ছেলে মোহিত উর রহমান শান্তকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ধরনের আরও অনেক নজির রয়েছে বলে দাবি করেন ওই নেতা।

সবের্শষ গত ৮ অক্টোবর কুমিল্লায় চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় আলকরা ইউনিয়নের ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেনকে হাতুড়িপেটা করে হত্যা করা হয়েছে। একটি মামলায় সাক্ষী দিতে যাওয়ার সময় বাস থেকে নামিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ এই হত্যাকান্ডের জন্য আওয়ামী লীগেরই আরেক পক্ষকে দায়ী করছে।

এর আগে গত ৪ অক্টোবর নরসিংদী সদর উপজেলার চরাঞ্চল করিমপুরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের টেঁটাযুদ্ধে দুইজন নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। ১ অক্টোবর বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই গ্রপের সংঘষের্ দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী দিহিদার ও আওয়ামী লীগের কমীর্ শুকুর শেখ নিহত হন। ৩ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরে সালথায় আ’লীগের দুই পক্ষের সংঘষের্ সাখাওয়াত হোসেন ওরফে সাকু মুহুরির মৃত্যু হয়। ২৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজারের ইস্পাহানি মোড় এলাকার আওয়ামী লীগের দুই গ্রæপের সংঘষের্ মো. দিদার এক যুবক মারা যায়। একটি মাকেের্টর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা দিদারুল আলম মাসুম এবং স্থানীয় কাউন্সিলর এএফ কবির মানিকের সঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবুল হাসনাত বেলাল পক্ষের এই সংঘষের্র ঘটনা ঘটে। ৩১ আগস্ট রাতে সিলেটে ছুরিকাঘাতে এসএম আবদুল আহাদ নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে হত্যা করা হয়। জিন্দাবাজার এলাকার সিটি সেন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত এসএম আবদুল আহাদ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কুয়েত শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ১৫ আগস্ট কক্সবাজারের মহেশখালীর আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ উল্লাহর বিরুদ্ধে যুবলীগ নেতা জিয়াবুলকে খুন করার অভিযোগ ওঠে। ১ আগস্ট ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগের আহŸায়ক কমিটির সদস্য আজাদ শেখকে (৩৫) গুলি করে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার এক মাস পর আজাদ শেখের স্ত্রী দিলারা আক্তার বাদী হয়ে ধমর্মন্ত্রীর ছেলে ও ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহিতুর রহমান শান্তসহ ২৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। রাজধানীতে দুখু ও ফরহাদসহ বেশ কয়েকজন নেতাকমীর্ নিহত হয়েছেন অভ্যন্তরীণ দ্ব›েদ্বর জের ধরে। ১৫ জুন ডিশ ব্যবসায়ের নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন থেকে চঁাদাবাজি এবং ব্যক্তিগত দ্ব›েদ্বর জের ধরে উত্তর বাড্ডা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন খুন হন। গত ১ জুলাই গোপালগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান ওরফে টিটো শরীফকে খুন করা হয়। ৯ জুলাই ছুরিকাঘাতে নওগঁার ধামইরহাট উপজেলায় আড়ানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মশিউর রহমান বাবু খুন হন। অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে ৫ জুন চঁাদপুরের ফরিদগঞ্জে মহিলা আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শাহিনা সুলতানা ফেন্সিকে (৫৭) খুন করা হয়। ১৮ জুন নেত্রকোনা সদর উপজেলার মৌগাতি ইউনিয়নের ওয়াডর্ স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি হারেছ মিয়া এবং ১৩ মে যশোর জেলা তরুণ লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মনিরুল ইসলাম খুন হন।

উৎসঃ যায়যায়দিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ