প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঐক্য থেকে ছিটকে পড়লো দুই চৌধুরী

শাহানুজ্জামান টিটু : গত মাসের ২২ সেপ্টেম্বর মহানগর নাট্য মঞ্চে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে এক মঞ্চে হাজির হন ড. কামাল হোসেন ও বি. চৌধুরী। মঞ্চে দাঁড়িয়ে তারা একে অপরের হাতে হাত রেখে শপথ নেন কার্যকর গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এক যোগে কাজ করবেন। কিন্তু তা আর হলো না এক চৌধুরীর।

ঠিক ২১ দিনে মাথায় চূড়ান্ত ঘোষণার দিনক্ষণে বৃহত্তর ঐক্য থেকে নাটকীয় ভাবে ছিঁটকে পড়লেন বি. চৌধুরী ও মাহী বি. চৌধুরী বাপ বেটা। সঙ্গে ভেঙ্গে গেলো বাপ বেটার সংগঠন বিকল্পধারা। তবে এ নিয়ে খুব অবাক হননি রাজনৈতিক মহল। কারণ রাজনৈতিক অঙ্গণে বেশ কিছুদিন ধরে চাওর হচ্ছিল বাপ বেটা সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে। তাই চূড়ান্ত ঘোষণার আগেই বিদায় নিতে হলো দুই চৌধুরীকে।

ঘটনার শুরুটা এভাবে। গত শুক্রবার রাতে আ স ম রবের বাসায় ঐক্য প্রক্রিয়া যুক্তফ্রন্ট ও বিএনপির সমন্বয়ে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট গঠনে চ’ড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। বলা হয় শনিবার বিকাল ৫টার দিকে ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় দেয়া হবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। সেভাবেই চলর্ছিলো সব আয়োজনও। এজন্য দুপুরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন ঢেলে সাজানোর দাবিতে আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্তে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা ঠিক করতে ড. কামালের মতিঝিল অফিসে চলছিলো প্রস্তুতি সভা।

এ সময় দুই চৌধুরী ওই বৈঠকে না গিয়ে তারা দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে ড. কামালের বাসায় চলে যান। ততক্ষণে সংবাদ সম্মেলনের জন্য নির্ধারিত সময় তিনটার পরিবর্তন করে পাঁচটায় করা হয়। নির্ধারিত সময়ের প্রায় দ্ইু ঘন্টা আগে আসার কারণে তাদেরকে কেউ অর্ভ্যথনা জানাতে আসেনি। এতে বাপ বেটা গোসসা হয়ে ফিরে যান। শুধু ফিরেই যাননি এই অপমানে তারা সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে প্রেসকে জানান।

এবিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, পর্দার অন্তরালে বাপবেটার ভিন্ন খেলায় শেষ পর্যন্ত জাতীয় ঐক্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত দলগুলোর কাছে বিশ্বস্ততা হারান দুই চৌধুরী। জাতীয় ঐক্য নিয়ে তাদের দুই নেতার রহস্যজনক ভ’মিকা, তাদের কথাবার্তায় প্রশ্ন বিদ্ধ হন তারা।

এরই অংশ হিসেবে শনিবার দুপুরে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া প্লাটফর্মে বাপ ও ছেলেকে না রাখার সিদ্ধান্ত হয়। মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে সকাল ১০টা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকের এক নেতা জানান, বি. চৌধুরী ও মাহী বি. চৌধুরীর সঙ্গে সরকারের আঁতাত রয়েছে। রাজনৈতিকভাবে তাদের বিশ্বাস করা যায় না। এ কারণে তাদের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বাপ-বেটার ভূমিকা নিয়ে অনেক আগেই প্রশ্ন তুলেছিলেন এলডিপির সভাপতি কর্নেল অলি আহমেদ। মাহী বি. চৌধুরীর দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, আমরা তো ছেলের কাছে বিক্রি হয়ে যাই। যারা আজকে জাতীয় ঐক্য করছেন তাদের অনেকের ছেলের ভিওআইপি ব্যবসা আছে। ভিওআইপি ব্যবসা কার থেকে নিয়েছে? আওয়ামী লীগের কাছ থেকে।

সম্পাদনা : মাহবুব আলম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ