প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সংসদ নির্বাচনে ১৯২ আসনের প্রার্থীই আইন লঙ্ঘন করবে

সাইদ রিপন: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আসনভিত্তিক ভোটার তালিকা তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সম্প্রতি তৈরি তালিকা অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি ভোটার রয়েছে ঢাকা-১৯ আসনে। আসনটিতে ভোটার সংখ্যা ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৩০১ জন। এ জেলারই ঢাকা-৪ আসনের একজন প্রার্থী এমপি হবেন এক লাখ ২২ হাজার ৯৫৫টি ভোট পেলেই। এই দুই আসনে জয়ী প্রার্থীর মধ্যে বৈষম্য হবে দুই লাখ ৮৪ হাজার ২৫৮ ভোটের।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা ম্যানুয়েল অনুযায়ী, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ৪৪বি ধারা ৩ উপ-ধারায় বলা আছে, মনোনয়ন দেওয়া রাজনৈতিক দল থেকে পাওয়া খরচসহ কোনো প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয় ২৫ লাখ টাকার বেশি করতে পারবে না। নির্বাচনী ব্যয় ভোটার প্রতি নির্ধারিত হওয়ারও বিধান রয়েছে। সেই হিসাবে ভোটার প্রতি ৮ টাকা খরচের বিধান রাখা হয়। ভোটার প্রতি আট টাকার হিসাবে ঢাকা-১৯ আসনের প্রত্যেক প্রার্থীর খরচ হবে ৫৯ লাখ ৭৮ হাজার ৪০৮ টাকা। ফলে প্রার্থীর পক্ষে ২৫ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা সম্ভব নয়। সেই সঙ্গে যে সব আসনে তিন লাখ ১২ হাজার ৫০০-এর বেশি ভোটার রয়েছে, তাদের পক্ষেও ২৫ লাখ টাকার বিধান মানা সম্ভব হবে না। আর এই হিসাবে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৯২টির প্রার্থীর পক্ষেই নির্বাচনী আইন মানা সম্ভব হবে না। কারণ ১৯২টি আসনেই তিন লাখ ১২ হাজার ৫০০-এর বেশি ভোটার রয়েছে।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভোটার বৈষম্য থাকার কারণে নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাদের মত, ভোট বৈষ্যমের কারণে কোনো প্রার্থীর প্রচার ব্যয় বাড়বে, প্রচারের সুযোগ কম থাকবে, আবার কোনো প্রার্থীর ব্যয় কমবে, প্রচারের সুযোগ বাড়বে। এতে একপক্ষ সুবিধা পাবে, অন্যপক্ষ পিছিয়ে থাকবে।

চলতি বছরের ১ আগস্ট পর্যন্ত আসনভিত্তিক ভোটার তালিকা অনুযায়ী, দেশে ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০ জন। এই হিসাবে ৩০০ আসনে গড় ভোটার প্রায় তিন লাখ ৪৭ হাজার ৩০২ জন। ৩০০ আসনের মধ্যে দুই লাখের নীচে ভোটার রয়েছে এমন আসনের সংখ্যা মাত্র চারটি। পাঁচ লাখের বেশি ভোটার রয়েছে ১২টি আসনে। ১২টির মধ্যে তিনটি আসন (নোয়াখালী-৪, কুমিল্লা-১০ ও নারায়ণগঞ্জ-৪) পুনঃনির্ধারণের পরও এই বৈষম্য রয়ে গেছে।

যদিও দ্য ডেলিমিটেশন অব কনস্টিটুয়েন্সিস অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৬-এর ৬ নম্বর ধারার ২ উপ-ধারায় বলা আছে, প্রশাসনিক সুবিধা, আঞ্চলিক অখন্ডতা এবং জনসংখ্যার বিভাজনকে যতদূর সম্ভব বিবেচনায় রেখে প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনঃনির্ধারণ করতে হবে। তবে নির্বাচনী আসনে ভোটারের সমতা তৈরির ক্ষেত্রে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেছে ইসি। সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বাংলাদেশে সর্বশেষ আদমশুমারি হয়েছে ২০১১ সালে। বর্তমানে কোনো আদমশুমারি না থাকায় নির্বাচনী আসনে ভোটারের বিভাজন দূর করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেছেন, ভোটারের সমতা আইন অনুযায়ী তখনই করা যাবে যদি আদমশুমারি হয়। অন্য দুইটা জিনিস হলো প্রশাসনিক সুবিধা ও আঞ্চলিক অখন্ডতা। আমাদের দেখার ক্ষমতা ছিল আইন অনুযায়ী। সম্প্রতি আদমশুমারি না হওয়ায় এটি প্রযোজ্য করা সম্ভব হয়নি। প্রার্থীরা যাতে বেশি টাকা খরচ করতে না পারে এবং ভৌগোলিক কারণে ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, বৈষম্য দূর করা কমিশনের দায়িত্ব। বড় ধরনের বৈষম্য যেন না থাকে সেজন্যই সীমানা পুনঃনির্ধারণ করা দরকার। কিন্তু এবারও সেটা হয়নি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ