প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাদক বিরোধী অভিযানে ট্রেডিশনাল অপরাধ কমেছে

ইসমাঈল হুসাইন ইমু : আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মাদক বিরোধী অভিযানে বেশির ভাগ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতারের পাশাপাশি আত্মগোপনে চলে গেছে। ফলে রাজধানীতে চুরি ডাকাতি অপহরণ ও ছিনতাইয়ের মতো ট্রেডিশনাল অপরাধ অনেক কমে গেছে।

গত চারমাস আগেও প্রায় প্রতিদিনই রাজধানীতে ছিনতাইয়ের খবর পাওয়া গেলেও এখন চিত্র পাল্টে গেছে। গত চার মাসে ছিনতাইয়ের ঘটনা হাতে গোনা কয়েকটি। অবশ্য ছিনতাইয়ের শিকার ব্যক্তিদের অনেকে পুলিশী ঝামেলা এড়াতে মামলা করেন না।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বছরের প্রথম চার মাসে সারা দেশে ডাকাতির ঘটনায় মামলা হয়েছিল ৩২৩টি। মে মাসের শুরুতে মাদকবিরোধী অভিযানের পরবর্তী চার মাসে মামলার সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ২৬২টি। প্রথম চার মাসে মাদকের মামলা হয় ৩৫ হাজার ৪০৫টি। কিন্তু মাদক বিরোধ অভিযানের পর পরবর্তী চার মাসে মাদকের মামলা সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৩ হাজার ৪৭৪টি। এপ্রিলে যেখানে মাদকের মামলা ছিল ৯ হাজার ৬০১টি, সেখানে অভিযানের শুরুর মে মাসেই মামলা হয় ১৩ হাজার ৮০২টি। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পুলিশ অস্ত্র উদ্ধার করে ৬৯৩টি। মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত অস্ত্র উদ্ধারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৬৫টি।

তবে অভিযান শুরুর পর মামলার সংখ্যা বেড়েছে। প্রথম চার মাসে হত্যা মামলার সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২১২টি। কিন্তু পরবর্তী চার মাসে হত্যা মামলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৪৪৫টি। অন্যদিকে মোট মামলার সংখ্যা প্রথম চার মাসে ছিল ৭০ হাজার ৮৯১টি। কিন্তু পরবর্তী চার মাসে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ৮১ হাজার ৪১১টি।

এ ব্যাপারে ডিএমপির উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান, মাদকের সঙ্গে প্রায় সব ধরনের অপরাধেরই সংশ্লিষ্টতা আছে। ডাকাত ও ছিনতাইকারীদের অধিকাংশই মাদকসেবী। মাদক সেবন করার জন্য তারা চুরি ডাকাতি ও ছিনতাই করে থাকে। মাদকের ব্যাপারে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করায় ব্যবসায়ী ও সেবীরা গ্রেফতার হওয়ার পাশাপাশি আত্মগোপনে চলে গেছে। তাই চুরি ডাকাতির অপহরণ ও ছিনতাইয়ের মতো ট্রেডিশনাল অপরাধ অনেক কমে গেছে। মাদক পুরোপুরি নির্মূল করতে পারলে গতানুগতিক অপরাধ প্রায় জিরোতে নেমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ