প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশকে অনুদান প্রদানে বিশ্বব্যাংকের আহবান

সোহেল রহমান, বালি, ইন্দেনেশিয়া থেকে: রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যুতে বাংলাদেশকে প্রদেয় সকল আর্থিক সহায়তা অনুদান হিসেবে প্রদানের জন্য দাতাসংস্থাদের প্রতি আহবান জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।ইন্দোনেশিয়ার বালি-তে ‘আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-বিশ্বব্যাংক গ্রুপ-এর চলমান বার্ষিক সভায় বিভিন্ন দাতাসংস্থার সঙ্গে বৈঠকে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম এ আহবান জানান।

বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট-এর সঙ্গে শনিবার বালি’র ওয়েস্টিন হোটেলে অনুষ্ঠিত বৈঠকের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ঢাকার সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যেসব আলোচনা হয়েছে, এর সবই প্রায় রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে প্রদেয় সকল আর্থিক সহায়তা অনুদান হিসেবে দেয়ার জন্য সকল দাতাসংস্থার কাছে আহবান জানিয়েছেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পেছনে ২ বছরে প্রায় ১০০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। এ পর্যন্ত যে অর্থ পাওয়া গেছে এতে করে চলতি অর্থবছরে সরকারের তেমন একটা ব্যয় হবে না। তবে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, দাতাদের অনুদানে অন্তত দুই বছর রোহিঙ্গাদের ব্যয় নির্বাহ করা। তবে এর বাইরেও সরকারের কিছু ব্যয় হবে। দাতাদের অনুদানে দুটি বছর পার করা করা গেলে এরপর অতটা অসুবিধা হবে না।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বিশ্বব্যাংক কোন উদ্যোগ নেবে কি না কিংবা এ বিষয়ে কোন আলোচনা হয়েছে কি না’ -এ প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, তাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সময় এখনও আসেনি।

রোহিঙ্গা ইস্যু ছাড়া বিশ্বব্যাংকের কাছে ঋণ হিসেবে আরও ৪৫০ কোটি ডলার চাওয়ার বিষয়ে কোন অগ্রগতি হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বৈঠকে এ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং তারা আশ্বাস দিয়েছে। তবে আমার মনে হয় যে, এক্ষেত্রে ২০০ কোটি ডলারের বেশি পাওয়া যাবে না।

প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, আমরা কঠিন শর্তে (হার্ড টার্ম) ঋণ নেয়ার পক্ষে নই। এটা যতটুকু সম্ভব একটা সীমার মধ্যে রাখার চেষ্টা করছি।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ মোটামুটি ভাল অবস্থানে রয়েছে। তবে চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যিক যুদ্ধের একটা প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ বাংলাদেশ একদিকে চীন থেকে আমদানি করে এবং অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি করে। ফলে এর একটা প্রভাব তো পড়তেই পারে।

বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক ছাড়াও অর্থমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক, ডেভেলপমেন্ট কমিটি’র প্ল্যানারি বৈঠক, দাতাসংস্থা আইসিএসআইডি ও ডিএফআইডি’র প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন।

ডিএফআইডি’র সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ডিএফআইডি থেকে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।আগে যেখানে ডিএফআইডি’র সহায়তার পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৮ শতাংশ, এখন সেটা দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে।

জলবায়ু সংক্রান্ত বৈঠক প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জলবায়ূ সংক্রান্ত আন্দোলনের মূল সংগঠক হচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু বৈঠকে বাংলাদেশকে তেমন গুরুত্ব দেয়া হয়নি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ