প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মরুভূমিতে বৃষ্টিপাত বাড়াবে সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ

উল্লাস মূর্তজা : মরক্কো মরুভূমির প্রান্তে বায়ু বিদ্যুতের জন্যে টার্বাইন, সাহারা মরুভূমিতে প্রচুর সংখ্যক সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল এবং বায়ু বিদ্যুতের জন্যে টার্বাইন স্থাপন করায় সেখানকার বৃষ্টিপাত, গাছপালা এবং তাপমাত্রায় বড় প্রভাব ফেলবে- বলছেন গবেষকরা।

গবেষকরা দেখেছেন যে, বায়ু বিদ্যুতের টার্বাইন এই অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ দ্বিগুণ করে তুলতে পারে। বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশ পাওয়া একটি গবেষণাপত্রে তারা এমনটাই বলেছেন।

সৌর বিদ্যুৎ প্যানেলের একই ধরনের প্রভাব রয়েছে যদিও সেটি ভিন্নভাবে কাজ করবে। বিজ্ঞানীদের বক্তব্য যে, এই নবায়নযোগ্য শক্তির বৃহৎ পরিসওে ব্যবহার বৃদ্ধি এই সাহারা অঞ্চলের পরিবর্তন আনবে। তারা এই অঞ্চলটির প্রতি মনোযোগী হয়েছিলেন কেননা এই বিশাল জনবিরল অঞ্চল থেকে যে পরিমাণ সৌর শক্তি এবং বায়ু শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে পরিণত করা সম্ভব তা মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের প্রায় কাছাকাছি।

বিজ্ঞানীরা দেখার চেষ্টা করেছিলেন যে, কী হতে পারে যদি এই ৯ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার অঞ্চলকে সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল দিয়ে ঢেকে দেয়া যায়। সৌর বিদ্যুৎ প্যানেলের একইধরনের প্রভাব রয়েছে যদিও সেটি ভিন্নভাবে কাজ করবে।

গবেষকদের ধারণা, মরুভূমিতে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের জন্যে ব্যাপক পরিমাণে এসব স্থাপন করলে তা থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে তা বর্তমান সময়ের চারগুণ।

এর আগেও গবেষণায় দেখা গিয়েছিল যে, বায়ু বিদ্যুৎ ও সৌর বিদ্যুতের জন্যে স্থাপিত প্যানেল ও টার্বাইন প্রভাব ফেলে তাপমাত্রার ওপর।

এই গবেষণায় আরো প্রমাণ হয় যে এসব প্রভাব ফেলে উদ্ভিদের উপরেও। এই বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের প্রধান ড. ইয়ান লি বলেন, ‘আমাদের এই মডেল থেকে যে ফলাফল আমরা পাচ্ছি তাতে দেখা যায় যে, সাহারায় এইসব সৌর এবং বায়ু বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট বৃষ্টিপাত বাড়াবে, বিশেষ করে সাহল অঞ্চলে। ২০ মি.লি থেকে বেড়ে বাৎসরিক বৃষ্টিপাত হবে ৫০০ মিলিমিটার।”

ফলস্বরূপ গাছপালার বৃদ্ধিও হার বাড়াবে ২০%। গবেষণাটিতে দেখা যায়, সাহারার দক্ষিণের আধা শুষ্ক অঞ্চল সাহলের যেখানে বায়ু বিদ্যুতের প্লান্ট ছিল সেখানে প্রতিদিন ১.১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পেয়েছে।

কীভাবে টার্বাইন এবং সৌর প্যানেল বৃষ্টিপাত বাড়ায়?

বায়ু বিদ্যুতে টার্বাইনের পাখার ঘূর্ণন বায়ুম-লের উপরের গরম বাতাসকে মিশ্রিত করে। যার ফলে বাষ্পীভবনের সৃষ্টি হয়, বৃষ্টিপাত ঘটায় এবং গাছপালা জন্মাতে সাহায্য করে।

ড. লি বলেন, ‘বাতাসের ঘনত্ব বাড়ায় এই টার্বাইনের ঘূর্ণন এবং বায়ুকে নিম্নচাপ অঞ্চলে প্রবাহিত করে, আর এর ফলে বাতাস ঠা-া হয়, আর্দ্রতা বাড়ে এবং বৃষ্টিপাত বাড়ায়’।

গবেষণা রিপোর্টটি বলছে, সৌর প্যানেল মূলত : ভূ-ম-লে সূর্যের আলোর প্রতিফলন কমায়। এটি এলবেডো এফেক্ট হিসেবে পরিচিত। ইতিবাচক এলবেডো এফেক্ট ৫০ ভাগ বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি এবং গাছপালা জন্মাতে সাহায্য করে থাকে।

মানুষ কীভাবে উপকৃত হবে?

খুব ভালোভাবে, উপস্থাপন করেছেন গবেষকরা।

ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের ড. সাফা মোতেশারেই, যিনি এই গবেষণাপত্রের লেখকদের অন্যতম। তিনি বলেন, ‘এই মডেল যে ইঙ্গিত দিচ্ছে তাতে করে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধিতে এই অঞ্চলের কৃষিতে একটি টেকসই পরিবর্তন আনবে। উদ্ভিদে ও জন্ম গবাদি পশুর খাদ্য ঘাটতি মেটাবে, তাদের সংখ্যা বাড়াবে’ ।
তার মতে- সাহারা, সাহেল বা মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমি অঞ্চলগুলোতে প্রচুর পরিমাণে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বাস। আর সেখানে এমন পরিবর্তন স্থায়ী সমাধান দেবে একইসাথে বিদ্যুৎ, খাদ্য এবং পানির।

কিন্তু তাপমাত্রার বৃদ্ধিও জলবায়ু পরিবর্তনের জন্যে পরিবেশে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে তবে, গবেষণাপত্রটির লেখকরা বলছেন, ঐসব টার্বাইন এবং সৌর প্যানেলের থেকে সৃষ্ট তাপ খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না।

ড. লি বলছেন, গ্রিনহাউজ গ্যাসের কারণে বৃদ্ধি পাওয়া তাপমাত্রার তুলনায় এসব স্থানীয় বায়ু ও সৌর বিদ্যুৎ প্লান্টের দ্বারা সৃষ্ট উষ্ণতা একেবারেই কম।’

এই গবেষণা পত্রের লেখকরা পৃথিবীর অন্য প্রান্তের মরু অঞ্চলে একই ধরনের বিষয়ের প্রভাবের দিকে লক্ষ্য রেখেছিলেন। তারা দেখেছেন যে, অল্প পরিসরে সৌর প্যানেল এবং বায়ু বিদ্যুতের টার্বাইন প্রকৃতিতে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনা।

ড. লি এর মতে, বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের কর্মকা- বেশি কার্যকর হবে। তার মতে, সাধারণ মানুষ, নীতি নির্ধারক এবং বিনিয়োগকারীদের কাছে যেন এই গবেষণার মূল বার্তাটি পৌঁছায় । যাতে করে সৌর বিদ্যুৎ ও বায়ু বিদ্যুৎ এর প্লাান্টগুলি থেকে সমাজ, পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব আসে। সূত্র : বিবিসি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত