প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী লড়াইয়ের আহ্বান : নজরুল

শিমুল মাহমুদ : গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় নেতাকর্মীদের শক্তিশালী লড়াইয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারেক রহমানের ফরমায়েশি ও প্রতিহিংসামূলক সাজা বাতিল এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফোরামের আয়োজনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি একথা বলেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, আজকে ভাবতে খুব কষ্ট হয় যে, স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও ঠিক করতে পারলাম না নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হবে। স্বাধীনতা যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ মানুষ যারা জীবন দিয়েছে। কথায় কথায় যাদেরকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করি। তাদের আত্মা যে কষ্ট পাচ্ছে এটা বুঝি না।

তিনি বলেন, নেতাদের গ্রেফতার করে বা তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে যদি রাজনীতি বন্ধ করা যেত, লড়াই সংগ্রাম বন্ধ করা যেত। তাহলে দুনিয়াতে কোন পরিবর্তন হতো না। যতো স্বৈরাচার, কতো ফ্যাসিস্ট সরকার এই দুনিয়াতে এসেছে। তারা যদি এই রকম অত্যাচার, নির্যাতন করে টিকে যেতে পারতো। তাহলে কখনো কোথাও আর গণতন্ত্র ফিরে আসতো না। ইতিহাস বলে স্বৈরাচারি সরকার যতো ক্ষমতাবানই হোক তাকে জনগণের সামনে নত হতে হয়, পরাজিত হতে হয়। এই সরকারেরও পরাজয় অবশ্যম্ভাবী।

সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে যদি সত্যিই ধারণ করেন তাহলে তাহলে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা গণতন্ত্রকে অবাধে চলতে দিন। তাকে রুদ্ধ করার চেষ্টা করবেন না। কারণ যে কোন শাস্তির জন্য রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা প্রস্তুত থাকেন। শাস্তির পরিবেশ যেন না থাকে সেই জন্য লড়াই সংগ্রাম করেন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে নজরুল ইসলাম বলেন, আমি বিশ্বাস করি- আপনারা আগামী দিনে গণতন্ত্রের জন্য শক্তিশালী লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হবেন। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা এদেশে মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করব।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা সন্ত্রাসী দল হিসেবে বিএনপির নিবন্ধন বাতিলের বিষয়ে কথা বলেছেন। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার জন্য লন্ডনে আজকের প্রধানমন্ত্রীকে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তখন বলেছিলেন- না না, আমরা একটা রাজনৈতিক দল হয়ে আরেকটা দলকে কিভাবে নিষিদ্ধ করব।

তিনি বলেন, ২১ শে আগস্টের সময় বিএনপি ক্ষমতায় থাকায় সন্ত্রাসী দল হিসেবে বিএনপির যদি নিবন্ধন বাতিল হয় তাহলে বোমা হামলা শুরু হয়েছিল আওয়ামী লীগের সময়। তাদের সময় উদিচীর অনুষ্ঠানে রমনায় বোমা হামলা হয়েছিল। লগি বৈঠা দিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় পিটিয়ে পল্টনে মানুষ হত্যা করেছিল আওয়ামী লীগ। তাদের নিবন্ধন থাকে কিভাবে?

বিএনপির এই নেতা বলেন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে। কিন্তু রাজেন্দ্রপুরের এক গ্রামের মধ্যে বাসে আগুন দেয়া হয়েছে। সেই আগুন দেয়ার মামলায় তারেক রহমান আসামী হয়েছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে যখন আমরা গুলশান অফিসে অবোরুদ্ধ। তখন কুমিল্লায় একটি বাস পোড়ানো মামলায় আসামী হলেন খালেদা জিয়া। এখনো ওই মামলার আসামি হিসেবে জামিন না পেয়ে তিনি এখন জেলখানায় আছেন। লন্ডনে থেকে যদি রাজেন্দ্রপুরের গাড়ি পোড়ানো মামলার আসামী হতে হয়, আটক থেকে যদি কুমিল্লার গাড়ি পোড়ানো মামলায় আসামি হতে হয়।

তিনি বলেন, পুলিশ এসব গায়েবী মামলা করছে। আর সরকার তাতে উৎসাহ দিচ্ছে। যে কারণে এখন মামলা নিয়ে ইয়ার্কি করার সুযোগ পাচ্ছে। এই সরকারের দেয়া মামলার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার একটাই মাত্র সম্ভাবনা আছে। সেটা হল আন্দোলন। সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামতে হবে। এই সরকারের পতন ঘটাতে হবে।

সংগঠনের আহ্বায়ক আখতারুজ্জামান বাচ্চুর সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন – চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিক সুলতানা আহমেদ, জিনাফের সভাপতি লায়ন মিয়া মো. আনোয়ার প্রমুখ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত