প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তিনদিন ধরে গুঁড়ি গুঁড়ি টানা বৃষ্টিতে, রোহিঙ্গা শিবিরে দুর্ভোগ

ফরহাদ আমিন,টেকনাফ (কক্সবাজার): বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ গভীর নিম্নচাপের পরিণত হয়েছে।গত তিনদিন ধরে গুঁড়ি গুঁড়ি ও টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের চলাফেরা ও বিভিন্ন ধরনের দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। এতে করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পেগুলোতে অনেকেই পাহাড় ধ্বসের ঝুঁকির মুখে পড়েছেন।

গতকাল শুক্রবার বিকালে সরেজমিনে দেখা যায়, টানা বৃষ্টিতে টেকনাফের শালবনের রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রা বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে। ক্যাম্পের ভেতরে রাস্তাগুলো কাঁদা-পানিতে পিচ্ছিল হয়ে পড়েছে। আবার কোথাও কোথাও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের মধ্যে পাহাড়ধসে শঙ্কা রয়েছে। যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে, এতে পাহাড় ধসে আশঙ্কা রয়েছে।

লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নারী সানজিদা আক্তার বলেন, আমাদের পরিবারে চারজন সদস্যের রয়েছে। আমার স্বামী হারিয়ে দুঃখ কষ্টয়ে দিন কাটাচ্ছি। বৃষ্টি হলে কষ্ট বাড়ে, সঙ্গে পাহাড়ধসে শঙ্কায় থাকি। ঘরটি পলিথিনের, একটু বাতাস ও বৃষ্টি হলে চিন্তায় থাকি। এভাবে এক বছর পাড় করেছি, জানি না আর কতদিন এভাবে থাকতে হবে। টানা বৃষ্টি হলে পানি ঘরে ঢুকে মেঝে ভিজে গেলে রাতের বেলায় না ঘুমিয়ে বসে থাকতে হয়।।

শালবন ডি ব্লকের মাঝি ছৈয়দুর আমিন বলেন, বৃষ্টিতে ঢলের পানি সঙ্গে ময়লা কাঁদা-মাটি ও আবর্জনা মিশ্রিত পানি গতিতে নিচে নেমে আসে। পাহাড়ি ঢলের পানি, কাঁদামাটি ও টয়লেটের ময়লা একসঙ্গে মিশে ঢালু স্থান বেয়ে দ্রুত নিচে নেমে আসার কারণে নিচে থাকা রোহিঙ্গাদের দূভোর্গ পোহাতে হচ্ছে। এতে করে পানিবাহিত রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

টেকনাফের ইউএনও মো. রবিউল হাসান বলেন, টানা বৃষ্টি হলে রোহিঙ্গাদের ভোগান্তি বাড়ে। তবে ক্যাম্পগুলোতে কিছু কিছু ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে বলা হচ্ছে। সার্বক্ষনিক রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।